২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শঙ্কার মধ্যে শুরু সমুদ্রে শুঁটকি আহরণ

আহসান হাবিব হাসান, মংলা ॥ অবশেষে শুঁটকি আহরণে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে জেলেদের চলাচলে নিষেধাঞ্জা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বন বিভাগ। ফলে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে মৎস্য আহরণে সমুদ্রে যাত্রা শুরু করছে উপকূলের ৩০ হাজার জেলে।

এদিকে জেলেদের ওই সমুদ্র যাত্রাকে ঘিরে (বৃহস্পতিবার) থেকেই পশুর নদীর চিলা খালের মোহনায় তৈরি হয়েছে ভিন্ন রকম এক পরিবেশ। স্ত্রী-ছেলে ও স্বজনদের কাছ থেকে বিদায় নেয়ার পাশাপাশি চলে ধর্মীয় বিধি-বিধানের হরেকরকম আনুষ্ঠানিকতা। দোয়া ও মিলাদ মাহফিল ছাড়াও খোয়াজ খিজির (রা.) ও গাজী কালুর নামে শিরনি বিতরণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জেলেদের সমুদ্র যাত্রার আনুষ্ঠানিকতা।

এর আগে, হঠাৎ করে বন বিভাগ সুন্দরবনের পশুর নদীসহ বনের মধ্যকার নদী-খাল ব্যবহার করে মৎস্য আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করায় লক্ষাধিক জেলে পরিবার শুঁটকি আহরণ মৌসুমকে সামনে রেখে দুবলায় যেতে পারছিল না। এ অবস্থায় তারা বন বিভাগের এ হটকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে এবং হাজার হাজার জেলে আত্মাহুতির হুমকি দেয়।

পরে বন বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বুধবার বিকেলে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয় বলে এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন সুন্দরবন পূর্ববন বিভাগের ডিএফও মোঃ সাইদুল ইসলাম।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মংলা থেকে নদীপথে দুবলা জেলেপল্লীর দূরত্ব প্রায় ৯০ নটিক্যাল মাইল। প্রতিবছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত হলো মাছ আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ মৌসুম। মৌসুমে সাগরপাড়ের মেহের আলীর চর, আলোর কোল, অফিস কিল্লা, মাঝের কিল্লা, শেলার চর, নারকেল বাড়িয়া, ছোট আমবাড়িয়া, বড় আমবাড়িয়া, মানিকখালী, কবরখালী, ছাপড়াখালীর চর, কোকিলমণি ও হলদেখালী চরে প্রায় ৩০ হাজার জেলে জড়ো হন। সম্মিলিতভাবে এ চরগুলোকে দুবলার চর বলা হয়। দুবলা জেলেপল্লীর জেলেরা নিজেদের থাকা, মাছ ধরার সরঞ্জাম রাখা ও শুঁটকি তৈরির জন্য অস্থায়ী ঘর তৈরি করেন। জেলেরা সমুদ্র মোহনায় বেহুন্দি জাল দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার ও বাছাই করে জাতওয়ারি মাছগুলো শুঁটকি করে থাকেন। শুঁটকি তৈরির জন্য জেলেরা সাগরপাড়ে লাখ লাখ টাকা পুঁজি খাটিয়ে অস্থায়ী বসত গড়েন।

দুবলার চরের উদ্দেশে যাত্রা করা মংলার জয়মণির কালাম, চিলার রহমত, চাঁদপাই গ্রামের কুদ্দুস, পেড়িখালীর কামরুলসহ অনেক জেলে বলেন, বনদস্যুদের হামলা ও লুটপাটের আশঙ্কা মাথায় নিয়েই আমরা দুবলার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, চলতি মৌসুমে আমরা যাতে নির্বিঘেœ ও নিরাপদে মাছ শিকার এবং শুঁটকি তৈরি করতে পারি তারা যেন সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করে।