২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে ঢাকা-আমস্টারডাম একসঙ্গে কাজ করবে

ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে ঢাকা-আমস্টারডাম একসঙ্গে কাজ করবে
  • যৌথ ইশতেহারে ঐকমত্য

বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস জনগণের জন্য বদ্বীপকে নিরাপদ ও উৎপাদনশীল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান (বদ্বীপ পরিকল্পনা) ২১০০ বাস্তবায়নের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ জোরদার করতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে একমত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ডাচ্ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের মধ্যে বুধবার রাতে ডাচ্ প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন ক্যাটসুইসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে এক যৌথ ইশতেহারে বলা হয়, দুই প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বেসরকারী খাতের উন্নয়ন, কৃষি, বন্দর উন্নয়ন এবং আইনের শাসনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এরপর মার্ক রুটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নৈশভোজে পানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, দুই প্রধানমন্ত্রী ডেল্টা কোয়ালিশন কাঠামো কর্মসূচীর মধ্যে সারা বিশ্বের ঘনবসতিপূর্ণ বদ্বীপ অঞ্চলগুলোকে নিরাপদ ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই করতে একসঙ্গে কাজ করতে একমত হয়েছেন ।

এক্ষেত্রে দুই নেতার অভিন্ন অভিমত হচ্ছে যে, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস উভয় দেশই হচ্ছে বদ্বীপ প্রকৃতির এবং বদ্বীপ ব্যবস্থাপনা, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

দুই প্রধানমন্ত্রী ২০১৫ সালে জুনে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের লক্ষ্যে সহিষ্ণু ও টেকসই বদ্বীপ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক এবং ভূমি সংযোজন ও পুনরুদ্ধার ক্ষেত্রে সহযোগিতাবিষয়ক একটি আগ্রহপত্র স্বাক্ষরিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বদ্বীপ ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা (ডেল্টা প্ল্যান) ২১০০ প্রণয়নে সহযোগিতার জন্য ডাচ্ প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

শেখ হাসিনা শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদী সামর্থ্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এর অধীনে নেদারল্যান্ডস সরকারের সঙ্গে একটি কার্যকর অংশীদারিত্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডাচ্ প্রধানমন্ত্রী ডেল্টাকে নিরাপদ ও জনগণের জন্য সুফলদায়ক করতে বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বাস্তবায়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। দুই প্রধানমন্ত্রী সন্তোষের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস এক সুদৃঢ় ও পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। দু’দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীদ্বয় এই সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

উভয়পক্ষ সম্প্রতি মন্ত্রী পর্যায়ে সফরে সন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ পর্যায়ে সফর বিনিময় আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। দুই প্রধানমন্ত্রী দু’দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এ ধরনের সফর বিনিময়ের ভূমিকার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন।

২০১৫ সালে ১০ সেপ্টেম্বর হেগ নগরীতে প্রথমবারের মতো দু’দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ায় উভয় প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন।

উভয় প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন যে, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য হচ্ছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের এক মুখ্য অনুঘটক। তারা সন্তোষের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, নেদারল্যান্ডস হচ্ছে বাংলাদেশী পণ্য রফতানির অন্যতম গন্তব্য ও বাংলাদেশের জন্য এফডিআই লাভের শীর্ষ উৎস দেশ। উভয়পক্ষ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডাচ প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন যে, বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পানি ও সমুদ্র খাতে অবকাঠামো, আইটি ও পর্যটনসহ ওষুধ, চামড়া, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালক প্রকৌশল, পাট, জাহাজ তৈরি, বিদ্যুত ও জ্বালানির মতো উদীয়মান খাতে বিনিয়োগ করতে ডাচ্ বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানান।

ডাচ্ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে অংশগ্রহণের এ আগ্রহের কথা উল্লেখ করে ডাচ্ পক্ষকে এ প্রকল্প প্রস্তাবনায় তাঁর সরকারের যথাযথ বিবেচনার আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডাচ্ প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, তাঁর সরকার তৈরি পোশাক খাতকে টেকসই শিল্পায়নের মডেলে পরিণত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে।

এ প্রসঙ্গে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে অর্থায়ন সুবিধা লাভ এবং ন্যায্য দাম পাওয়ার বিষয়গুলোর সমাধানে নেদারল্যান্ডের সহায়তা কামনা করেন।