১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশ আজ গভীর সঙ্কটে ॥ খালেদা জিয়া

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সরকার প্রধান অচিরেই আরেকটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেয়ার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার পর দেশ আজ এক সর্বগ্রাসী কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থায় বিপর্যস্ত। যার ফলশ্রুতিতে শাসকদলের ক্ষমতানির্ভর দম্ভ উল্লাসিকতা আর প্রশাসনের একাংশের সঙ্গে মিলেমিশে একনায়কতান্ত্রিক আচরণে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। সবাই এখন উপলব্ধি করতে পারছেন যে, এমনি ধরনের একটি পরিস্থিতিতে দেশ আজ গভীর সঙ্কটে নিপতিত। বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। এছাড়া তিনি অবিলম্বে দলের কারাবন্দী নেতাদের মুক্তি দাবি করেন।

খালেদা জিয়া বলেন, দেশে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নেই, এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দু’জন সদস্য মাত্র ১৩ দিনের ব্যবধানে দুর্বৃত্তের হাতে নিহত হয়েছেন। অতি সম্প্রতি দু’জন বিদেশীর দুঃখজনক ও মর্মান্তিক হত্যাকা-ের পর একজন প্রকাশকও হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন। আমি এসব ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করি। ঘরে-বাইরে এখন কেউই নিরাপদ বোধ করছেন না। চারদিকে আতঙ্ক, উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ গোটা জাতিকে গ্রাস করেছে, যেন সামনে ঘোর অন্ধকার।

খালেদা জিয়া বলেন, সরকার অবনতিশীল আইন পরিস্থিতির উন্নতিকল্পে উপযুক্ত পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন কারাগারে থেকে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরার পর তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠিয়ে দেয়ায় আমি বিস্মিত। এমন একজন অসুস্থ রাজনীতিককে কারাগারে পাঠানো সরকারের চরম অমানবিক ও অসহিঞ্চু দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় ছাড়া আর কিছু নয়। কারাগারে প্রেরণ করার মধ্য দিয়ে তার জীবনে স্বাস্থ্য ঝুঁকিকে বাড়িয়ে তুলেছে। বুধবার দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে আদালতে হাজিরা দিতে গেলে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দকে এভাবে একের পর এক কারাগারে বন্দী রাখার মধ্য দিয়ে সরকারের দুরভিসন্ধি রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, আমরা যখন সারাদেশে তৃণমূল পর্যায় থেকে কাউন্সিল করে দলকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি, তার পরপরই সারাদেশে দলের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করা হচ্ছে। আজ বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী মামলা, চার্জশীট, কারাজীবন আর সরকারের দমননীতির শিকারে পরিণত হয়েছেন। সরকার জনগণের কাঁধের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছে। তারা তাদের অপশাসনকে প্রলম্বিত করার আকাক্সক্ষায় দেশে এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতি দেশ-জনগণ-গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।

আমি বারবার জাতীয় সঙ্কট মোকাবেলায় জরুরীভাবে জাতীয় সংলাপের আহ্বান জানিয়েছি আন্তরিকভাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, সরকার আমাদের সে দাবির প্রতি এখন পর্যন্ত কর্ণপাত করেনি। আমরা আশা করব- সরকার শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে দেশের এই ক্রান্তিকালে সঙ্কট উত্তরণে গণতন্ত্র বিকাশের ক্ষেত্রকে সঙ্কোচন না করে একটি জাতীয় সংলাপের সূচনার পরিবেশকে উন্মুক্ত করবে দেশ ও জাতির স্বার্থেই।