১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশে মধ্যবিত্তের সংখ্যা গত দেড় দশকে বেড়েছে দ্বিগুণ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাড়ছে মধ্যবিত্ত মানুষের সংখ্যা। বর্তমানে দেশে মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মধ্যবিত্ত। অব্যাহতভাবে এই হার বেড়ে চলেছে। ২০৩৩ সালের মধ্যে মোট জনগোষ্ঠীর এক-তৃতীয়াংশ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হবে। এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)। বৃহস্পতিবার সংস্থাটি গত এক বছরের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ বিষয়ক এক সেমিনারে এসব তথ্য জানায়। সকালে বিআইডিএসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সেমিনারে তিনটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপিত হয়।

বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. কেএস মুরশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন। অনুষ্ঠানে একটি অধিবেশনে চারটি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণী নিয়ে উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে ড. বিনায়ক সেন বলেন, মধ্যবিত্ত শ্রেণী নির্ধারণে সর্বজনস্বীকৃত কোন সংজ্ঞা নেই। সাধারণত কারও দৈনিক আয় দুই ডলার থেকে তিন ডলার হলে সে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। এ আয় তিন ডলার থেকে চার ডলারের মধ্যে হলে ওই ব্যক্তি উচ্চ মধ্যবিত্তের অন্তর্ভুক্ত হবেন। এ হিসেবে ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে যেখানে ৯ শতাংশ জনগোষ্ঠী মধ্যবিত্ত ছিলেন এখন দেড় দশক পরে তা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালে তা ২৫ শতাংশ এবং ২০৩৩ সালে ৩৩ শতাংশ মানুষ মধ্যশ্রেণীভুক্ত হবেন। তিনি বলেন, ভারতে বর্তমানে মধ্যবিত্ত শ্রেণী ২৪ দশমিক ১ শতাংশ, দক্ষিণ এশিয়ায় সামগ্রিকভাবে এ সংখ্যা ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ। অপরদিকে চীনে ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তা ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ ও লাতিন আমেরিকা ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ। তিনি আরও বলেন, এখন বড় ধরনের আন্দোলন কার্যক্রম শুধু শ্রমিক শ্রেণীর ওপর নির্ভর করে না বরং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অংশগ্রহণের ওপরও তা নির্ভর করে।

মধ্যবিত্ত শ্রেণী এখন আর শুধু চাকরি নির্ভর নয় উল্লেখ করে বিনায়ক সেন বলেন, মধ্যবিত্তের এক পঞ্চমাংশ এখন পেশায় ব্যবসায়ী। রেমিটেন্স আয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভূমিকা একবারেই কম থাকায় গ্রামীণ আয়-বৈষম্য কিছুটা বেড়ে যাচ্ছে বলেও বিনায়ক সেন তার উপস্থাপনায় উল্লেখ করেন।

মধ্যবিত্তের আকার বড় হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই হয় উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, মধ্যবিত্তের সম্পর্কে আমাদের তথ্য জানা দরকার। মধ্যবিত্ত যত শক্তিশালী হবে অর্থনীতি ততই টেকসই হবে। এ জন্য সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অবস্থার পরিবর্তন করে উপরের ধাপে নিতে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের দেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্যে ভিন্নতা রয়েছে। যে প্রকল্প হাওরের জন্য প্রযোজ্য তা পার্বত্য এলাকার জন্য প্রযোজ্য নাও হতে পারে। আমাদের এলাকাভিত্তিক প্রকল্প হাতে নিতে হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে উন্নীত করতে আমাদের এখনও অনেক কাজ করতে হবে। এখনও আমরা বেদে জনগোষ্ঠীর জন্য কিছু করতে পারিনি। তাদের মূল স্রোতে আনতে পারিনি। তবে এসব কাজ করতে হলে রাজস্ব আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, সামান্য কিছু সংস্কার সাধন করলে রাজস্ব আহরণ আশি হাজার থেকে এক লাখ কোটি টাকা বেড়ে যাবে।