১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

২১৬ একর জমি বেদখল

  • যশোর জেলা পরিষদ

সাজেদ রহমান, যশোর অফিস ॥ যশোর জেলা পরিষদের মালকানাধীন হাজার দুই ৪৯ দশমিক ৫২ একর জমির মধ্যে ২১৬ একর জমি বেদখল হয়ে গেছে। অবৈধ দখল জমির মধ্যে যশোরের আট উপজেলার বিভিন্ন সড়ক মহাসড়ক ও বাজার মোড় পরিত্যক্ত প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি রয়েছে। সাধারণ জনগণ ছাড়া রাজনৈতিক নেতাকর্মীও ওই দখলের সঙ্গে জড়িত। বার বার নোটিস মামলার পরও জমির দখল ছাড়ছে না জড়িতরা।

এদিকে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন সম্পত্তির ৮০ শতাংশ সেটেলমেন্ট সড়ক ও জনপথের নামে রেকর্ড করে দিয়ে বিড়ম্বনায় ফেলেছে। এ ঘটনার পর এক হাজার ২৭৮টি মামলা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ থেকে আট একরের মতো রেকর্ড ফিরিয়েছে জেলা পরিষদ। এরপরও বিশাল হিসেবের জমি অন্যের প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ড ও অবৈধ দখলদারদের হাতে থাকা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

যশোর জেলা পরিষদের বিশাল পরিমাণের জমি দীর্ঘদিন অবৈধ দখলদারদের হাতে রয়েছে। যেসব সম্পত্তি উদ্ধার হলে সরকারী এ প্রতিষ্ঠানটি তৃণমূল পর্যায়ে আরও সেবা বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারত। নানা প্রতিবন্ধকতা, রাজনৈতিক অপতৎপরতা ও পাল্টা মামলা ঠুকে দেয়ার কারণে জেলা পরিষদের জমি উদ্ধারে গতি আসছে না। জেলা পরিষদের পক্ষে ২০১১ সাল থেকে জমি উদ্ধারে জোরালো ভূমিকা নেয়া হয়। দুই হাজার ৪৯ দশমিক ৫২ একর জমির মধ্যে অবৈধ দখলদারদের হাতে ২২৫ দশমিক ৫৭ একর জমি আয়ত্বে আনতে নিরলস চেষ্টা চলছে।

জেলা পরিষদের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা মহল বিশেষ ওই জমির বিশেষ অংশ দখলে রেখেছে। কেউ সরকারী জমিতে গড়ে তুলেছেন বহুতল ভবন, কেউ নিজের দখলকৃত জমি অন্যের কাছে ভাড়া দিয়ে অর্থ আদায় করে চলেছেন। জেলা পরিষদের জমি নিজের দখলে নিয়ে জমিদার সেজে অনেকে চলছেন ঠাঁটে-বাটে। আর তার ওপর আবার ‘খাড়ার ঘা’ দিয়েছে সেটেলমেন্ট বিভাগ। সরকারের দায়িত্বশীল অপর বিভাগ জেলা পরিষদের প্রায় ৮০ শতাংশ জমি খামখেয়ালিপনা করে রোডস্ এ্যান্ড হাইওয়ের নামে রেকর্ড করে দেয়ায় জেলা পরিষদ বিশাল জটিলতায় পড়েছে। প্রায় এক হাজার ৬শ’ একর জমি সড়ক ও জনপথের নামে রেকর্ড হয়ে যাওয়ায় তা ফিরিয়ে আনতে জেলা পরিষদের কর্মকর্তা কর্মচারী ও সার্ভেয়ার মাঠ পর্যায়ে কাজ করে চলেছে। মামলা করে ১৬শ’ একর জমির মধ্যে ৮শ’ একর উদ্ধার করেছে। আরও ৮শ’ একর জমি সড়ক ও জনপথের নামে এখনও রেকর্ড রয়েছে। আর বাকি জমির রেকর্ড উদ্ধারে আরও কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। সড়ক ও জনপথ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা লোকজন, সাধারণ মানুষ ও প্রভাবশালী মিলে এখনও ১হাজার ১৭২ ছত্রছায়ার ৫০ একর জমি বিরোধীয় হিসেবে রয়েছে। জেলা পরিষদের খাতায় ফাঁকা দেখালেও অনেক জমি অন্যের দখলে সেখানে স্থাপনাও রয়েছে এমন উদাহরণও আছে। সম্প্রতি যশোর খুলনা সড়কে জেলা পরিষদের জমিতে অবৈধ স্থাপনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে একটি মহল। জেলা পরিষদের নোটিস গেলেও ওই মহলটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে যথেচ্ছা করছে। যশোরের নাভারণ-সাতক্ষীরা মোড়ে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। জেলা পরিষদের সূত্র জানিয়েছে, সেটেলমেন্ট অবহেলার কারণে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন যে জমি সড়কের নামে রেকর্ড হয়ে গেছে তা উদ্ধারে আইনী লড়াই চলমান রয়েছে। এসব ঘটনায় মোট ১২শ’ ৭৮টি মামলা হয়েছে। ৮শ’ একর সম্পত্তির রেকর্ড উদ্ধারের পর আরও ৬৪টি মামলা নিষ্পত্তির পথে।