২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে চীনের মহাপরিকল্পনা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ এবার ভোক্তাব্যয় ও ভোগ্যপণ্যের বাজার চাহিদা বাড়ানোসহ নানা পরিকল্পনা করছে চীন। পাশাপাশি নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন বাড়াতে বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়াতে চাইছে তারা। অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এসব পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। তবে, রপ্তানি বাড়াতে দেশের বাইরে যৌথ অংশীদারিত্বমূলক ব্যবসার সম্প্রসারণ প্রয়োজন বলে মনে করছেন চীনা অর্থনীতিবিদরা।

গত বছরের নভেম্বরের পর থেকে এখনো পর্যন্ত ৬ দফায় ব্যাংক ঋণে সুদের হার কমিয়েছে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ইউয়ানের মান কমানোসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা কর্মসূচিও নিয়েছে দেশটি। এরপরেও চলতি বছরের কোনো প্রান্তিকেই ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারেনি চীন। উল্টো গত অক্টোবরে কমেছে ক্রয় উৎপাদনশীল খাতের কার্যক্রম। মূলত বিশ্ববাজারে চীনা পণ্যের চাহিদা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি কমে যাওয়াকেই এজন্য দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।

এমন পরিস্থিতিতে অর্থনীতির গতি বাড়াতে ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৫ বছর মেয়াদী বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে চীন। এতে ভোক্তাব্যয় ও ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়াতে চাইছে দেশটি। সম্প্রতি শেষ হওয়া পঞ্চম অধিবেশন শেষে এমন কথা জানিয়েছে কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার কেন্দ্রীয় কমিটি।

চীনের রসদ ও ক্রয় সংক্রান্ত সংস্থার সহ সভাপতি কাই জিন বলেন, 'সাধারণ ছুটির দিনগুলোতে আর কোথাও বেড়াতে গেলে ভোক্তাব্যয় ও ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই জনগণের মাঝে অবসরযাপন ও ভ্রমণের প্রবণতা বাড়াতে হবে। আর এই ব্যয় আর্থিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি জনগণের আয় ও জীবনযাত্রার মান উন্নীত করতে সহায়তা করে। যা গোটা অর্থনীতিকেই চক্রাকারে সমৃদ্ধ করতে পারে।'

রপ্তানি ও ভোক্তাব্যয়ের হার বাড়ানোর সাথে গৃহীত পরিকল্পনায় এবারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও পাশে চাইছে চীন। আর উন্নয়নের অংশীদার হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউরোপের শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ- জার্মানি।

জার্মান ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংগঠনের সভাপতি উইনফ্রেইড বোস্টেলম্যান বলেন, 'দেখুন, বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় চীনের প্রবৃদ্ধির গতি বেশ ভালো। যেমন জার্মানিতে প্রতি বছরে গড়ে প্রবৃদ্ধি হয় এক দশমিক ৫ থেকে ৭ শতাংশ। অথচ তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক নয় শতাংশ। আর চীনে বিনিয়োগ করা জার্মান প্রতিষ্ঠানগুলোও এতে বেশ সন্তুষ্ট।'

এদিকে, দেশের বাইরে ব্যবসা সম্প্রসারণে কৌশলী হওয়ার কথা বলছেন চীনা অর্থনীতিবিদরা।

চীনের জাতীয় তথ্যকেন্দ্রের প্রধান অর্থনীতিবিদ জো বাওলিয়াং বলেন, 'চীনে আরো শিল্প কারখানা স্থাপনে অবশ্যই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী অবশ্যই প্রয়োজন। তবে দেশের বাইরে বাড়াতে হবে যৌথ অংশীদারিত্বমূলক ব্যবসা। যা আমাদের উৎপাদিত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে সাহায্য করবে।'

এছাড়াও কারখানায় উৎপাদনের হার, যোগাযোগ এবং আবাসন খাতের উন্নয়ন জরুরি বলেও মনে করছেন তারা।