১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

৬৬ বছর পর বরফ গলছে

  • চীন ও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট ঐতিহাসিক বৈঠকে বসছেন

চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং ও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট মা ইং জিউ শনিবার সিঙ্গাপুরে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হবেন। ১৯৪৯ সালের গৃহযুদ্ধের পর জাতীয়তাবাদীরা তাইওয়ানে পৃথক সরকার গঠনের পর তাইওয়ান প্রণালীর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী অংশের নেতাদের মধ্যে এটাই হবে প্রথম বৈঠক। খবর এএফপি ও নিউইয়র্ক টাইমস অনলাইনের।

বেজিংয়ে তাইওয়ান সম্পর্ক বিষয়ক অফিস থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, সিঙ্গাপুর জিয়ের সফরকালে দুই নেতা তাইওয়ান প্রণালীর উভয় পক্ষের দুদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে মতবিনিময় করবেন। সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে দুটি দেশেরই।

জিএ সফরে যাচ্ছেন দীর্ঘদিনের সফরসূচীর পর। তাইওয়ান এ্যাফেয়ার্স অফিস অব দ্য স্টেট কাউন্সিলের পরিচালক ঝাং ঝিজুন বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক পার্থক্য কমিয়ে আনার সুযোগ সৃষ্টির জন্য এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। চীন এক সংবাদে এ বৈঠককে এক মাইলফলক বলে অভিনন্দন জানিয়েছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মা ইং জিউ ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর বেজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়া হয়। চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানো মায়ের অন্যতম প্রধান নীতি হয়ে দাঁড়ায়। দুপক্ষের রাজনৈতিক বিভক্তি নিরসনে কোন অগ্রগতি না হলেও এ সময় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। মায়ের মুখপাত্র চার্লস চেন বলেছেন, দুই নেতার মধ্যে বৈঠকে কোন চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নেই। কোন যুক্ত বিবৃতিও দেবেন না তারা। চীনের তইওয়ান বিষয়ক অফিসের প্রধান ঝাং ঝিজুনের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জিনহুয়া জানায়, চীন ও তাইওয়ানের নেতাদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় ও যোগাযোগের সূত্রপাত ঘটাবে এ বৈঠক। ঝাং ঝিজুন বলেছেন, আমি মনে করি, এ বৈঠকের প্রতি তাইওয়ানের সকল স্তরের লোক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন থাকবে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রত্যাশিত ঐতিহাসিক এই বৈঠকটি উভয় প্রেসিডেন্টের জন্যই ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে।

আসছে ১৬ জানুয়ারি তাইওয়ানের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এ নির্বাচনের আগে তরুণদের মধ্যে চীনাবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। দ্বীপ নিয়ে বিরোধের জের ছাড়াও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য সম্পর্কের মাধ্যমেও তাইওয়ান তেমন লাভবান হবে না বলে মনে করছে তারা।

এ রকম একটি স্পর্শকাতর সময়েই চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মা।

মায়ের দফতর থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তাইওয়ান প্রণালীর উভয় পাশে বিরাজমান শান্তি ও মর্যাদাকে সংহত করাই প্রেসিডেন্টের বৈঠকের উদ্দেশ্য।

মা তার সর্বোচ্চ মেয়াদ শেষে প্রেসিডেন্ট হিসেব ক্ষমতা থেকে আগামী বছর সরে দাঁড়াচ্ছেন। মূল চীনের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য মা সরকারের সমালোচনা করছে অনেক তইওয়ানি। তাদের আশঙ্কা, চীন পরিণামে দ্বীপটির ওপর আরও ক্ষমতা প্রয়োগ করার জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্কের সুবিধে নেবে। মায়ের ক্ষমতায় আসার আগে দুই দেশের মধ্যে কখনও কোন আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত না হলেও ২৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তাদের মধ্যে। চুক্তিগুলো হচ্ছে মূলত বাণিজ্য, ট্রানজিট ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত।