১৬ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিরিজে ফেবারিট নিউজিল্যান্ড

  • অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড প্রথম টেস্ট শুরু আজ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফরকারী দল ফেবারিট- ক্রিকেট ইতিহাসে এমনটা খুব কমই হয়েছে। সম্প্রতি এ্যাশেজ হারলেও র‌্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয়সেরা অসিরা, অন্যদিকে দশ দলের মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে নিউজিল্যান্ড। ক্রিকেটীয় সামর্থ্যরে পার্থক্য স্পষ্ট, তবু কেন কিউইরা ফেবারিট? আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের খোঁজ রাখা প্রত্যেকেই তা জানেন। এই অস্ট্রেলিয়া যে আগের সিরিজের অস্ট্রেলিয়া নয়। শেন ওয়াটসন, ব্র্যাড হ্যাডিন, ক্রিস রজার্স, রায়ান হ্যারিস- এ্যাশেজ শেষে অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কসহ এক যোগে অবসর নিয়েছেন এক ঝাঁক তারকা ক্রিকেটার! তরুণ স্টিভেন স্মিথের দলটি আনকোড়া, একেবারে নতুন। এই সিরিজ দিয়ে পরিপূর্ণভাবে স্মিথ-যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে দেশটির ক্রিকেট। অন্যদিকে গত কয়েক মৌসুমে ব্রেন্ডন ম্যাককুলামের নেতৃত্বে বিশ্ব অসাধারণ নিউজিল্যান্ডকেই দেখছে। এই অসিদের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেই খেলছে বিশ্বকাপের ফাইনাল। ব্যাটিং-বোলিং প্রতিটি পজিশনে রয়েছে পরীক্ষিত সব পারফর্মার।

সুতরাং ৩০ বছরের অপেক্ষা ঘোচানোর সেরা সুযোগ ম্যাককুলামদের সামনে। ১৯৮৫ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যে আর টেস্টে সিরিজ জেতা হয়নি তাদের। প্রতিবারই পরাজয় নিয়ে ফিরতে হয়েছে। ট্রান্স-তাসমান শত্রু অসিদের মাটিতে জয় পাওয়াটা যেন বিরল হয়ে পড়েছে কিউইদের জন্য। কিন্তু এবার অসি ভূমে কিউইরা ফেবারিট এবং এগিয়ে। স্মিথের অধীনে বর্তমান অনভিজ্ঞ দলটি এখন পর্যন্ত সম্মিলিতভাবে কোন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়নি। সেই পরীক্ষা শুরু। ব্রিসবেনে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু বাংলাদেশ সময় ভোর পাঁচটা থেকে। শুরু অস্ট্রেলিয়ার নতুন দলটির অগ্নিপরীক্ষা। স্মিথ ও তার সহকারী ডেভিড ওয়ার্নার ছাড়া বাকি ব্যাটস্যমানদের অভিজ্ঞতা আছে সম্মিলিতভাবে ২৯ টেস্ট খেলার। এর মধ্যে জো বার্নস (২), উসমান খাজা (৯), এডাম ভোগস (৭), পিটার নেভিল (৪) ও মিচেল মার্শ (৭) আগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও সেটা যৎসামান্য। খোদ অস্ট্রেলিয়া কোচ ড্যারেন লেহম্যান তাই প্রতিপক্ষ কিউদের ফেবারিট মানছেন, তিনি বলেছেন ৩০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে নিউজিল্যান্ডের এটাই সেরা সুযোগ!

মাইকেল ক্লার্কের বিদায়ে অস্ট্রেলিয়ার টপঅর্ডার ব্যাটিংয়ে তৈরি হয়েছে শূন্যতা। দুই বছর পর ফেরানো হয়েছে দেশটির প্রথম মুসলিম ক্রিকেটার উসমান খাজাকে। তাকে তিন নম্বর জায়গা ছেড়ে দিয়ে চারে নেমে যাবেন স্মিথ। অধিনায়ক নিজেই সেটি জানিয়ে দিয়েছেন। ওপেনিংয়ে মারকাটারি ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গী হবেন মাত্র দুই টেস্ট খেলা জো বার্নস। ব্যাটিংয়ের ভার বইতে হবে অধিনায়ক স্মিথ এবং সহ-অধিনায়ক ডেভিন ওয়ার্নারকে। লেহম্যান সেটিই চাইছেন, ‘এক ঝাঁক ক্রিকেটারের বিদায়ে আমাদের পুরো দলটাই নতুন। নেতৃত্বে, ব্যাট হাতে স্মিথ-ওয়ার্নারের যুগলবন্দী দেখতে মুখিয়ে আমি। উসমান খাজা, পিটার নেভিল, এ্যাডাম ভোগসরা ওদের কেমন সঙ্গ দেয়, সেটিও দেখার।’ যেখানে প্রতিপক্ষ দলে রয়েছেন দুই গতি তারকা টিম সাউদি আর ট্রেন্ট বোল্ট, সেখানে স্মিথদের জন্য এটা হবে সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ। তবে বোলিংয়ে পিটার সিডল বাদ পড়লেও ‘দুই মিচেল’ জনসন আর স্টার্কের সঙ্গে জস হ্যাজলউডকে নিয়ে স্বাগতিকদের বোলিং বেশ শক্তিশালী। ১৯৮৮ সালের পর থেকে ব্রিসবেনের এই মাঠে (গ্যাবায়) কখনও হারেনি অস্ট্রেলিয়া। সফল হতে তাই সত্যিই ইতিহাসটাকে ওলট-পালট করে দিতে হবে কিউইদের। তাতে অসিদের অনভিজ্ঞ দলটা সহায়ক ভূমিকাই রাখবে ব্ল্যাক ক্যাপসদের জন্য। কিউইরা ১৯৮৫ সালে সর্বশেষ গ্যাবায় জিতেছিল। আর সেবারই ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। তারপর এ মাঠে ৭ টেস্ট খেলে একটি মাত্র ড্র করতে পারলেও বাকি ৬ টেস্টে হেরেছে নিউজিল্যান্ড। ম্যাককুলামের অধীনে এবার ইতিহাস বদলের হাতছানি। এ পর্যন্ত সর্বশেষ ১৭ টেস্টে মাত্র ৩টিতে মাত্র হেরেছে মার্টিন ক্রোর উত্তরসূরিরা। ১৯৪৬ থেকে ২০১১ পর্যন্ত মোট ৫২ টেস্টে মুখোমুখি হয়ে ২৭ জয় অস্ট্রেলিয়ার। কিউইরা জিতেছে ৮। ১৭ ম্যাচ ড্র হয়।