২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মিটারেও নৈরাজ্য!

সিএনজিচালিত অটোরিক্সায় মিটার বসিয়েও ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্যকর অবস্থা এবং যাত্রী সাধারণের বিড়ম্বনা কমছে না কিছুতেই। বরং কিছু ক্ষেত্রে আরও বেড়েছে। সম্প্রতি গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রেক্ষিতে নবেম্বর থেকে অটোরিক্সা ভাড়া বাড়ানো হয় রাজধানীতে। বিআরটিএ তথা সরকারী পক্ষের উপস্থিতিতেই গ্যাসের দামের দোহাই দিয়ে ভাড়া বাড়ানো হয় অনেক বেশি, যা কার্যকর করা হয় মিটারে বৈধতা দিয়ে। অটোরিক্সায় নাম-কা-ওয়াস্তে মিটার বরাবরই ছিল ও আছে। তার বাস্তবতা হলো, কোনকালেই তারা মিটারের ভাড়ায় যেতে চাইত না, যাত্রীদের কাক্সিক্ষত গন্তব্যে তো নয়ই। যা হোক, বহু দেনদরবার ও সীমাহীন ভোগান্তির পর মিটারে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে এ বিষয়েও সব পক্ষ একমত হয় যে, এখন থেকে যাত্রীদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে বাধ্য থাকতে হবে এবং যেতে হবে মিটার নির্ধারিত ভাড়ায়। নবনির্ধারিত ভাড়ায় মালিকপক্ষ ও অটোচালকরা খুশি থাকলেও যাত্রীসাধারণের খুশি হওয়ার উপায় নেই। কেননা, দিনযাপনের অশেষ গ্লানিতে বাড়তি ভাড়া যোগ করেছে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। এও না হয় মেনে নেয়া যেত যদি মিটারচালিত অটোরিক্সা পাওয়া সহজসাধ্য এবং নির্ধারিত ভাড়ায় পাওয়া যেত।

তবে বাস্তবতা সর্বদাই ভিন্ন কথা বলে। দিনক্ষণ দেখে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মতি ও সমঝোতার ভিত্তিতে অটোরিক্সা চালু হতে না হতেই দেখা দিল নতুন উৎপাত। সেই পুরনো বিড়ম্বনা, সর্বোপরি ভোগান্তি। মিটারে চলতে রাজি হলেও অধিকাংশ অটোচালক মিটার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি দাবি করছে যাত্রীদের কাছ থেকে। চালকদের দাবি, মালিক তাদের কাছ থেকে গাড়ির জমা বেশি রাখছে। সুতরাং বাড়তি টাকা তো তাদের আদায় করতে হবে যাত্রীদের কাছ থেকেই। অন্যদিকে যাত্রীর পছন্দের গন্তব্যেও তারা যেতে নারাজ, নিকট দূরত্বে তো নয়ই। বিআরটিএ পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠ পর্যায়ে এর অসংখ্য প্রমাণও পেয়েছে হাতেনাতে। বেশ কিছু অটোরিক্সা আটকের খবরও আছে। সব মিলিয়ে যেন থোর বড়ি খাঁড়া এবং খাঁড়া বড়ি থোর অবস্থা। এই প্রেক্ষাপটে যাত্রী কল্যাণ সমিতির অভিযোগ, মিটার চালু রেখে চলাচল করলেও অধিকাংশ অটোরিক্সা যাতায়াত করছে গোপন চুক্তির ভিত্তিতে। সরকার নির্ধারিত দৈনিক জমা ৯০০ টাকার স্থলে প্রায় দ্বিগুণ জমা চালকদের কাছ থেকেও আদায় করছেন অটোরিক্সা মালিকরা। সর্বোপরি, ৯২ শতাংশ যাত্রীর অভিযোগ, অটোচালক যাত্রীদের ইচ্ছামাফিক গন্তব্যে যেতে রাজি হচ্ছে না। তাহলে এত কাঠখড় পুড়িয়ে, এত কথা চালাচালি করে কী হলো, কার লাভ হলো, কার হলো ক্ষতি? শেষ পর্যন্ত তো জিম্মি হতে হলো যাত্রীসাধারণকেই।

দেশে বিশেষ করে রাজধানীতে গণপরিবহনের বিড়ম্বনা ও নৈরাজ্য নিয়ে নতুন করে বলার অবকাশ নেই। এর সঙ্গে বাড়তি পাওনা ভাঙ্গাচোরা, বিধ্বস্ত রাস্তাঘাট, অসহনীয় যানজট, জলজট, জনজট। ছোট বড় যে কোন পাবলিক বাসে বিশেষ করে অফিস টাইমের শুরু ও শেষে উঠতে হয় রীতিমতো কুস্তি লড়াই করে। যথাসময়ে গন্তব্যে তথা অফিসে পৌঁছানোর আদৌ কোন নিশ্চয়তা নেই। এ অবস্থায় নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত অর্থাৎ যাদের নিজস্ব যানবাহন নেই, তাদের কেবল ভরসা ট্যাক্সি ক্যাব ও অটোরিক্সা। ট্যাক্সি তো রীতিমতো সোনার হরিণ, ভাড়াও আকাশচুম্বী। শেষ ভরসা হিসেবে সিএনজি অটোরিক্সাও চলে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ আনুষ্ঠানিক তৎরপরতা আরও বাড়াতে হবে।