২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘প্রশাসন ও রাজনীতিতে জঙ্গীবাদের ভূত’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ লেখক-প্রকাশক হত্যা ও হামলার প্রতিবাদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে গণজাগরণ মঞ্চের কফিন মিছিল পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাবের পাশে সচিবালয়ের পশ্চিম গেইটে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়ায় সেখানে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন মঞ্চের কর্মীরা। এরপর পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্বারকলিপি দেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে শাহবাগ থেকে এই কফিন মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য ও দোয়েল চত্বর হয়ে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। নিহত ব্লগার ও প্রকাশক হত্যার প্রতিবাদে এ সময় ছয়টি প্রতীকী কফিন বহন করছিলেন তারা। তাদের এ কর্মসূচী ঘিরে হাইকোর্ট মাজার এলাকা থেকে সচিবালয় পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পুলিশি বাঁধার পর গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, একের পর এক হত্যা ও হামলার ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে দাবি করা হচ্ছে। আমাদের বক্তব্য হলো, এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে হালকা করে দেয়া হয়। দায় এড়ানো ও চাপানোর সংস্কৃতি জঙ্গীদের উৎসাহিত করছে এমন মন্তব্য করে ইমরান বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে এই হামলা মুক্তিবুদ্ধি চর্চার মানুষের বিশ্বাস ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। হামলাকারীরা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান বানাতে চায়।

শুক্রবার শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে বিকেল তিনটায় মুক্তচিন্তার সংহতি সমাবেশে সকলকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যখন হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর হওয়া দারকার তখন সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু লোক দেশের অর্জনকে নষ্ট করতে ও শৃঙ্খলা বহির্ভূত কাজ করছে। তারা অপশক্তির বিরুদ্ধের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হতে দিচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সরকার কেন জঙ্গিদের ব্যাপারে উদার?।

জঙ্গি দমনে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান সরকার বলেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আমরা বরাবরই সম্মিলিত অপারেশনের কথা বলে আসছি। প্রয়োজনে পৃথক বাহিনী গঠন করে জঙ্গিদের মোকাবেলায় কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তিনি।

ইমরান বলেন, যারা দেশকে রক্ষা করে, দেশের জন্য কাজ করে তাদের আন্দোলন থামিয়ে দেয় সরকার। তাদের প্রতিহত করে। যারা দেশবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত তাদের কিছু বলেনা। এটা হতে পারে না। প্রশাসন ও রাজনীতির মধ্য জঙ্গীদের ভূত আছে এমন মন্তব্য করে ইমরান বলেন, ভূত তাড়াতে হবে। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ সকল পক্ষ থেকে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে। তবেই দেশবাসী আপনাদের পাশে থাকবে।

কর্মসূচীতে পুলিশি বাঁধার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আজকের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে পুলিশ বাঁধা দিয়েছে। মনে রাখতে হবে চলমান এই হামলা শুধু মুক্তচিন্তার মানুষদের বিরুদ্ধেই নয়। পুলিশও লক্ষস্তুতে পরিণত হয়েছে। ২০১৩ সালে পুলিশের ওপর হামলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী। এরপর একের পর এক হামলা। তখন দেশবোসী মৌলবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। জঙ্গিবাদ দমনে যারা পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছে তারা এসব হত্যার জন্য দায়ী এমন মন্তব্য করে ইমরান আরো বলেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান হামলায় মিলিটারী, পুলিশ থেকে শুরু করে উগ্রপন্থিরা কাউকে ক্ষমা করবে না।

তাই আর বিভাজন নয়, সকলে এক কাতারে প্রতিরোধে সামিল হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা রুখে দাঁড়ানোর জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।