১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আগামী ৫ বছরে সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় হবে ২ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা

  • সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্রের প্রকাশনা অনুষ্ঠান

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আগামী পাঁচ বছরে (২০১৬-২০) সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় হবে ২ লাখ ২৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসা হবে। এমনই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্রে। এটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন, ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর পাওলিন থমাসিস, ডিএফআইডির কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ সারা কুক ও পরিকল্পনা সচিব সফিকুল আজম।

অনুষ্ঠানে কৌশলপত্রের মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম। বক্তব্য রাখেন, বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. বিনায়ক সেন ও ঢাবির অর্থনীতির প্রফেসর ড. এমএম আকাশ।

ড. শামসুল আলম জানান, অর্থবছর ১৬তে সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, অর্থবছর ১৭-তে প্রস্তাবিত বরাদ্দ হচ্ছে ৪৩ হাজার ২৭০ কোটি টাকা, অর্থবছর ১৮-এ ৪৫ হাজার ৯১০ কোটি টাকা, অর্থবছর ১৯-এ ৪৮ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা এবং কৌশলপত্রের শেষ অর্থবছর ২০২০-এ ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৫১ হাজার ৬১০ কোটি টাকা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ১০ বছর মেয়াদী প্রেক্ষিত, সপ্তম পঞ্চ বার্ষিকসহ দীর্ঘ মেয়াদে সব পরিকল্পনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে দারিদ্র্য বিমোচনে। অব্যাহতভাবে এমন উদ্যোগ নেয়ার কারণে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ এখন উদাহরণ। আগামী দিনে অতিদারিদ্র্য নিরসনে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। বিছিন্ন এবং ক্ষুদ্র গোষ্ঠী বিশেষ করে বেঁদে, দলিত সম্প্রদায়, হাওড়বাসী যারা অতিদরিদ্র তাদের জন্য আলাদা কর্মসূচী নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনের জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে। তবে এজন্য বিদেশী সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়িয়ে সেই ঘাটতি মেটাতে হবে। সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল ঘোষণা করেছে। তবে একটি বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। বেশি লোককে দেব না, অর্থের পরিমাণ বাড়াতে হবে।

আহম মুস্তফা কামাল বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা খুবই সাময়িক ব্যবস্থা। এর আওতায় থাকা উপকারভোগীদের জন্য একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। সরকারের নানা ধরনের উদ্যোগের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে দারিদ্র্য শূন্য হয়ে যাবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশ্বে উদাহরণ। গত ছয় বছর ধরে ছয় শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ২০৫০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি পাঁচ শতাংশের নিচে নামবে না। সব মিলে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ একটি মিরাকেল।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি পুষ্টি এবং গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। এটি করতে না পারলে কৌশলপত্রটি ব্যর্থ হতে পারে।