১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সুচি হবেন প্রেসিডেন্টের উর্ধে!

  • নির্বাচনে দল জয়ী হলে দেশ চালানোর সংকল্প নেত্রীর

মিয়ানমারের সরকারবিরোধী নেত্রী আউং সান সুচি বলেছেন, আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) জয়ী হলে তার অবস্থান হবে প্রেসিডেন্টের উর্ধে। বৃহস্পতিবার দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে সংবাদ সম্মেলনে সুচি বলেছেন, তার দল পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে দলীয় প্রধান হিসেবে তিনিই দেশ পরিচালনা করবেন। সামরিক জান্তা প্রণীত সংবিধান তার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক হলেও তিনি এই সংকল্প ব্যক্ত করেন। তার ছেলেরা ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী হওয়ায় তিনি এ সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। খবর বিবিসি, গার্ডিয়ান, টেলিগ্রাফ ও ওয়েবসাইটের।

সুচি নির্বাচনের প্রাক্কালে ওই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমার অবস্থান হবে প্রেসিডেন্টের উর্ধে। এটি খুবই সহজ এক বার্তা। তিনি দাবি করেন, সংবিধানে এমন কিছু নেই যা তাকে এ থেকে বিরত রাখতে পারে। তবে মিয়ানমার সংবিধানের ৫৮ ধারায় বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট দেশের অন্যসব ব্যক্তির উর্ধে স্থান লাভ করবেন। মিয়ানমারে ৮ নবেম্বর পার্লামেন্ট নির্বাচন হচ্ছে। ২৫ বছর পর এবারই প্রথম সেখানে অবাধ ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে। সে কারণে আন্তর্জাতিক মহলও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবারকার নির্বাচন। গণমাধ্যমগুলোতে একে বলা হচ্ছে ঐতিহাসিক নির্বাচন। তবে নির্বাচন আসলেই অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে কি-না তা নিয়ে বিরোধী এনএলডির সংশয় রয়েছে। সুচি বলেছেন, নির্বাচনের আগেই অনেক অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। তার মতে, এবারকার নির্বাচন প্রক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়নি।

ক্ষমতাসীন ইউনিয়ন সলিডারিটি এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) একাংশের নেতা ও দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনীতিক শোয়ে মান বলেছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী সুচির নেতৃত্বাধীন এনএলডি এখন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল এবং দলটি নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি তাদের সঙ্গে কাজ করতে রাজি আছেন। তিনি এ বছরের আগস্টে ক্ষমতাসীন দলের প্রধানের পদ থেকে বহিষ্কৃত হন। তবে তার নেতৃত্বে পার্লামেন্টে এখনও দলের একটি বড় অংশ রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে এনএলডির জন্য সরকার গঠন করতে সাবেক ওই শীর্ষ জেনারেলের সমর্থন সহায়ক হতে পারে।

সুচির সঙ্গে শোয়ে মানের রাজনৈতিক সখ্য নিয়ে এর আগে ইউএসডিপির কোন কোন সদস্য সন্দেহ প্রকাশ করলেও শোয়ে মান প্রকাশ্যে তেমন কিছু বলেননি। তবে তার সর্বশেষ এই মন্তব্য সেই সন্দেহের বিষয়টিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এ থেকে এই ধারণা আরও জোরদার হয়েছে যে, সুচির প্রতি সমর্থনের কারণেই আগস্টে তাকে নাটকীয়ভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ২০১১ সালে মিয়ানমারে প্রত্যক্ষ সেনা শাসনের অবসানের পর এটি ছিল সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক ঘটনা। আগস্ট থেকে ইউএসডিপির কার্যালয় নিরাপত্তা বাহিনী ঘিরে রেখেছে। গত তিন মাসের মধ্যে তিনি এই প্রথম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুললেন। নিজ শহর ফিউয়ে নির্বাচনী প্রচার শেষে বুধবার রাতে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার দল নির্বাচনে জিতবে। তবে তিনি এ কথাও বলেন যে, দলীয় লাভক্ষতির চেয়ে জাতীয় স্বার্থ তার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে দেশের স্বার্থে ভিন্ন দলের সঙ্গে সমঝোতায় আসার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

মিয়ানমারের এবারকার নির্বাচনের দিকে দৃষ্টি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রেরও। বুধবার হোয়াইট হাউসের সিনিয়র নিরাপত্তা উপদেষ্টা বেন রোডস বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ ও সম্পর্ক উন্নয়নের পথ সুগম হবে। তিনি সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ফিরে এসেছেন। রবিবারের নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি-না সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে দেশটির ভবিষ্যত অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক কোন্ পথে যাবে এই নির্বাচন তা ঠিক করে দেবে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে সুচিকে ‘ব্রিটেনের পুতুল’ আখ্যা দিয়ে তার নির্বাচনী এলাকায় রাতের আঁধারে লিফলেট ছড়ানো হয়েছে। এতে সুচির দলকে ভোট না দেয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, সুচি ক্ষমতায় এলে মিয়ানমারের জনগণ আবার ব্রিটিশদের গোলামে পরিণত হবে এবং মুসলিমরা সহিংসতার বিস্তার ঘটিয়ে প্রধান ধর্ম হিসেবে বৌদ্ধ ধর্মের বিলুপ্তি ঘটাবে। দেশটির সেনা কর্মকর্তারা সুচির কথা উল্লেখ করলেই তার ব্রিটেন সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরেন। কারণ সুচি সেখানে অনেক বছর কাটিয়েছেন। তার প্রয়াত স্বামীও ছিলেন একজন ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ।