১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুন্সীগঞ্জে ড্রেজিংয়ের নামে কাটা হচ্ছে ফসলি জমি

  • আতঙ্কে কৃষক

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের মেঘনায় ড্রেজিং করে কেটে ফেলা হচ্ছে ৩ ফসলী কৃষি জমি। যেখানে বছরে তিনবার বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলাতেন কৃষকরা, সেই জমি সংলগ্ন মেঘনায় ড্রেজিং করে সুকৌশলে কেটে নেয়া হচ্ছে কৃষকের এ সকল তিন ফসলী জমি। ড্রেজিংয়ের কারণে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এসব কৃষি জমি। এতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে শতাধিক কৃষককে। জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার সীমানাবর্তী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার চরকিশোরগঞ্জ ও চরহোগলা গ্রামের মেঘনা নদী তীরবর্তী শত শত একর ফসলী জমি রয়েছে। এখানে বছরে ৩ বার বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন হয়। নদী ড্রেজিংয়ের নামে অসহায় কৃষকদের এসব ফসলী জমি অত্যন্ত সুকৌশলে কেটে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় বালুদস্যু নান্নু মিয়া, ইমান হোসেন ও হারুনুর রশিদ গংরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের ওই এলাকার কৃষক। ড্রেজিং এ বাধা দিলে চলে নানা ধরনের নির্যাতন।

থানায় অভিযোগ দেয়ারও সাহস পাচ্ছে না কৃষক। দেশী বিদেশী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে কাটা হয় কৃষকদের এ সকল তিন ফসলী জমি। কেউ বাধা দিতে এলে অস্ত্র তাক করে দেয়া হয় প্রাণনাশের হুমকি। এতে এ এলাকার শতাধিক কৃষককে এক রকম জিম্মি অবস্থায় থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই সকল জমির মালিক মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা। গত কয়েক দিনের অব্যাহত ড্রেজিংয়ে ৪শ থেকে সাড়ে ৪শ ফুট কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জমির মলিক সুরুজ মিয়া, সাহেব আলী, কাশেম মোল্লা, সাইজ উদ্দিন মাদবর ও রব মোল্লাসহ প্রায় শতাধিক কৃষক রয়েছে চরম আতঙ্কে। যে কোন সময় ড্রেজিংয়ের কারণে বিলীন হয়ে যেতে পারে অবশিষ্ট কৃষিজমি। জমির মালিকরা জানান, এলাকার প্রভাবশালী নান্নু মিয়া, ইমান হোসেন ও হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে কাটা হচ্ছে আমাদের এ সকল কৃষিজমি। তাদের বাধা দিলে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। তাই ভয়ে আমরা কেউ কোন অভিযোগ করতে পারছি না। উপজেলা কর্মকর্তাদের কাছে গিয়েও কোন লাভ হয়নি। তারা বলেন, কৃষিজমি কাটা হচ্ছে না, নদীতে ড্রেজিং করা হচ্ছে। এখন আমরা কার কাছে যাব, কে রক্ষা করবে আমাদের পূর্বপুরুষদের এসব কৃষিজমি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষিজমিগুলো কেটে ফেলার করুণ দৃশ্য। বালুদস্যুরা দেশী-বিদেশী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ব্যাপক মহড়া দিচ্ছে প্রকাশ্যে। জমি সংলগ্ন নদীতে জ্রেজার বা বলগ্রেট দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে নদী থেকে। ড্রেজিংয়ের ফলে পাশের তিন ফসলী জমিগুলো আস্তে আস্তে ভেঙে পড়ছে নদীতে। এভাবেই বালুদশ্যুরা বিলীন করে দিচ্ছে ওই এলাকার তিন ফসলী জমিগুলো। কৃষিজমি কাটার বিষয়টি অস্বীকার করে বালু ইজারাদার হারুনুর রশিদ বলেন, সরকার থেকে ইজারা নিয়ে নদীতে ড্রেজিং করা হচ্ছে। কোন ধরনের অস্ত্রশস্ত্র নেই।

আমরা তো সন্ত্রাসী না, যে আমাদের কাছে অস্ত্র থাকবে। আর কৃষকরা যে অভিযোগ করেছে তার কোন ভিত্তি নেই। সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হাসান বলেন, ড্রেজিংয়ে অনিয়ম হচ্ছে এমন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসারকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার প্রস্তুতিও চলছে। অচিরেই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।