২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেড় ভরি স্বর্ণের জন্য স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা

দেড় ভরি স্বর্ণের জন্য স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল, ৫ নবেম্বর ॥ ঘাটাইল উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের জগাই চন্দ্র দাস (২৫) যৌতুকের দেড় ভরি স্বর্ণ না দেয়ায় স্ত্রী শিমু রানীর (১৯) গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। বুধবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। ঘটনায় নিহতের পিতা সুবরন চন্দ্র বর্মণ বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে ঘাটাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, দুই বছর আগে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার গাবের গ্রামের (জেলেপাড়া) সুবরন চন্দ্র বর্মণের মেয়ে শিমু রানীকে হিন্দুরীতি অনুযায়ী বিয়ে দেয়া হয় ঘাটাইলের অতুল চন্দ্র দাসের ছেলে জগাই চন্দ্র দাসের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী যৌতুকের জন্য নানা নির্যাতন করে আসছিল স্ত্রী শিমু রানীকে। নিহতের পিতা সুবরন চন্দ্র বর্মণ জানান, বিয়ের সময় এক লাখ টাকা যৌতুক দেয়া হয়। দেড় ভরি স্বর্ণ দেয়ার জন্য সময় নেন তিনি। আর এ যৌতুকের জন্য মাঝে মধ্যেই আমার মেয়ে শিমুকে অমানুষিক নির্যাতন করত। গত ২৯ অক্টোবর রাতে যৌতুকের স্বর্ণ ও টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরই এক পর্যায়ে পার্ষ- স্বামী স্ত্রী শিমুর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ অবস্থায় প্রথমে তাকে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হেরে যায় শিমু রানী।

এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার পুলিশ ঘটনার সত্যতা স্বাকীর করে জানায়, নিহত শিমু রানীর লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে এনে তার শ্বশুর বাড়িতে দাহ করার জন্য নিয়ে যায়। পরে তার আত্মীয়স্বজন দাহ করতে না দিয়ে লাশ থানায় নিয়ে আসে। ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পিতা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে।