১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উজ্জ্বল জ্ঞানশিখা

  • নূর কামরুন নাহার

উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে শুরু করে বিশ শতকের প্রথমভাগ পর্যন্ত বাঙালী জাতির জীবনে এক সঙ্গে অসংখ্য মেধার বিকাশ ও সম্মিলন ঘটে। বাংলার শিক্ষা সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চা ও মননশীলতার বিকাশে এক অভূতপূর্ব আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ইউরোপীয় শিল্প-সাহিত্য, জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চায় গড়ে তোলে এক আধুনিক ও অগ্রসর মনন। ভারতবর্ষে ইউরোপের শিল্প-সাহিত্যের উত্তাপ এসে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। ইউরোপীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের, মুক্তচিন্তার ঢেউ বাঙালীকে জাগিয়ে তোলে এক নতুন মন্ত্রে। শুরু হয় বাঙালী জাগরণের। হিন্দু সমাজ ইংরেজী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে এই আলোকিত অবারিত জগতের দিকে হাত বাড়ায়। কিন্তু এই জাগরণে মুসলমান সমাজ পুরোপুরি জেগে উঠতে সক্ষম হয় না। তারা গোঁড়ামি আর অনগ্রর চিন্তার জালে বাঁধা পড়ে থাকে। বাঙালী মুসলিম সমাজকে সেই জড়বুদ্ধি আর সনাতনী চিন্তার জট থেকে ছাড়িয়ে এনে যারা আধুনিক ও অগ্রসর চিন্তাধারায় জারিত করতে চেয়েছিলেন কাজী আবদুল ওদুদ তাদের অন্যতম একজন। বাঙালী মুসলিম জাগরণের পথিকৃৎ ছিলেন তিনি। মুসলিম সাহিত্যের অগ্রসর চিন্তাধারার অন্যতম এক প্রধান পুরুষ। মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার চর্চায় তিনি ছিলেন এক প্রতিষ্ঠান।

বাল্যকাল ও শিক্ষা

কুষ্টিয়া জেলার জগন্নাথপুর গ্রামে পদ্মার ধারে ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল মামার বাড়িতে কাজী আবদুল ওদুদের জন্ম। নিজের বেড়ে ওঠা সম্পর্কে তার নিজের ভাষ্য-

শৈশব উদযাপিত প্রধানত পিতৃগৃহে, কৈশোর প্রধানত মাতুলালয়ে, পদ্মার ধারে।

পিতা ও মাতার পরিবার বাংলার প্রকৃতি আর নদী তার মানস গঠনে তাই যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। এ প্রসঙ্গে তিনি পিতামহীর ভূমিকার কথাও বলেন-

আমার পিতামহী ছিলেন অসাধারণ পার্সী জানা মৌলভীর মেয়ে, কিন্তু ধর্মভীরু যত-বুদ্ধিমতী, কর্মকুশলা ও কা-জ্ঞানসম্পন্না তার চাইতে অনেক বেশি। আমাদের পরিবারে বুদ্ধিও তীক্ষèতা সঞ্চারিত হয়েছে তাঁর শোনিত থেকে- এমন মনে হয়।

তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরু হয় একটু বেশি বয়সে। বাসায় অক্ষরজ্ঞান লাভের পর নয় বছর বয়সে মাতুতালয়ের কাছে জগন্নাথপুর এম .এ স্কুলে ভর্তি হোন তিনি। সে স্কুলেই নিম্ন মাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। নরসিংদীর শাটিরপাড়া হাই স্কুলে চতুর্থ শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে ১৯০৬ থেকে ১৯০৮ এই তিনবছর পড়েন। ১৯১৩ সালে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯১৫ সালে প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে আইএ পাস এবং ওই কলেজ থেকে ১৯১৭ সালে বি.এ পাস করেন। ১৯১৯ সালে করেন এম .এ পাস।

কর্ম ও সাহিত্যজীবন

কাজী আবদুল ওদুদ এক বর্ণাঢ্য কর্ম ও সাহিত্য জীবনের অধিকারী ছিলেন। মূলত তার সাহিত্যজীবনকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়-প্রথমত কলকাতার জীবন (১৯১৩ থেকে ১৯২০) এ সময় তিনি সৃষ্টিশীল সাহিত্য রচনা করেন। দ্বিতীয়ত ঢাকার জীবন (১৯২০ থেকে ১৯৪০) এ সময় সমাজভাবনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও মননশীল গদ্য রচনা করেন। তৃতীয়ত কলকাতা-রাজশাহী- কলকাতার জীবন (১৯৪০ থেকে ১৯৭০) ব্যক্তিত্ব ও আদর্শকেন্দ্রিক সাহিত্য রচনা করেন।

কাজী আবদুল ওদুদের জীবন ও সাহিত্যের মূলে ছিল সমাজ চিন্তা। নিছক সাহিত্যে রচনা অথবা এর মধ্য দিয়ে আত্মপ্রতিষ্ঠা বা আত্মতুষ্টি অর্জন তার লক্ষ্য ছিল না। তার লক্ষ্য ছিল ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী। অসাম্প্রদায়িক, উদার ও মুক্তিচিন্তা, জ্ঞান আর বীক্ষা ছড়িয়ে দেবার জন্য তিনি হাতে কলম তুলে নিয়েছিলেন। নিরপেক্ষ ও বিশ্লেষণী দৃষ্টি দিয়ে মুসলমান সাহিত্যিকদের পিছিয়ে পড়ার কারণ তিনি সর্বান্তকরণে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন ।

১৯১৯ সালে এম.এ পাস করার পরই তার কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯২০ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজে বাংলার লেকচার হিসেবে যোগদান করেন তিনি। ছাত্রজীবনেই তার গল্পগ্রন্থ, মীর পরিবার, উপন্যাস, নদীবক্ষে প্রকাশিত হয়ে যা রবীন্দ্রনাথ , শরৎচন্দ্র ও শশাঙ্কমোহন সেনের প্রশংসা পায় এ প্রসঙ্গে জীবন কথায় তিনি লেখেন-

১৩২৭ সালে (১৯২০) আমি ঢাকায় যাই বাংলার লেকচারার হয়ে দীনেশবাবুর সুপারিশে। আমার নদীবক্ষে ও মীর পরিবার আর মোসলেম ভারতে প্রকাশিত “সাহিত্যিককের সাধনা’ প্রবন্ধ দেখেও শরৎবাবু রবীন্দ্রনাথ, শশাঙ্কমোহন সেন, প্রমথ চৌধুরীর অনুকূল মত জেনে তিনি সুপারিশ করেন। তখনও তদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় হয়নি।

১৩২৭-এর বৈশাখে মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় বের হয় মোসলেম ভারত পত্রিকা; এর প্রথম সংখ্যাতেই প্রকাশিত হয় সাহিত্যিকের সাধনা শীর্ষক প্রবন্ধটি । প্রমথ চৌধুরী সবুজপত্রে প্রবন্ধটির প্রশংসা করে লেখেন:

সাহিত্য বলতে কি বোঝায়, সে বিষয়ে মোসলেম ভারতে একটি সুন্দর প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। কাজী আবদুল ওদুদের সাহিত্যিকের সাধনার মহাগুণ এই যে, উক্ত প্রবন্ধে বিষয়টিকে নানা দিক থেকে দেখা হয়েছে এবং সেই সঙ্গে বিচার করাও হয়েছে। এহেন সুচিন্তিত প্রবন্ধ বাঙলা মাসিকপত্রে নিত্য চোখে পড়ে না। সাহিত্য যারা ভালবাসেন, এ লেখাটি তাদের পড়তে অনুরোধ করি। এ স্থলে আমি একথাটি বলা আবশ্যক মনে করি যে প্রবন্ধ লেখকের বেশিরভাগ মতো আমি খাঁটি বলে মেনে নিই।

কলেজে যোগদানের এক বছরের মধ্যেই তিনি অধ্যাপক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। ১৯৪০ পর্যন্ত টানা বিশ বছর তিনি ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজে অধ্যাপনা করেন। ১৯৪০ সালের মে মাসে টেক্সট বুক কমিটির সেক্রেটারির পদে নিয়োগ পেয়ে কলকাতায় যান। ১৯৪২ সালে অফিসটি রাজশাহীতে স্থানান্তরিত হলে এখানে থাকেন ১৯৪৫ পর্যন্ত। পরে অফিসটি আবার কলকাতায় স্থানান্তরিত হলে তিনিও কলকাতায় যান। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পর ১৫ আগস্ট ঐ পদের সাথে রেজিস্টার অব পাবলিকেশনের পদ যুক্ত করা হলে তিনি সে পদে নিয়োগ পান। ১৯৫১ সালের জুলাই মাসে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

তার সাহিত্য জীবনের দ্বিতীয় পর্যায় অর্থাৎ ঢাকার জীবন তার জীবনের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। এ সময়ই তিনি নানা সাহিত্যকর্ম করেছেন। ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজে অধ্যাপনাকালে তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজের মতো একটি মুক্তবুদ্ধির আন্দোলনের সাথে জড়িত হয়েছিলেন। এ সময় শিখায় তার সাহিত্য সমস্যা, বাঙলার জাগরণ, বাংলা সাহিত্যের চর্চা, গ্যেটে শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধগুলো ছাপা হয় । এ সময় তিনি একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিম-ল গড়ে তুলেছিলেন। তার নাজিমুদ্দিন রোডের ভাড়া বাড়ি জোহরা মঞ্জিলে প্রায়ই সাহিত্যের জলসা হতো। সেখানে অধ্যক্ষ সুরেন্দ্রনাথ মৈত্র, ড. খাস্তগীর, ড. কালিকারঞ্জন কানুনগো, সাহিত্যিক মোহিতলাল মজুমদার, চারু বন্দ্যোপাধ্যায়, মাহবুব-উল-আলম, মোতাহের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে তার সাক্ষাত ও আলাপ হতো। ১৩৩৩ সালে তার প্রবন্ধ সংকলন নব পর্যায় বের হয় যেটি পড়ে রবীন্দ্রনাথ মন্তব্য করেছিলেন

‘এতে (নবপর্যায় গ্রন্থে) মনের জোর, বুদ্ধির জোর, কলমের জোর একসঙ্গে মিশেছে। গোঁড়ামির নিবিড় বিভীষিকার ভিতর দিয়ে কুঠার হাতে তুমি পথ কাটতে বেরিয়েছ, তোমাকে ধন্য’

তার জীবনের তৃতীয় অধ্যায় শুরু হয় ১৯৪০ এর মাঝামাঝি সময়ে যখন বাংলা সরকারের প্রাদেশিক টেক্সট বুক কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্ব নিয়ে তিনি কলকাতায় যান। বাকি জীবন তিনি কলকাতাতেই ছিলেন। শুধু ১৯৪২-৪৫ অফিস স্থানান্তরের কারণে রাজশাহীতে ছিলেন। সে সময় রাজশাহী কলেজের সহ-অধ্যক্ষ ও ইংরেজী সাহিত্যের অধ্যাপক ড. সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্তের সঙ্গে তার হৃদ্যতা গড়ে ওঠে। রাজশাহীতেই তিনি তার বিখ্যাত গ্রন্থ কবি গুরু গ্যেটের অনেকাংশ রচনা করেন। ১৯৪৫ সালে আন্তর্জাতিক চ.ঊ.ঘ কর্তৃক আমন্ত্রিত হয়ে তিনি অল ইন্ডিয়া রাইটার্স কনফারেন্সে ‘আধুনিক বাংলা সাহিত্য প্রবন্ধ রচনা করেন যা যা প্রেসিডেন্সী কলেজের ইংরেজীর অধ্যাপক তারকনাথ সেন গড়ফবৎহ ইধহমধষর খরঃবৎধঃঁৎব নামে অনুবাদ করেন। ১৯৫০ সালের ওহফরধহ চযরষড়ংড়ঢ়যরপধষ ঈড়হমৎবংং উপলক্ষে লেখেন ঋঁহফধসবহঃধষং ড়ভ ওংষধস.

১৯৫১ সালে অবসর গ্রহণের পর কলকাতার তারক দত্ত রোডে বাড়ি করে সেখানেই স্থায়ীভাবে থেকে যান।

সাতচল্লিশে দেশভাগের পর নানা সুযোগ এবং সম্মানজনক পদ লাভের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বে¡ও তিনি আর ঢাকায় ফেরনেনি। জানা যায় সে সময় পাকিস্তানের সে সময় পাকিস্তানের মন্ত্রী ফজলুর রহমান এস এন কিউ জুলফিকার আলীকে তাকে ঢাকায় আসার অনুরোধ জানাতে বলেছিলেন। তিনি ঢাকায় আসলে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়া হবে এমনটিও জানিয়েছিলেন। কিন্তু আদর্শগত কারণে তিনি ঢাকায় আর আসেননি। এ সম্পর্কে আবুল ফজল তার একটি চিঠির কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছিলেন-

আমার ইচ্ছা হযরত মোহাম্মদ (দঃ). গ্যেটে আর রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে তিনটি বই লেখা এ সবের উপকরণ এখানে যত সহজলভ্য হবে, ঢাকায় তা হওয়ার নয় তাই আমি এখানে রয়ে গেলাম’।

বিবাহিত জীবন

বি.এ পড়বার সময়ই বড় মামা আসহাবউদ্দীনের জ্যেষ্ঠ কন্যা জমিলা খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিবাহিত জীবনের প্রথম থেকেই জমিলা খাতুন অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্ত্রী সম্পর্কে তিনি তার জীবনকথায় লেখেন-

আমার স্ত্রীর অপূর্ব ¯েœহময় প্রকৃতি ও নিঃশেষে আত্মদানের ক্ষমতা থেকে আমার নতুন দীক্ষা লাভ হয় প্রেম-প্রীতির ক্ষেত্রে।

বিবাহিত জীবনে তাদের চার ছেলে ও তিন মেয়ের জন্ম হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অকালেই দুই ছেলে ও দুই মেয়ে মারা যায়। বিবাহিত জীবনের প্রায় পুরোটা সময়জুড়েই স্ত্রীর অসুস্থতা আর সন্তানদের অকাল মৃত্যুর পরেও তাদের বিবাহিত জীবন সুখের হয়েছিল।

সম্পাদনা

বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ও চর্চায় পত্রপত্রিকার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এটি খুব ভালভাবেই অনুধাবন করেছিলেন তিনি। তাই বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখা প্রকাশ করে সমাজকে জাগাতে চাইতেন তিনি। কোন কোন পত্র পত্রিকা প্রকাশের ক্ষেত্রেও তার ছিল সক্রিয় ভূমিকা। মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র অভিযান এবং শিখা প্রকাশের ক্ষেত্রে তার প্রত্যক্ষ ও সক্রিয় ভূমিকা ছিল যদিও সম্পাদক হিসেবে তার নাম ছাপা হয়নি।

১৩৬১ সালের বৈশাখে তার সম্পাদনায় বের হয় সঙ্কল্প নামের মাসিকপত্র। এটি প্রকাশিত হতো ৮-বি তারক দত্ত রোড কলিকাতা-১৯ থেকে ।

এই মাসিকপত্র প্রকাশের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রথম সংখ্যায় সঙ্কল্পকথা’য় বলা হয়Ñ

সংকল্প প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হলো ।.... যথা সম্ভব পক্ষপাত ও বিদ্বেষবর্জিত সত্যের প্রতি শ্রদ্ধান্বিত সাহিত্যিক ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সংকল্প হয়ে উঠুক এই আমাদের সাধ।... দেশ স্বাধীন হবার প্রায় ছয় বছর পরে সংকল্পের জন্ম হলো । তবু তার সত্যিকার পরিচয় এই যে সে স্বাধীনতার সন্ততি- স্বাধীনতার কোলে তার বাস, স্বাধীনতার মুখ চেয়ে তার আনন্দ।

১৩৭২ সালের বৈশাখে তার তারক দত্তের রোডের বাসা থেকে বের করেছিলেন তরুণপত্র শীর্ষক পত্রিকা। তরুণপত্র মাত্র তিনটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। এরপর দিল্লী থেকে তরুণপত্র প্রকাশের অনুমতি পাওয়া যায় না সংকল্প নামেই প্রকাশের অনুমতি মেলে। ১৩৭২ সালের মাঘ মাসে কাজী আবদুল ওদুদ আবার সংকল্প পত্রিকা বের করেন। সেটি ছিল ঈদ সংকলন। সম্পাদকম-লীতে ওদুদের সঙ্গে রবীউদ্দিন আহমদ ও নারায়ণ চৌধুরীর নাম ছাপা হয় সম্পাদকীয়তে বলা হয়Ñ

সংকল্প ভুলবে না কালের যা দাবিÑ সর্বক্ষেত্রে চাই আরও সচেতনতা , লক্ষ্যের আরও স্থিরতা , আর সিদ্ধি কি লাভ হলো সে সমন্ধে আরও সতর্ক দৃষ্টি।

এসব পত্র পত্রিকা সম্পাদনা এবং তাতে নানা প্রবন্ধ প্রকাশও তিনি নিছক সাহিত্যচর্চা অথবা সাহিত্যিক হিসেবে নিজের প্রতিষ্ঠার জন্য করেননি । তার মূলে ছিল ঐ সমাজ সংস্কার মুসলিম সমাজের মধ্যে অগ্রসর চিন্তার বীজ রোপণ এবং নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া মুসলমানদের সামনে এগিয়ে নিয়ে আসার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা ।

কাজী আবদুল ওদুদ, অধ্যাপক আবুল হুসেন এবং আবদুল কাদিরের সক্রিয় সহযেগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারিতে মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

আলী ইদরিসের মতে -কাজী সাহেবের সাহিত্যিক জীবন ও সাধনার অন্যতম প্রধান ও বিশিষ্ট কীর্তি হলো ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রতিষ্ঠা। এই সমাজের প্রতিষ্ঠা ও কার্যকলাপ লইয়া ঢাকায় যে তুমুল আন্দোলনের সৃষ্টি হয় তাহা বাঙালার মুসলমান সমাজে একটা স্থায়ী রেখা টানিয়া দিয়া গিয়াছে।

মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মূলমন্ত্র ছিল বুদ্ধির মুক্তি। বুদ্ধির মুক্তি বলতে তাঁরা বুঝতেন অন্ধ সংস্কার সনাতনী চিন্তাধারা ও গোঁড়ামি থেকে মুক্তি। মানুষের বিচারবুদ্ধিকে জ্ঞান ও যুক্তি দ্বারা শাণিত করা। এ সংগঠনের লেখকগণ এই আধুনিক চিন্তা চেতনা বাঙালী সমাজের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য তিনটি মাধ্যম বেছে নেন: পত্রপত্রিকা প্রকাশ, সাময়িক অধিবেশন ও বার্ষিক সম্মেলনের ব্যবস্থা এবং গ্রন্থ রচনা ও প্রকাশ। মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক আবুল হুসেন প্রথম বর্ষের বার্ষিক বিবরণীতে ঘোষণা করেন, চিন্তাচর্চা ও জ্ঞানের জন্য আকাক্সক্ষা সৃষ্টি এবং আবহমানকালের চিন্তা ও জ্ঞানের সঙ্গে সংযোগ সাধনই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র শিখা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে। শিখার মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল। প্রথম সংখ্যা আবুল হুসেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যা কাজী মোতাহার হোসেন, চতুর্থ সংখ্যা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ এবং পঞ্চম সংখ্যা আবুল ফজল সম্পাদনা করেন। শিখার মুখবাণী ছিল -‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।

মুসলিম সাহিত্য-সমাজের কার্যক্রম দশ বছর (১৯২৬-১৯৩৬) সক্রিয়ভাবে চালু ছিল। প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে মুসলিম শব্দটি যুক্ত থাকলেও এটি কোন সাম্প্রদায়িক সংগঠন ছিল না। সম্মেলনের কার্যসূচীতে প্রতিষ্ঠাতাদের নাম ছাড়াও কাজী নজরুল ইসলাম, রমেশচন্দ্র মজুমদার, মোহাম্মদ কাসেম, সুশীলকুমার দে, সৈয়দ এমদাদ আলী, অধ্যাপক চারু বন্দ্যোপাধ্যায়, খান বাহাদুর আবদুর রহমান খান, বীরেন্দ্রনাথ গাঙ্গুলী প্রমুখের নাম দেখা যায়।

এ সংগঠকদের মূল লক্ষ্য ছিল সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে তাঁদের চিন্তাভাবনা বাঙালী সমাজের কাছে তুলে ধরা। বাঙালী সমাজ বলতে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকল বাংলা ভাষাভাষী অধিবাসীকেই বুঝায়। কিন্তু রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির দিক থেকে এ সময়ের বাঙালী মুসলমান সমাজ হিন্দু সমাজ থেকে অনেক অনগ্রসর ছিল। মুসলিম সাহিত্য-সমাজ তাই পশ্চাৎপদ মুসলমান সমাজকে জাগাতে চেয়েছে এজন্য মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বিভিন্ন অধিবেশনে প্রবন্ধপাঠ, আলোচনা ও ভাষণের মাধ্যমে মাতৃভাষা, শিক্ষাব্যবস্থা, অর্থনৈতিক অবস্থা, রাজনৈতিক সমস্যা, ললিতকলার চর্চা, ধর্মীয় রীতিনীতির ব্যাখ্যা প্রভৃতি বিষয়ে বাঙালী মুসলমান সমাজকে সচেতন করে তুলতে চেষ্টা করেন।

মুসলিম সাহিত্য-সমাজের লেখকগণ ছিলেন রেনেসাঁর সাধক। তাই তাঁদের চিন্তাধারা ও জীবনাদর্শ ছিল স্বল্পসংখ্যক চিন্তাশীল মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সাফল্য এখানেই যে তাদের দেখানো মুক্তবুদ্ধির অগ্রসর হয়ে বাঙালী মুসলমান সমাজ মাত্র কয়েক দশকেই প্রগতির পক্ষে অপ্রসর হতে ে পরেছে।

এই মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রেরণা এবং এর পেছনে শক্তি হিসেবে কাজ করেছেন কাজী আবদুল ওদুদ

আবুল ফজল বলেন -ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ তথা বুদ্ধির আন্দোলনের পেছনের ভাবযোগী ছিলেন কাজী আবদুল ওদুদ কিন্তু কর্ম যোগী ছিলেন আবুল হুসেন।

কবি আবদুল কাদির বলেন- ঢাকা মুসলিম সাহিত্য -সমাজ ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলন ও ‘শিখা ’ গোষ্ঠী প্রধানত কাজী আবদুল ওদুদেরই চিন্তা ও প্রেরণা থেকে পেয়েছিল প্রাণ-পাথেয়।

মূলত আবদুল ওদুদ সমাজ সংস্কার চেয়েছিলেন, চেয়েছিলেন গোঁড়ামি থেকে সংস্কার থেকে মুক্ত করে সমাজকে বিশেষ করে মুসলিম সমাজকে মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে।

অন্নদাশঙ্কর রায়ের মতে ,‘তিনি গ্যেটের শিষ্য ছিলেন; মানবাত্মার অপরিসীম বিকাশ-সম্ভাবনায় ছিল তার বিশ্বাস; এই বিকাশের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই তিনি ‘বুদ্ধির মুক্তি’আন্দোলন পরিচালনা করেছিলেন এবং সে কাজ রাজা রামমোহনের কাজের সঙ্গে তুলনীয় ।

মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র শিখায় তাঁর কয়েকটি লেখা ছাপা হয়। তার এই মুক্তবুদ্ধির চর্চা করে তাকে নানা নানাভাবে প্রতিবন্ধকতার সন্মুখীন হয়েছে। তিনি নিরুপদ্রব থাকতে পারেননি সমাজের কূপমন্ডূক শ্রেণী তার ও মুসলিম সাহিত্য সমাজের বিরুদ্ধাচারণ করেন। কাজী সাহেবের বিরুদ্ধেও অনেক প্রচার হয়। তার লেখার সমালোচনা করেও পত্রিকায় অনেক লেখা ছাপা হয়।

রবীন্দ্র গবেষক ও অনুসারী

কাজী আবদুল ওদুদ ছিলেন একজন রবীন্দ্র গবেষক ও অনুসারী। তিনি বরীন্দ্রনাথের সমালোচনার জবাবে নানা প্রবন্ধ ও আলোচনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি তার ছোটবেলার কথা উল্লেখ করে বলেন, ছোটবেলায় এক হিন্দুর বাড়িতে তিনি রবীন্দ্রনাথের নোবেল প্রাইজ পাবার পূবেই গীতাঞ্জলির গানগুলো শুনতেন সেই থেকে তিনি রবীন্দ্রনাথের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েন যা তার আজীবন বিদ্যমন ছিল। পরবতীকালে তিনি রবীন্দ্রনাথের ওপর রবীন্দ্র কাব্যপাঠ, রবীন্দ্র প্রতিভা ও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ (২ খ- ) বই লিখেন।

জীবনের শেষ দিনগুলো

১৯৫৫ সালে স্ত্রীর মৃত্যুর পর প্রকৃত অর্থে তিনি নিসঙ্গ হয়ে পড়েন। তারপরও তিনি কাজ করেছেন। গ্যেটে রবীন্দ্রনাথ এবং হযরত মুহম্মদ সাঃ এর জীবনী ছাড়াও তিনি দুই খ-ে পবিত্র কোরানের অনুবাদ করেন। এছাড়া ব্যবহারিক শব্দকোষ নামক অভিধানও রচনা করেন। ১৯৬৭ সাল থেকেই তার শরীর ভেঙ্গে পড়ে। পরিবার-পরিজন আর নিকট আত্মীয়হীনতা তাকে মানসিকভাবেও কাবু করে ফেলে। তিনি যেন এক প্রকার নির্বাসিত জীবন-যাপন করতে থাকেন। একমাত্র মেয়ে স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় থাকেন। এক ছেলে থাকে বোম্বে আর এক ছেলে কানাডায় । ফলে নিসঙ্গতা তাকে অনেক বিপর্যস্ত করে ফেলে। ১৯৬৫ সালের ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ তাকে উদ্বিগ্ন করে। তারপরও শেষ বয়সে তিনি তার স্মৃতি কথা একজন খাঁটিয়ে সাহিত্যিকের কথা বইটির কাজ শুরু করেন। তার কন্যাসম সন্ধ্যা ঘোষকে দিয়ে তিনি তা শুরু করেছিলেন। তিনি মুখে মুখে বলে যেতেন আর সন্ধ্যা ঘোঘ লিখতেন। এভাবে ৫ মে পর্যন্ত কাজ চলে। কিন্তু অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় তিনি প্রায় কয়েকদিন অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকেন। মৃত্যুকালে শয্যাপাশে তাঁর কোন সন্তান ছিল না। তার মৃত্যুর পঁচিশ মিনিট পর ঢাকা থেকে তাঁর মেয়ে তাঁর শিয়রে দাঁড়ান। ১৯ মে ১৯৭০ নিসঙ্গ অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ২০ মে গোবরা গোরস্তানে তাকে দাফন করা হয়।

কলকাতা ও ঢাকার দৈনিক পত্রিকায় তার মৃত্যু সংবাদ গুরুত্বসহকারে ছাপা হয়। ২১ মে ‘দৈনিক পূর্বদেশ’ তার সম্পর্কে দীর্ষ সম্পাদকীয় প্রকাশ করে। এতে বলা হয়:

...পূর্ব বাংলায় আজ যে মুক্তবুদ্ধি ও মুক্ত-সংস্কৃতির আন্দোলন, এ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ হওয়ার গৌরব নিঃসন্দেহে কাজী আবদুল ওদুদের প্রাপ্য। কাজী আদুল ওদুদের তিরোধানের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যের অঙ্গন থেকে মুক্তবুদ্ধি ও চিন্তার যে ব্যক্তিত্বশালী মননশীল মানুষটির তিরোধান ঘটল, তার অভাব সহসা পূর্ণ হওয়ার মতো নয়।

কাজী আবদুল ওয়াদুদ জ্ঞান, মুক্তবুদ্ধির চর্চা আর সমাজ সংস্কারে তার জীবন উৎসর্গ করে গেছেন্ মানবতাই ছিল তার প্রধান ধর্ম । অত্যন্ত নিরংকার আর অমায়িক লোক ছিলেন তিনি। মানুষকে অকাতরে দান করতেন। মুক্ত বুদ্ধির আন্দোলনের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাকে বাঙলার সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম ভাবুক ও চিন্তাবিদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাঁর সম্পর্কে সৈয়দ আলী আহসান বলেন

কাজী আবদুল ওদুদ ছিলেন তার সময়কালের একজন প্রতাপান্বিত পুরুষ। প্রতাপের কোন প্রকাশ তার মধ্যে ছিল না। অর্থাৎ তাঁর কোন অহমিকা ছিল না কিন্তু তাঁর কথা বলায় , যুক্তির প্রতিষ্ঠায় এবং প্রতিপক্ষের সম্মুখীন হবার পদ্ধতিতে একটা বলিষ্ঠ প্রতাপ সহজেই দৃষ্টিগোচর হতো।

উত্তরাধিকার সূত্রেই আভিজাত্য তিনি লাভ করেছিলেন। এই বিরল মনীষী তার দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও সাধনা করে গেছেন, করে গেছেন রবীন্দ্র চর্চা কিন্তু তেমন কোন স্বীকৃতি তার কপালে জোটেনি। মৃত্যুও মাত্র নয়দিন আগে তিনি শিশির কুমার পুরস্কার পান। একবারে নিঃস্ব হয়ে মারা যান। তার মৃত্যু সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শী আজহারউদ্দিন খান লিখেছেন-

পুরস্কারের একহাজার টাকার কিছু অংশ দান খয়রাত করেছিলেন, কিছু তিনি নিজের কাফনের জন্য রেখেছিলেন। তিনি নিসঙ্গ ছিলেন একথা জানতাম কিন্তু তিনি যে এরকম নিঃস্ব ছিলেন আমরা কেউই তার জীবিতকালে জানতাম না যদি না মৃতদেহ সৎকারের সময় অর্থের প্রশ্ন উঠত। ।

একটি পুরস্কার ছাড়া আর কোন প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কার তার ভাগ্যে জোটেনি। কালের এক বিরল মনীষী এভাবেই অবহেলায় আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিয়েছেন। তার মতো বিরলপ্রজ ব্যক্তিত্ব ও প্রতিভাকে আমরা যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারিনি এ আমাদের ব্যথতা।

nurquamrunnaher@yahoo.com

প্রকাশিত বই

উপন্যাস-নাটক

মীর পরিবার (গল্প সংকলন, ১৯১৮)

নদীবক্ষ (উপন্যাস, ১৯১৯)

পথ ও বিপথ (একাঙ্ক নাটক, ১৩৪৬ বাংলা)

আজাদ (উপন্যাস, ১৩৫৫ বাংলা)

তরুণ (গল্প ও নাটিকা সংকলন, ১৩৫৫)

প্রবন্ধ, সমালোচনা, লিখিত ভাষণ

নবপর্যায় (প্রবন্ধ সংকলন)

রবীন্দ্র কাব্যপাঠ (সমালোচনা)

নবপর্যায় (প্রবন্ধ সংকলন) ২ খ-

সমাজ ও সাহিত্য (প্রবন্ধ সংকলন)

আজকার কথা (প্রবন্ধ সংকলন)

রবীন্দ্র প্রতিভা (সমালোচনা)

হিন্দু-মুসলমান বিরোধ (নিজাম বক্তৃতা)

স্বাধীনতা দিনের উপহার (প্রবন্ধ-কবিতা-সংকলন)

ঋঁহফধসবহঃধষং ড়ভ ওংষধস (বক্তৃতা)

শাশ্বত বঙ্গ (নির্বাচিত সংকলন)

বাংলার জাগরণ (লিখিত অভিভাষণ)

ঝঃধঃব ধহফ খরঃবৎধঃঁৎব (বক্তৃতা)

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ (সমালোচনা, ২ খ-)

শরৎচন্দ্র ও তারপর (শরৎ স্মৃতি বক্তৃতামালা)

জীবনীসাহিত্য ও বিবিধ রচনা

কবিগুরু গ্যাটে

জীবনী ও সাহিত্য পরিচয় (২ খ-)

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও ইসলাম (জীবনী ও ইসলাম প্রসঙ্গ)

পবিত্র কুরআন অনুবাদ (১ম ও ২য় ভাগ)

ব্যবহারিক শব্দকোষ অভিধান (২ খ-)

একজন খাটিয়ে সাহিত্যিকের কথা (অসমাপ্ত আত্মকথা, অপ্রকাশিত)

নানাকথা (দিনলিপি)

দেশের দুঃখ (অনুবাদ)

ঈৎবধঃরাব ইবহমধষ (নির্বাচিত অনুবাদ)

পাঠ্যপুস্তক

প্রবেশিকা, সোপান, সুকুমার পাঠ, মক্তব সাহিত্য