২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বন্দুকযুদ্ধে ৩ জেলায় তিন শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহত

  • অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ পুলিশের সঙ্গে পৃথক বন্দুকযুদ্ধে ও ক্রসফায়ারে বুধবার রাতে তিন জেলায় তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো মুন্সীগঞ্জে ৬ মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি সেন্টু, রাজবাড়ী জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী শহিদুল ইসলাম ওরফে পিচ্চি শাহিন এবং যশোরের বেনাপোলের পুটখালি সীমান্তে পুলিশ ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়া অস্ত্র ব্যবসায়ী ইলিয়াস মৃধা সোহাগ। ঘটনার পর অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতার।

জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত ৬ মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি সেন্টু (৩৫) পুলিশের সঙ্গে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে তিন পুলিশ সদস্য। বুধবার রাত পৌনে ৩টায় টঙ্গীবাড়ি উপজেলার কাঁঠাদিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন টঙ্গীবাড়ি থানার দারোগা জসিম উদ্দিন, কনস্টেবল দেলোয়ার হোসেন ও মিজানুর রহমান। তাদের মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২ রাউন্ড গুলি ভার্তি ১টি রিভলবার, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ২টি ছোড়া ও ২টি রড উদ্ধার করেছে।

টঙ্গীবাড়ি থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সেন্টুকে বুধবার পাইকপারা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অত্র এলাকায় এলে সেন্টুর সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় সেন্টু পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের গুলিতে সে নিহত হয়। তার শরীরের ৬টি গুলির চিহ্ন রয়েছে। লাশ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা আছে। সেন্টু পশ্চিম সোনরংয়ের মৃত জয়নাল ব্যাপারীর পুত্র। এ বিষয়ে পুলিশ বাদী হয়ে টঙ্গীবাড়ি থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রাজবাড়ী ॥ জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী শহিদুল ইসলাম ওরফে পিচ্চি শাহিন (৩০) বুধবার রাতে রাজবাড়ী ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। পুলিশ এ সময় ১টি জার্মানির তৈরি পিস্তল, ১টি পাকিস্তানী রিভালবার, ১টি ওয়ান শুটারগান এবং ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। তার বাড়ি সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের বাড়ইপাড়া গ্রামে। তার পিতার নাম জয়নাল আবেদীন।

রাজবাড়ী ডিবি পুলিশের এসআই কামাল হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর শাহিনের স্বীকারোক্তি অনুয়ায়ী তাকে নিয়ে মধ্যরাতে পূর্ব আলীপুর গ্রামের জাকির হোসেনের কলাবাগানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে গেলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা শাহিন বাহিনীর অন্য সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা ১৬ রাউন্ড গুলি করলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এরপর বেশকিছু অস্ত্র, ব্যবহৃত গুলির খোসা এবং আহত অবস্থায় শাহিনকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে গোলাগুলির সময় দৌড়াদৌড়ি ও ছোটাছুটি করতে যেয়ে ডিবি পুুলিশের এসআই নিজামউদ্দিন, এসআই কামাল হোসেন, এএসআই হিরোন কুমার এবং কনস্টেবল শফিক আহত হয়েছেন। তাদের রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

রাজবাড়ী সদর থানা সূত্র জানায়, শহিদুল ইসলাম ওরফে পিচ্চি শাহিন জেলার একজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, ডাকাতি, চাঁদাবাজি মুক্তিপণ আদায় ও অস্ত্রসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

বেনাপোল, যশোর ॥ জেলার পুটখালি সীমান্তে পুলিশের ভ্যান থেকে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যাওয়া অস্ত্র ব্যবসায়ী ইলিয়াস মৃধা সোহাগ (৩২) পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। বুধবার রাত দেড়টার দিকে বেনাপোলের পুটখালি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বেনাপোল পোর্ট থানার দারোগা মনিরসহ দুই কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। নিহত ইলিয়াস রাজবাড়ী জেলা সদরের কারচন্দ্রপুর এলাকার সুরুজ মোল্যার ছেলে। বুধবার বিকেলে পুলিশ ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর গভীর রাতে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটল। ঘটনাস্থল থেকে দুটি পিস্তল ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অপূর্ব হাসান জানান, মঙ্গলবার বিকেলে বেনাপোলের সীমান্ত এলাকা থেকে একটি নাইন-এমএম পিস্তল, ২টি ম্যাগজিন ও এক রাউন্ড গুলিসহ ইলিয়াসকে আটক করা হয়। এরপর বুধবার বিকেলে তাকে যশোরে আদালতের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ ভ্যানটি যশোর-বেনাপোল সড়কের কাগজপুকুর এলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এ সুযোগে কৌশলে ইলিয়াস ভ্যান থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশের এক এসআই ও দুই কনস্টেবল আহত হন। পরে ইলিয়াসকে ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। বুধবার মধ্যরাত দেড়টার দিকে পুটখালি এলাকায় পুলিশ দুটি মোটরসাইকেলকে পুলিশ চ্যালেঞ্জ করে। চ্যালেঞ্জের মুখে পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই মারা যায় ইলিয়াস।