১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্কুল মাঠে সবজির হাট

  • পাঠদানে বিভ্রাট ॥ কমছে শিক্ষার্থী

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ স্কুলের চারপাশ ঘিরে সবজির হাট। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতা ও পাইকারদের আনাগোনা, হৈ চৈ। ট্রাক আর ভটভটির উচ্চ শব্দ। স্কুল প্রবেশদ্বারও ফাঁকা নেই। সবখানেই সবজি আর সবজি। এরই মধ্যে প্রতিনিয়ত ক্লাস করতে হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীদের।

দরজা-জানালা বন্ধ করে ক্লাসে বসা ছাড়া উপায় নেই। বাইরে বের হতে পারে না তারা। খেলাধুলা আর স্কুল এসেম্বলিও হয় না। পুরো খেলার মাঠ আর স্কুলের বারান্দা পর্যন্ত সবজি বিক্রেতাদের দখলে থাকায় এ অবস্থা। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এরই মধ্যে স্কুলে প্রবেশের পথে ট্রাকের সঙ্গে মাথাও ফেটেছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর। এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়লেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

জানা গেছে, স্কুল মাঠটি লিজ দেয়ায় সবজি বিক্রেতাদের কথাই মেনে চলতে হয়। স্কুলের শিক্ষকরাও এ নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য করতে ভয় পান। ফলে হাটের মধ্যেই কোন রকমে স্কুলের পাঠদানের পাঠ চুকিয়ে বাড়ি ফেরেন তারা। বছরের পর বছর ধরে এ অবস্থা চলে আসছে রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি কুঠিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অন্য সময় আনাগোনা কম হলেও শীতের সবজি মৌসুমে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দাপাদাপি বেড়ে যায়। শিক্ষার্থীরা জানায়, সবজি বিক্রেতারা স্কুলের ক্লাসরুমের চারপাশে মলমূত্র ত্যাগ করেন। ফলে দুর্গন্ধে তাদের ক্লাসে টেকা দায় হয়ে পড়ে। তারা স্কুলের মাঠ ব্যবহার করতে পারেন না। স্কুলের শিক্ষকরাও চুপচাপ থাকেন। তারা জানান, তাদের জন্য কেউ কিছু বলেন না। দুই মাস আগে স্কুলে প্রবেশের সময় মাসুদ রানা নামের পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রের মাথাও ফেটে যায় সবজির ট্রাকের ধাক্কায়। সব মিলিয়ে নানা ঝামেলা ও ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসলেও হৈ চৈ আর চেঁচামেচিতে তারা ক্লাসে শিক্ষকদের পাঠদান ঠিকমতো রপ্ত করতে পারে না। প্রভাবশালী ইজারাদারদের ভয়ে অভিভাবকরাও প্রতিবাদ করতে পারেন না। এ স্কুলে বর্তমানে ৩৩৬ জন শিক্ষার্থী থাকলেও ক্রমেই এ সংখ্যা কমছে। অনেকে দুর্ভোগ আর ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসা বন্ধ রেখেছে।

স্থানীয়রা জানান, স্কুল মাঠিটি ইজারা নিয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা এমদাদ আলী সেটি পরিচালনা করছেন। যোগাযোগ করা হলে যুবলীগের এই নেতা জানান, তিনি প্রতি বছর খেলার মাঠ লিজ নিয়ে সবজির বাজার বসান। এখান থেকে পাইকাররা সবজি ট্রাকে করে নিয়ে যায়। এখানে স্কুলের পাঠদান তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয় না দাবি করে তিনি বলেন, সবজি বিক্রেতা ও ক্রেতারা নয়, স্কুলের শিক্ষার্থীরায় মলমুত্র ফেলে পরিবেশ নষ্ট করে। তিনি জানান, সবজি বিক্রেতা ও ক্রেতারা দূরের নদীর পাড়ে মলমূত্র ত্যাগ করেন।

স্থানীয় বড়গাছি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনিও ভাবেন। একাধিকবার স্কুল শিক্ষকদের এ বিষয়ে আবেদন করতে বলেছেন তবে স্কুল শিক্ষকরাও অজানা কোন চাপে কোনদিন অভিযোগ করেননি। তিনি বলেন শিক্ষকরা অভিযোগ করলে বিষয়টি উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। তিনি জানান বড়কুটি বাজারটি অনেক পুরনো। তবে কাঁচা বাজার আগে অন্যস্থানে বসত। কয়েক বছর ধরে স্কুলের মাঠে বসানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এখানে সপ্তাহে দুদিন শনিবার ও মঙ্গলবার হাট বসে। এ দুদিন শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সেলিম হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি বাইরে আছেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।