১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মতিন তাভেলা হত্যার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন

মতিন তাভেলা হত্যার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন
  • জিজ্ঞাসাবাদ চলছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকার গুলশানের কূটনীতিকপাড়ায় ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলা হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত বিএনপি নেতা ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার এমএ কাইয়ুমের ছোট ভাই এমএ মতিনকে ৮ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বিদেশে পলাতক এমএ কাইয়ুমের পরামর্শে বিদেশী হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটানো হয়। আর বিদেশেই পলাতক আরেক বড় ভাইয়ের নির্দেশে এমন হত্যাকা- ঘটে। এমএ মতিন শুধু মাঠপর্যায়ে থেকে হত্যাকা-টি সরাসরি মনিটরিং করেছেন। হত্যাকা-ে জড়িতদের সঙ্গে সরাসরি আর্থিক লেনদেনও করেছেন এমএ মতিন। বিদেশী হত্যার পরিকল্পনা এবং শিকড় অনেক গভীরে বলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে।

বুধবার রাত দেড়টার দিকে যশোরের বেলাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় এমএ মতিনকে স্থানীয় পুলিশ ও গোয়েন্দাদের সহায়তায় গ্রেফতার করে সিজার তাভেলা হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে আনা হয়। সকালেই তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে সোপর্দ করা হয়।

আমাদের কোর্ট রিপোর্টার জানান, বৃহস্পতিবার ডিবি পুলিশ এমএ মতিনকে ঢাকার মহনগর হাকিম শাহরিয়ার মাহমুদ আদনানের আদালতে সোপর্দ করে। আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। এ সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়ার সহকারী আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করে আসামির জামিনের আবেদন করেন। বিচারক শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এমএ মতিনকে ৮ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আসামিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, এমএ মতিন সরাসরি বিদেশী হত্যার মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদেশী হত্যায় সরাসরি অংশ নেয়া তিনজনসহ গ্রেফতারকৃত চারজনের মধ্যে দু’জন ইতোমধ্যেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। সর্বশেষ ভাগ্নে রাসেলের দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে হত্যাকা-ের সঙ্গে এমএ মতিনের জড়িত থাকার তথ্য উঠে আসে।

হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে বিদেশী হত্যার জন্য আর্থিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হওয়া, তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়, গ্রেফতারের পর আইনী সহযোগিতা করাসহ বিভিন্নভাবে শেল্টার দেয়া এবং মোটা অঙ্কের টাকা দেয়ার দায়িত্বটি এমএ মতিন নিজেই পালন করেছেন।

জানা যায়, বড় ভাই ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার ও প্রভাবশালী বিএনপি নেতা এমএ কাইয়ুম প্রকাশ্যে রাজনীতি করায় তিনি অতটা প্রকাশ্যে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তবে এমএ কাইয়ুমের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকা-ের নেপথ্য কারিগর এমএ মতিন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময় এমএ কাইয়ুমের হয়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে থাকেন তিনি। সেসব দায়িত্ব অনেকটাই গোপনে পরিচালিত হয়ে থাকে। এসব গোপন কার্যক্রমের আর্থিক লেনদেনের পুরো দায়িত্বটিই থাকে তার কাছে। নাশকতা ও হাঙ্গামামূলক কর্মকা- চালাতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম যোগানোর মূল দায়িত্বটি তিনিই পালন করে থাকেন। শুধু তাই নয়, এসব সরঞ্জাম ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত লোক সংগ্রহ করা, তাদের সঙ্গে আর্থিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হওয়া, সরঞ্জাম সরবরাহ করা, ব্যবহৃত সরঞ্জামের হিসাব রাখা, বিভিন্ন কর্মকা-ে জড়িতদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও আইনী সহায়তা করার সার্বিক দায়িত্ব এমএ মতিন দীর্ঘদিন ধরে অনেকটা গোপনেই চতুরতার সঙ্গে পালন করে আসছেন। এমন দক্ষতার কারণেই এমএ কাইয়ুম বিদেশে অবস্থানরত একজন বড় ভাইয়ের নির্দেশে তার ছোট ভাই এমএ মতিনকে বিদেশী হত্যা মিশন সফল করার দায়িত্ব দেন।

তবে গ্রেফতারকৃত এমএ মতিন কথিত সেই বড় ভাই কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগের উপ-কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া সিজার তাভেলা হত্যায় চারজন গ্রেফতারের পর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এক বড় ভাইয়ের নির্দেশে বিদেশী হত্যার ঘটনা ঘটে। সেক্ষেত্রে সিজার তাভেলা পরিস্থিতির শিকার মাত্র। সিজার তাভেলার জায়গায় অন্য কোন বিদেশী হলে তার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা হতো।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ক্রিকেট দল পূর্বনির্ধারিত বাংলাদেশ সফর বাতিল ঘোষণা করে। এর কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুলশান-২ নম্বরের ৯০ নম্বর সড়কে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এনজিও আইসিসিও কো-অপারেশনের ‘প্রফিটেবল অপরচ্যুনিটিজ ফর ফুড সিকিউরিটি’ কর্মসূচীর প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলাকে (৫০)। এনজিওটি বাংলাদেশে পানি, স্যানিটেশন, রিফিউজি সমস্যা ও পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজ করে থাকে। নিহত সিজার ইতালির মিলান শহরের নাগরিক ছিলেন। চলতি বছরের ১৫ মে প্রায় ৯ লাখ টাকা বেতনে বাংলাদেশে এনজিওটিতে যোগদান করেছিলেন। বসবাস করছিলেন গুলশান-২ নম্বরের ৫৪ নম্বর সড়কের ১১/বি নম্বর বাড়ির ৫/২ ফ্ল্যাটে। ঘটনার দিন তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সুইমিংপুল থেকে সাঁতার কেটে বাড়ি ফিরছিলেন। সিজারের মরদেহ ইতালিতে পাঠানো হয়েছে।

হত্যাকা-ের ঘটনায় আইসিসিও’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি হেলেন ভান ডার বেক বাদী হয়ে গুলশান মডেল থানায় অজ্ঞাত খুনীদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

এই মাত্রা পাওয়া