২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উবাচ

ফিটনেসবিহীন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানী ঢাকার সব থেকে অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানী-বারিধারা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ আসন। হঠাৎ রাজনৈতিক দল গঠন করে বিগত নির্বাচনে কপালগুণে অভিজাত এই এলাকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) প্রেসিডেন্ট আবুল কালাম আজাদ। সম্প্রতি তিনি মন্ত্রিসভাকে ফিটনেসবিহীন ও ভাঙ্গাচোরা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমানে যে মন্ত্রিসভা রয়েছে তাতে অধিকাংশ মন্ত্রীরই ফিটনেস নেই। এ মন্ত্রিসভা দিয়ে সঠিকভাবে সরকার পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ডায়নামিক মন্ত্রিসভা গড়ে তোলা উচিত। যেখানে তারুণ্যর প্রাধান্য থাকবে। তারুণ্যর শক্তি কাজে লাগাতে হবে। বয়সের দিক থেকে বিচার করলে আবুল কালাম আজাদের বয়সও কম হলো না। তাহলে কী তিনি নিজেকে ভাঙ্গাচোরা বা ফিটনেসবিহীন মনে করেন। তারুণ্যের শক্তি অবশ্যই কাছে লাগাগে হবে কিন্তু প্রবীণদের বুদ্ধিমত্তা আর অভিজ্ঞতা তারুণ্যকে পথ না দেখালে কী খুব বেশি দূর অগ্রসর হওয়া সম্ভব? একই আলোচনা সভায় তিনি সদ্য বিএনপি ত্যাগী শমসের মবিন চৌধুরীকে তার দলে যোগদানের আহ্বান জানান। বয়সের দিক দিয়ে মবিন চৌধুরীও সিনিয়র সিটিজেনের মর্যাদা পাওয়ার দাবি রাখেন। আর শমসের চৌধুরী তার পদত্যাগপত্রে রাজনীতি না করার অন্যতম কারণ হিসেবে ‘নিজের ফিটনেসহীনতার’ কথা উল্লেখ করেছেন। যদিও পরবর্তীতে সাংবাদিকদের চাপাচাপিতে তিনি বলেছেন বিএনপিরও ফিটনেস নেই। কারণ বিএনপিতে জিয়ার আদর্শ নেই। যদিও জিয়ার আদর্শ কী তার কোন ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

পরিবর্তনশীল হানিফ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পৃথিবীর সব থেকে কষ্টের ঘটনা পিতার কাঁধে পুত্রের লাশ। দীপনের মতো সন্তানকে হারালে দুনিয়ার কোন পিতার কী মাথার ঠিক থাকে? ক্ষোভ- অভিমানে কতটা বেদনায় তিনি বিদ্ধ হন, কতটা কষ্ট পান তা কেবল তিনিই জানেন। আর সেই উপলব্ধিও কেবল নির্দিষ্ট সেই পিতাই করতে পারেন। দীপন হত্যাকা-ের পর অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক অভিমানেই হয়ত বলেছিলেন তিনি দীপন হত্যার বিচার চান না। কিন্তু এক অসহায় পিতার আর্তির জবাবে আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ বলে বসলেন উনি পুত্র হত্যার বিচার চান না। হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক। আমি অবাক হয়েছি। আমার মনে হয়, যারা এই খবরটি পড়েছে সবাই অবাক হয়েছেন। একজন পুত্রহারা পিতা সন্তানের হত্যার বিচার চায় না, এটা বাংলাদেশে এই প্রথম। পৃথিবীতেও এমনটা আমি দেখিনি। সারাদেশে মাহবুবুল আলম হানিফের এই বক্তব্য যে শুনেছে সেই বলেছে ‘ছি’। সম্ভবত রাতেই বুঝতে পেরেছিলেন আর ক্ষমা চেয়ে নিলেন পরিবর্তনশীল হানিফ। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের মুখপত্রের দায়িত্ব নিয়ে কিভাবে এসব কথা বের হয় তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা রকম প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। অনেকই প্রশ্ন তুলেছেন মাথা চলার আগে কেন নেতার জিহ্বা চলে?

সংলাপে বসলে-

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রথমে দুজন বিদেশী নাগরিক হত্যা, পুলিশ হত্যা, পুরান ঢাকার হোসেনী দালানে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় গ্রেনেড হামলা, এরপর তিনজন প্রকাশককে হত্যাচেষ্টায় কুপিয়ে জখম, একজন প্রকাশককে হত্যা এরপর আবার পুলিশ সদস্যকে হত্যা। মাত্র ক’দিনের ব্যবধানে এত ঘটনা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে না। একটি ঘটনার সঙ্গে আরেকটি ঘটনার নিশ্চিত যোগসূত্র রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে দেশে অস্থিতিশীল করে যে কোন পক্ষ ফয়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। মোটা দাগে দেখা যায় দেশে দুজন কুখ্যাত রাজাকারের ফাঁসির রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। এখন যে কোন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে সাকা মুজাহিদের ফাঁসির রায় বানচালের ষড়যন্ত্র চালানোটা অস্বাভাবিক নয়। অন্যদিকে বিএনপি বছরের শুরুর দিকে নির্বিচারে পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করে সরকার ফেলে দেয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল। ওই প্রক্রিয়া চলার সময় বার বার তাদের পক্ষ থেকে জাতীয় সংলাপের প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু শেষমেশ সেই সংলাপ আর হয়নি। বিএনপি এতদিন চুপ করেই ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনার পর তাদের আবার সংলাপ বাসনা জেগেছে। দলটির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, ‘সম্প্রতি দেশে হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় ‘অস্বাভাবিক’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় হচ্ছে জাতীয় সংলাপ।’ কিন্তু সংলাপ করেই মুক্তমনা মানুষ, প্রকাশক এবং পুলিশ হত্যা থামানো যায়! নাকি বিএনপি হত্যাকারীদের চেনে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেই এসব বন্ধ হয়ে যাবে? তারা নিজেরাই মানা করে দেবে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। বছরের শুরুর দিকে হরতাল অবরোধে সারাদেশে পেট্রোলবোমা মেরে সাধারণ মানুষকে হত্যাকা- চলার সময় বিএনপি বার বার বলে আসছিল এসব তারা করছে না। কিন্তু বিএনপি হরতাল অবরোধ প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে পেট্রোলবোমা বন্ধ হয়ে গেল। বিএনপি কি এমন জাদু জানে যে তাদের হরতাল প্রত্যাহারের পর আগুন সন্ত্রাস বন্ধ হয়ে যায় আবার তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেই দেশ স্থিতিশীল হয়ে যাবে!