১৯ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দল থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার কোন সুযোগ থাকছে না

  • পৌরসভা নির্বাচনের খসড়া বিধিমালা চূড়ান্ত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন দলীয়ভিত্তিক হওয়ায় দলের কোন প্রার্থী বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন না। তবে কোন প্রার্থী ইচ্ছা করলে আগে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। দলের পক্ষে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সুযোগ থাকলেও প্রত্যাহার শেষে দলের মাত্র একজন প্রার্থীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হবে। দলের প্রধান বা সাধারণ সম্পাদকের ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটি প্রার্থীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিতে পারবে।

কমিশনের তৈরি খসড়া বিধিমালায় দল থেকে মনোনীত চূড়ান্ত প্রার্থীর অনুকূলে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। দল থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর বাকি প্রার্থীদের অবশ্যই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে হবে। তবে দলের কোন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাইলে অবশ্যই তাকে দলের বাইরে গিয়ে আগে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্টসংখ্যক ভোটারের স্বাক্ষর সংবলিত তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলভিত্তিক হওয়ার গেজেট প্রকাশের পর কমিশন থেকে তৈরি করা খসড়া বিধিমালায় এসব বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী দলের চূড়ান্ত প্রার্থীরা নিজের ছবির পাশাপাশি দলীয় প্রধানের ছবিও পোস্টারে ছাপাতে পারবেন।

দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদনের পরই কমিশন থেকে দলীয় ভিত্তিতে পৌরসভা নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। সোমবার এ বিষয়ক গেজেট হওয়ার পর বুধবার এসব বিধিমালা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কমিশনের যুগ্ম-সচিব জেসমিন টুলি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে নির্বাচন বিধিমালা, আচরণ বিধিমালা ও সমর্থন যাচাই বিষয়ক বিধিমালা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করবে ইসি।

পৌরসভা নির্বাচনের খসড়া বিধিমালায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিধান রাখা হলেও প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার ক্ষেত্রে মেয়র পদে ৪শ’ এবং কাউন্সিলর পদে ৫০ জন ভোটারের সমর্থনযুক্ত তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিধিমালা চূড়ান্ত করা হলে দলের কোন প্রার্থীর বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে।

এছাড়াও বিধিমালায় একজন মেয়র, একজন কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীর নির্বাচনের ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি পৌরসভায় একটি রাজনৈতিক দলের এক লাখ টাকা করে ব্যয়ের সুযোগ রেখে পৌরসভা নির্বাচন বিধিমালা সংশোধন করছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে কোন নিবন্ধিত দল পৌর নির্বাচনে মেয়র বা কাউন্সিলর পদে প্রার্থী দিলে সব মিলিয়ে প্রতি পৌরসভায় এক লাখ টাকার বেশি ব্যয় করতে পারবে না। কোন দল ভোটের খরচ মেটাতে অনুদান নিলে ২০ হাজার টাকার বেশি চেক নিতে পারবে না। দলের ক্ষেত্রে এসব বিধি লঙ্ঘন হলে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানারও বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া দলের পক্ষে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বিধিমালায় রাজনৈতিক দলের পক্ষে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কার্যনির্বাহক স্বাক্ষরিত এই মর্মে প্রত্যায়ন থাকতে হবে যে, প্রার্থীকে ওই দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ মেয়াদোত্তীর্ণ প্রায় আড়াই শ’ পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। পৌরসভা নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে এবারই প্রথমবারের মতো কোন স্থানীয় নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কমিশন জানিয়েছে, মধ্য নবেম্বর নাগাদ এসব পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) জাবেদ আলী বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, দলীয় ভিত্তিতে পৌরসভা নির্বাচনের বিধিমালা কমিশনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে বিধিমালা চূড়ান্ত হয়ে এলে পৌরসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ডিসেম্বরের ২০ থেকে ২৪ তারিখের মধ্যে পৌরসভা নির্বাচন করতে পারলে কমিশনের পক্ষে ভাল হবে। সব কাজ সম্পূর্ণ শেষ হলে আগামী সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, জানুয়ারির ২ তারিখ থেকে ভোটার তালিকার কাজ চলবে। ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা। তাই ডিসেম্বরেই নির্বাচন করতে হবে। এতে কোন কেন্দ্র স্থগিত হলেও ডিসেম্বরেই পুনরায় নির্বাচন করা যাবে। তিনি একদিনে সব পৌরসভায় নির্বাচন হবে বলে উল্লেখ করেন।

জাবেদ আলী বলেন, আগে নির্দলীয় নির্বাচনের সময় প্রার্থী শুধু নিজের ছবি পোস্টারে ছাপাতে পারতেন। নতুন বিধানে দলীয় প্রধানের ছবিও দিতে পারবেন। তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থী যাতে তার প্রচারের জন্য তিন সপ্তাহ সময় পান সেদিকে লক্ষ্য রেখেই তফসিল ঘোষণা করা হবে। এজন্য ৪০ থেকে ৪২ দিন সময় হাতে নিয়ে তফসিল ঘোষণার চেষ্টা চলছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য নামমাত্র কিছু ভোটারের স্বাক্ষর মনোনয়পত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এই মাত্রা পাওয়া