১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বহাল রাখার বিষয় বিবেচনার আশ্বাস

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সরকারী চাকরিজীবীদের দাবির মুখে অষ্টম পে স্কেলে টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বহাল রাখার বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, সবার সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রকৌশলী-কৃষিবিদ-চিকিৎসক (প্রকৃচি) বিসিএস সমন্বয় কমিটির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত অষ্টম বেতন কাঠামোতে টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করার পর সরকারী কর্মচারীরা তা বহাল রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন।

অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন- এটুকুই বলতে চাই, নতুন বেতন কাঠামোতে বৈষম্য আছে, তবে সব সমস্যা সমাধান করা যাবে না। একটা ক্যাডার আছে, তাদের ২২ হাজার সদস্য। কিন্তু গ্রেড ১, ২ এবং ৩ এ পদ আছে মাত্র সাতটা। এটা একটা সমস্যা না? কীভাবে পদায়ন করছে, ২২ হাজার লোক ৭ পদে যাবে। এগুলোতো একটু আনফেয়ার।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে আরও আলাপ-আলোচনা করতে হবে। মন্ত্রিসভা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি তিনি একা করেন না বলে জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাইরের সবার সঙ্গে আলোচনা শেষ। এখন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করব। তা হলে কি অনমনীয় অবস্থান থেকে সরে এসেছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোন সময়ই আমরা অনমনীয় অবস্থানে ছিলাম না। এটা রাজনৈতিক মন্ত্রিপরিষদ, স্বাভাবিকভাবে এখানে কেবল প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেলে হয় না। আরও অন্যান্য বিষয়ও আছে।

এদিকে, গত ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। কাঠামোতে সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল না রেখে মূল বেতনের শতকরা হারে ইনক্রিমেন্ট দেয়ার কথা বলা হয়। কীভাবে তিনি টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিষয়টি দেখবেন। এই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটা বিবেচনা করা হবে। পে কমিশন কিছু সুপারিশ করেছে, সেই অনুযায়ী আমরা বলেছিলাম, টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড থাকবে না।

তবে এ বিষয়ে একটি সভার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কয়েকদিন পূর্বেও আমাদের একটা মিটিং হয়েছে, সেখানে আমু সাহেব, তোফায়েল সাহেব, নাহিদ সাহেব ছিলেন। সেই বিবেচনা লাগবে। প্রধানমন্ত্রী দেশে আসার আগেই বিষয়টি চূড়ান্ত করার ইচ্ছা ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, এখন আর সেটা হচ্ছে না। এটা আরেকটু সময় লাগবে। তবে যে কোন পরিস্থিতিতে ডিসেম্বরের মধ্যে বিষয়টি চূড়ান্ত করতে চান বলে জানান অর্থমন্ত্রী। প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সদস্য সচিব মোঃ ফিরোজ খান, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডাঃ এম ইকবাল আর্সলান, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের মহাসচিব মোঃ মোবারক আলী, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মোঃ আব্দুস সবুর এ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

ওই বৈঠকে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, নতুন বেতনকাঠামো থেকে সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল বাতিলের যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, সেটা সরকারের জন্য কোন ভাল সিদ্ধান্ত হয়নি। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারী চাকরিজীবীদের বঞ্চিত করার একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বেতনও বাড়িয়ে দিলেন। কিন্তু কেউ খুশি হলো না। প্রতিবছর ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বাড়ানোর মাধ্যমে সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল বাতিলের ক্ষতি পোষানোর যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তা সরকারী চাকরিজীবীদের মনে হতাশা-ধোঁয়াশা ও কুয়াশার সৃষ্টি করবে।