১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শাহরুখ ইস্যুতে অবশেষে পিছু হটলেন বিজেপি নেতা

  • দেশে এখন চরম অসহিষ্ণুতা ॥ বলিউড বাদশাহ

ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদে সোমবার ৫০তম জন্মদিনে মুখ খোলায় বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানকে আক্রমণ শুরু করে বিজেপি ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। শাহরুখকে বিজেপির মহাসচিব কৈলাস বিজয়বর্গীয় মঙ্গলবার দেশদ্রোহী এবং সাধ্বী প্রাচী পাকিস্তানের এজেন্ট বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এ নিয়ে ভারতজুড়ে সমালোচনা শুরু হলে বুধবার নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে টুইট করে কৈলাস জানান, অমিতাভের পর বলিউডের জনপ্রিয়তম অভিনেতা শাহরুখ। ভারতে যদি অসহিষ্ণুতার পরিবেশ থাকত, তবে অমিতাভের পর শাহরুখ সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেতা হতে পারতেন না। কেউ কেউ আমার মঙ্গলবারের টুইটের ভুল ব্যাখ্যা করেছেন। কাউকে দুঃখ দেয়াটা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। ওই টুইট আমি ফিরিয়ে নিয়েছি। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা, ওয়ান ইন্ডিয়া ও টেলিগ্রাফের।

সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের খবর অনুযায়ী, দুটি টেলিভিশন চ্যানেল ইন্ডিয়া টুডে ও এনডিটিভিকে দেয়া সাক্ষাতকারে শাহরুখ বলেছিলেন, দেশে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে, চূড়ান্ত অসহিষ্ণুতা। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আর ক’দিনের মধ্যে অন্ধকার যুগে ফিরে যাব। অসহিষ্ণু হওয়াটা অত্যন্ত নির্বোধের কাজ। দেশপ্রেমী হওয়া সত্ত্বেও ধর্মীয় দিক থেকে অসহিষ্ণু হওয়া এবং ধর্মনিরপেক্ষ না হওয়া সবচেয়ে বড় অপরাধ। এমনকি অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদে পুরস্কার ফিরিয়ে দেয়া শিল্পী-সাহিত্যিক-চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের পাশে দাঁড়িয়ে শাহরুখ বলেন, যারা পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন, আমি তাদের সম্মান করি। প্রয়োজনে ‘প্রতীকী প্রতিবাদ’ হিসেবে পুরস্কার ফিরিয়ে দিতে আমিও দ্বিধা করব না। তবে আমার মনে হয় না আমাকে এমন কিছু করতে হবে। এরপরই বলিউড বাদশাহর বিরুদ্ধে খড়গ্হস্ত হন বিজেপি নেতৃত্ব। ফেসবুকে টিম অমিত শাহের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য কৈলাশ বলেছিলেন, শাহরুখ খান থাকেন ভারতে, কিন্তু তার মন পড়ে থাকে পাকিস্তানে। শাহরুখের ছবি এখানে কোটি কোটি রুপীর বাজার করে, অথচ ওর মনে হয় ভারতে অসহিষ্ণুতার পরিবেশ! এটা দেশদ্রোহ নয় তো কী? ভারত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হতে চলেছে আর পাকিস্তানসহ সবাই ভারতবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। ভারতে অসহিষ্ণুতার বাতাবরণ তৈরির ছক কষা হচ্ছে। শাহরুখের ‘অসহিষ্ণুতার রাগ’ পাকিস্তানসহ ভারতবিরোধীদের সুরে সুর মেলানো। ১৯৯৩ সালে যখন বিস্ফোরণে শতাধিক লোকের মৃত্যু হয়েছিল তখন শাহরুখ খান কোথায় ছিলেন? ২৬/১১’য় যখন মুম্বাই হামলা হয়েছিল তখন শাহরুখ কোথায় ছিলেন? আজ গোটা বিশ্ব ভারতের নেতৃত্বকে মেনে নিচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে অসহিষ্ণুতা বাড়ার কথা বলা মানে বিশ্বে ভারতকে খাটো করা। বিজয়বর্গীর এই টুইট নিয়ে সারাদেশে বিতর্কের ঝড় ওঠে। কংগ্রেস এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। দলীয় নেতার এহেন মন্তব্যের জন্য শাহরুখের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন কংগ্রেস নেতা দিগি¦জয় সিংহ। যদিও কৈলাশের এই মত বিজেপির নয় বলে জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নাইডু। এদিকে বিজয়বর্গীর রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার ১৯৯৩ সালে মুম্বাই বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সাঈদের সঙ্গে শাহরুখের তুলনা টেনে বিজেপি এমপি যোগী আদিত্যনাথের টুইটÑ শাহরুখ খান এবং সন্ত্রাসবাদী হাফিজ সাঈদ একই ভাষায় কথা বলেন। লোকে যদি শাহরুখ খানের সিনেমা দেখা বন্ধ করে তাহলে তাকে পথে বসতে হবে। এর আগে মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগরের এক সভায় শাহরুখকে পাকিস্তানের এজেন্ট বলে আক্রমণ করেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেত্রী সাধ্বী প্রাচী। তিনি বলেন, শাহরুখ হলেন পাকিস্তানের এজেন্ট। কারণ সেখানকার ভাবনাচিন্তাই তার মধ্যে প্রতিফলিত হয়। এমন মানুষের পাকিস্তানে যাওয়া উচিত।