০৫ নভেম্বর ২০১৫

দাপটে জিততে চান টাইগার কোচ হাতুরাসিংহে

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ জিম্বাবুইয়েকে অনেকটা দুর্বল দল হিসেবেই আখ্যা দিয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। কিন্তু বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ চন্দ্রিকা হাতুরাসিংহে তা ভাবতে রাজি নন। জিম্বাবুইয়েকে দুর্বল দল ভাবছেন না হাতুরাসিংহে। তবে সাকিবের মতোই কর্তৃত্ব দেখানোর কথা বলেছেন। যেভাবেই হোক কর্তৃত্ব করেই জেতার ইঙ্গিত দিলেন কোচ। বললেন, ‘সর্বশেষ সিরিজগুলোতে আমরা ডমিনেট করেই জিতেছি। কোন ম্যাচে হয় তো আমরা সাত উইকেটে বা আট উইকেটে জিতেছি।’ হাতুরাসিংহে এবারও সেই রকম কিছুই দল থেকে চান।

সাকিব যেমন বলেছেন, ‘ওদের সঙ্গে ভাল খেলেছি। এখনও আমাদের সেই চিন্তাই আছে। লক্ষ্য থাকবে যাতে চাপ প্রয়োগ করে খেলতে পারি। চ্যালেঞ্জটা দিন দিন পরিবর্তন হতে থাকে। ওদের সঙ্গে যেহেতু আমরা নিয়মিত ভাল খেলি, এই কারণে এবার তাদের সঙ্গে কর্তৃত্ব করে খেলতে চাই। যেভাবে বড় দল কোন ছোট দলের সঙ্গে খেলে।’

তবে হাতুরাসিংহে বলেছেন, ‘কোন আন্তর্জাতিক সিরিজই আমি হালকাভাবে নিতে পারি না। আমি জিম্বাবুইয়েকে অন্য দলের চেয়ে দুর্বল বা সহজ প্রতিপক্ষ ভাবছি না। কারণ, আমরা আমাদের জাতীয় দলের হয়ে একটি আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলতে যাচ্ছি। এই সিরিজে আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়েই খেলব এবং সিরিজটি আমরা সিরিয়াসলিই নিয়েছি।’

গত বছর জিম্বাবুইয়েকে টেস্ট ও ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। সেবার মাশরাফির নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশকে খুঁজে পাওয়া গেছে। যেখানে গতবছর অক্টোবরের আগে হারের গোলক ধাঁধাতে থাকতে হয়েছে বাংলাদেশকে, এরপরের সময়টা শুধু সুখেরই হয়েছে। সেই যে জিম্বাবুইয়েকে টেস্টে ৩-০ ও ওয়ানডেতে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ, এরপর শুধু সাফল্যই মিলেছে। বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা। পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকাকে সিরিজে হারিয়ে দেয়া। সুখের দিনই যাচ্ছে। এখন তাই বাংলাদেশ দল ও দলের ক্রিকেটারদের মাইন্ড সেটেও পরিবর্তন এসেছে। তাই বোঝাতে চাইলেন হাতুরাসিংহে, ‘গতবারের (জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে গত বছরের সিরিজ) চেয়ে এবারের ‘মাইন্ড সেট’টা পুরো আলাদা। এটাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। গতবার ছেলেরা তাদের সামর্থ্য সম্পর্কে অবগত ছিল না। এবার তারা সেটা জানে। দলের সবাইকে এটা বিশ্বাস করতে হবে। মাইন্ড সেটটা বিরাট বিষয়। আমাদের পারফর্মেন্সেও এর প্রভাব পড়ে। আশা করি এই সিরিজে সেটা হবে।’

এখন জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে অনেক প্রতিযোগিতা। কোন ক্রিকেটার ভাল না খেললেই আরেকজন স্থান করে নেন। এটাকে উপভোগই করছেন হাতুরাসিংহে, ‘খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক যে প্রতিযোগিতা হয়, সেটা ভালই। এটাকে আমি স্বাস্থ্যকরই বলব। কারণ খেলোয়াড়রা জানে যে, তাদের পারফর্ম করতে হবে। খেলোয়াড়রা সব সময়ই চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যায়। দলে যারা আসছে, তারাও তাদের কাজ করতে সক্ষম। সব মিলিয়ে আমি মনে করি, আমাদের দলের যে অবস্থা তা বেশ ভাল।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমাদের দলের মধ্যে কোন ধরনের আত্মপ্রসাদ নেই। সবাই জানে যে, তারা তাদের জাতীয় দলের জন্য খেলছে। একটু আগেই বললাম যে, দলে এখন অনেক প্রতিযোগিতা। সুতরাং যে জাতীয় দলে খেলাকে হালকাভাবে নেবে, বিপদে পড়ে যাবে।’ সিরিজ আসলেই জাতীয় দলে চমক থাকে। নতুন কোন পেসারকে আনা হয়। সেই পেসারকে দিয়ে প্রতিপক্ষকে তছনছ করে দেয়া হয়। এবার যেমন কামরুল ইসলাম রাব্বিকে জাতীয় দলে সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। হাতুরাসিংহে এ পেসারকে নিয়ে বলেন, ‘আমি রাব্বিকে কোন চাপ দিচ্ছি না। সে তার যোগ্যতা দেখিয়েই দলে ঢুকেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ খেলেছে সে।’

অবশ্য ডেঙ্গু জ্বর থেকে মুক্ত হয়ে এখন অনুশীলন করলেও সিরিজে খেলা নিয়ে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফিকে নিয়ে চিন্তা আছে। তা বলেও দিলেন হাতুরাসিংহে, ‘মাশরাফি সুস্থ হয়ে উঠছে। এখনও শতভাগ সুস্থ নয়। সে অনুশীলন ম্যাচ খেলবে। ফিটনেস প্রমাণ করেই তাকে দলে আসতে হবে। অনুশীলন ম্যাচের পর আমরা দল নিয়ে চিন্তা করব।’

সম্প্রতি জিম্বাবুইয়ে হেরেছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ওয়ানডে ও টি২০ সিরিজ হেরেছে। তাই জিম্বাবুইয়ে দুর্বল দলই। এরপরও প্রতিপক্ষকে নিয়ে যে কোন দলেরই ভাবনা থাকে। বিশেষ করে বাংলাদেশ যেহেতু স্পিনে শক্তিশালী এবং জিম্বাবুইয়েও বাংলাদেশের স্পিনের কাছেই বার বার নত হয়, তাই এ বিভাগ নিয়ে নিশ্চয়ই হাতুরাসিংহের ভাবনা আছে। কিন্তু কোচ এখনও ভাবতে নারাজ, ‘আমরা প্রতিপক্ষের সীমাবদ্ধতা দেখে আক্রমণ (বোলিং) সাজিয়ে এসেছি। প্রতিপক্ষকে দেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নেবে স্পিন আক্রমণটা বেশি থাকবে নাকি পেস। স্পিন এবং পেস দুই বিভাগেই আমরা শক্তিশালী। এছাড়া উইকেট কেমন হয়, সেটাও একটা বিষয়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, আশা করি আমরা ভাল কিছুই করব।’

সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস সম্প্রতি ‘এ’ দলের হয়ে খেলেছেন। কিন্তু সৌম্য আহামরি কিছুই করতে পারেননি। হাতুরাসিংহে চিন্তিত নন, ‘ওদের নিয়ে আমার কোন দুশ্চিন্তা নেই। ওরা বিশ্বমানের ক্রিকেটার। আমি আবার বলছি, ওরা বিশ্বমানের ক্রিকেটার। আপনি হয় তো তাদের ভাল খেলতে দেখেছেন। তারা তা সামনেও পারবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্রিকেটারদের এমন সময় আসে। তারা অনেক তরুণ। তাদের সম্ভাবনা আছে। তারা আগে যেভাবে খেলেছে, সেভাবে আবার খেলবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।’ হাতুরাসিংহের বিশ্বাস প্রমাণ হয়ে গেলেই হয়। তাহলেই জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে এবারও কর্তৃত্ব করেই জিততে পারবে বাংলাদেশ।