১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অপ্রতিরোধ্য নেইমার-সুয়ারেজে জয় বার্সিলোনার

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সেরা তারকা লিওনেল মেসি নেই তো কী হয়েছে! নেইমার ও লুইস সুয়ারেজ ধারাবাহিকভাবে যে দুর্দান্ত পারফর্মেন্স প্রদর্শন করে চলেছেন তাতে বার্সিলোনাও রীতিমতো উড়ছে। এই প্রমাণ আরও একবার মিলেছে। বুধবার রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফুটবলে গ্রুপপর্বের ম্যাচে ক্যাটালানরা সহজেই ৩-০ গোলে পরাজিত করে বেলারুশের ক্লাব বাটে বরিসভকে।

‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে বার্সার হয়ে জোড়া গোল করেন ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক নেইমার। অপর গোলটি করেন উরুগুইয়ান তারকা সুয়ারেজ। গ্রুপের প্রথম চার ম্যাচ শেষে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বার্সা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা রোমা ও বেয়ার লেভারকুসেনের সঙ্গে তাদের পয়েন্ট ব্যবধানও অনেক। ৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে ইতালিয়ান ক্লাব রোমা। লেভারকুসেন তৃতীয় স্থানে আছে ৪ পয়েন্ট নিয়ে। এরপরও অবশ্য অঙ্কের মারপ্যাঁচের কারণে শেষ ষোলো নিশ্চিত হয়নি বার্সার। তবে এক পা দিয়ে রেখেছে বলা যায়। নিজেদের মাঠ ন্যুক্যাম্পে অতিথি বরিসভকে দাঁড়াতেই দেয়নি আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সিলোনা। ম্যাচের ৭৭ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের অধীনে রাখেন লুইস এনরিকের শিষ্যরা। গোটা ম্যাচে বার্সার রক্ষণভাগে মাত্র চার-পাঁচবার আক্রমণ চালাতে দেখা গেছে বরিসভের ফরোয়ার্ডদের। ৩০ মিনিটে বার্সার পক্ষে প্রথম গোলটি নেইমার করেন পেনাল্টি থেকে। বার্সা প্রথমার্ধ শেষ করে এই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে। বিরতির পর ৬০ মিনিটে ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটির নেপথ্যের কারিগরও নেইমার। তাঁর পাস থেকে বল পেয়েই গোল করেন সুয়ারেজ। ৮৩ মিনিটে আরেকটি গোল করে বার্সার সহজ জয় নিশ্চিত করেন নেইমার। মেসিকে ছাড়া বার্সার সর্বশেষ পাঁচটি ম্যাচে ১৩ গোল এসেছে নেইমার-সুয়ারেজ জুটি থেকে। তবে মেসির অভাব যে পূরণ হওয়ার নয়, সেটা ম্যাচ শেষে আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন স্বয়ং নেইমার। তিনি বলেন, অবশ্যই আমরা লিওকে মিস করি। তিনি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। কিন্তু আমি এখন একটা চমৎকার সময় কাটাচ্ছি। ক্লাবের সেরা তারকাকে সম্মান করা নেইমার ইউরোপসেরার প্রতিযোগিতায় গোলের হিসাবে ছাড়িয়ে গেছেন স্বদেশী সাবেক তারকা রোনাল্ডোকে। পরশু রাতে করা প্রথম গোলটি ছিল নেইমারের চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ১৫ নম্বর গোল। আর এবারের আসরে প্রথম। ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ফুটবলার রোনাল্ডোর চ্যাম্পিয়ন্স লীগে গোলসংখ্যা ১৪টি। ইতালির ক্লাব ইন্টার মিলানের হয়ে একটি ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ১৩টি গোল করেছিলেন তিনি। শৈশবের নায়ককে ছাড়িয়ে যাওয়ার দিনে পরে আরেকটি গোল করেন নেইমার। ২০১৩ সালের জুলাইয়ে ক্যাটালান ক্লাবটিতে যোগ দেয়ার পর চ্যাম্পিয়ন্স লীগের প্রথম মৌসুমে ৪ গোল করেন তিনি। গত মৌসুমে বর্তমানের সেরা দুই তারকা ক্লাব সতীর্থ লিওনেল মেসি ও রিয়াল মাদ্রিদের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১০ গোল করেন।

গ্রুপের আরেক ম্যাচে ইতালিয়ান ক্লাব এ এস রোমা ৩-২ গোলে হারায় জার্মানির বেয়ার লেভারকুসেনকে। বে এ্যারানায় ২০ অক্টোবরের ম্যাচের মতো এটিও ছিল তুমুল নাটকীয়তা ও উত্তেজনায় ভরপুর। ম্যাচ শুরুর ১০০ সেকেন্ড না পেরোতেই গোল! রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামের প্রায় ৩৭ হাজার দর্শকের সবাই তখনও ঠিকমতো নিজেদের আসন খুঁজে পেয়েছে কি-না সন্দেহ। এরই মধ্যে হতভম্ব হয়ে তারা দেখলেন, উল্লাস করছেন মোহামেদ সালাহ! লেভারকুসেনের বিরুদ্ধে রোমা এগিয়ে গেছে ১-০ গোলে। এমন রোমাঞ্চ দিয়েই ম্যাচটি শুরু, যে রোমাঞ্চের রেশ থাকে ম্যাচজুড়েই। আধা ঘণ্টার মধ্যে স্কোরলাইন ২-০। বিরতির পর ছয় মিনিট না যেতেই আবার সেটি বদলে গেল ২-২। দারুণভাবে রেসে ফেরে লেভারকুসেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য রোমাই জিতেছে ৮০ মিনিটে পাজিনিকের পেনাল্টি গোলে। তবে ম্যাচটা ফুটবল ভক্তদের মণিকোঠায় থেকে যাবে অনন্তকাল। দু’দলের প্রথম লেগের ম্যাচটিও ছিল বর্ণনাহীন। লেভারকুসেনের বে এ্যারানায় আট গোলের চরম নাটকীয়তার ম্যাচটি শেষ হয়েছিল ৪-৪ ড্রতে। পেন্ডুলামের কাঁটার মতো ম্যাচের ভাগ্য দুলেছে ৯০ মিনিট ধরে। আর স্কোরলাইনটা রং বদলেছে গিরগিটির মতোÑ ২-০, ২-২, ২-৪, ৪-৪! ওই ম্যাচে ৮ আর এবার ৫, দুই ম্যাচে ১৩ গোল উপহার দিল জার্মানি ও ইতালির দুই বড় ক্লাব।

‘এইচ’ গ্রুপ থেকে সবার আগে সেরা ষোলোতে পৌঁছেছে রাশিয়ান ক্লাব জেনিট সেইন্ট পিটার্সবার্গ। পরশু রাতে তারা ২-০ গোলে হারায় ফ্রান্সের লিওকে।