২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শ্যালা নদীর ভেতর দিয়ে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল বন্ধের দাবি

শ্যালা নদীর ভেতর দিয়ে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল বন্ধের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ পুরোপুরি সচল করে সুন্দরবনের শ্যালা নদীর ভেতর দিয়ে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল বন্ধ করতে না পারলে মূল্যবান এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা যাবে না। বিকল্প এই নৌপথ সচলের পথে প্রধান বাধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অপরিকল্পিত ফয়লাহাট স্লুইসগেট ও ২৩৩টি সরকারী খালের মুখে শত শত অবৈধ বাঁধ ও সহস্রাধিক চিংড়িঘের। কিন্তু সরকারী সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও পাউবো তাদের সøুইসগেট অপসারণ করছে না। একইভাবে স্থানীয় প্রশাসন অবৈধ বাঁধ ও চিংড়িঘের উচ্ছেদ করছে না। শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে এক অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট নাগরিকেরা এসব কথা বলেন। নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিপিএসআরআর) ‘সুন্দরবন রক্ষায় মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথের অপরিহার্যতা’ শীর্ষক এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে বছরব্যাপি ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নৌপথটি আংশিক সচল করেছে। কিন্তু ফয়লাহাট স্লুইসগেট, খালের বাঁধ ও চিংড়িঘেরের কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে দ্রুত পলি পড়রছ। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে মারাত্মক নাব্যসংকট সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য নৌপথটি পুরোপুরি সচল হচ্ছে না এবং যেকোনো মুহূর্তে ফের বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে শ্যালা নদীর ভেতর দিয়ে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে নিকট ভবিষ্যতে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সুন্দরবন রক্ষায় ‘স্টেট এমারজেন্সি (রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা)’ ঘোষণা করে ওই এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির উপদেষ্টা প্রবীণ রাজনীতিবিদ মনজুরুল আহসান খানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন- সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে। বক্তব্য রাখবেনÑ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মীর তারেক আলী, পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ম ইনামুল হক, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি তুসার রেহমান, প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ইফমা হুসেইন, সেকেন্দার হায়াত এবং রফিকুল ইসলাম সবুজ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাতীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল।

লিখিত প্রবন্ধে আশীষ কুমার দে জরুরি বাস্তবায়নের জন্য ৬ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন। সেগুলো হচ্ছে- অবিলম্বে রামপাল-মংলায় ‘স্টেট এমারজেন্সি’ (রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা) ঘোষণা ও সেনা মোতায়েন, মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি ও অসহযোগীতা করে সুন্দরবন ধ্বংসসহ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের অপচেষ্টায় লিপ্তদের শাস্তির আওতায় আনতে একটি নিরপেক্ষ জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন, সেনাবাহিনীর সহায়তায় ফয়লাহাট স্লুইসগেটসহ সব খালের বাঁধ অপসারণ ও চিংড়িঘের উচ্ছেদ, পাউবো’র অপরিকল্পিত প্রকল্পসমূহ স্থগিত ও প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকান্ড বন্ধ, ফয়লাহাট স্লুইসগেট অপসারণ না করায় সরকারী সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনকারী পাউবো কর্মকর্তাদের বরখাস্ত এবং প্রকল্প-সংলগ্ন সব নদী-খাল দ্রুত খনন করে পানিপ্রবাহ সৃষ্টি ও এসব কাজে সেনাবাহিনীকে সরাসরি সম্পৃক্তকরণ।