২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা

বিভাষ বাড়ৈ ॥ জাতীয় শিক্ষানীতিতে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতায় পড়েছে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষামূলক বেশকিছু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণী চালু হলেও অর্থ ও শিক্ষক সঙ্কট, অবকাঠামোর অভাব ও শিক্ষকদের মর্যাদা অক্ষুণœ রাখাই নীতি বাস্তবায়নে প্রধান অন্তরায় হয়ে সামনে এসেছে। নীতি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় সঙ্কট হয়ে দাঁড়িয়েছে সারাদেশের শত শত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভয়াবহ অবকাঠামো সঙ্কট। খোদ রাজধানীতেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা বেহাল। বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শিশুদের উপযোগী শ্রেণীকক্ষ। যাদের আছে তাও আকারে ছোট। অষ্টম শ্রেণী তো পরের কথা, ১৫ হাজার প্রধান শিক্ষকসহ অর্ধ লক্ষ শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত কার্যক্রমেই পড়েছে সঙ্কটের মুখে।

শিক্ষানীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা চালুর সরকারী উদ্যোগের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে এমন উদ্বেগজনক চিত্রই বেরিয়ে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, অসংখ্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দখলসহ নানা সঙ্কটের চিত্র বর্তমানের পঞ্চম শ্রেণী চালু রাখাই দায়। তবে এমন জটিলতা উত্তরণের চিন্তা ছাড়াই আগামী ২০১৮ সাল থেকে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। ফলে আগামী ৩ বছর পরই বিস্তৃত হবে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার পরিধি। নতুন নিয়মে প্রাথমিক শিক্ষা হবে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত। প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন নিয়ে মন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন করছে। দেশে এখন প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই বলছেন, অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। জটিলতা এড়ানোর জন্য বর্তমানে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত যেভাবে রয়েছে ঠিক সেভাবে রেখেই তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হচ্ছে। অর্থাৎ যেসব হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান করানো হচ্ছে সেসব প্রতিষ্ঠানেও অষ্টম শ্রেণী থাকবে, শুধু অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ন্ত্রণ করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বর্তমানে হাইস্কুলগুলোতে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর বাইরে যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন কিলোমিটারের মধ্যে হাইস্কুল নেই শুধু সেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ, সপ্তম এবং অষ্টম শ্রেণীর অনুমোদন দেয়া হবে। ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৮শ’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীর অনুমোদন দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে প্রায় ৫শ’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান করানো হচ্ছে। কিন্তু এসব বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর পাঠদানের জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়নি। কোন কোন বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষকও দেয়া হয়নি। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে এসব শ্রেণী চালু রাখাই অসম্ভব হয়ে পড়ছে। জাতীয় শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা হবে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত। প্রায় পাঁচ বছর আগে শিক্ষানীতি জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। ইতোমধ্যে শিক্ষানীতির বিভিন্ন অংশ বাস্তবায়ন শুরু হলেও এর উল্লেখযোগ্য অংশ প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত নির্ধারণ নিয়ে বেধেছে জটিলতা। গত ৫ বছরেও এর কোন কূল-কিনারা করা যায়নি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব সমস্যার নানাদিক তুলে ধরে বলেছেন, জাতীয় শিক্ষানীতিতে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। অর্থ সঙ্কট, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকা, শিক্ষক সঙ্কট ও শিক্ষকদের মর্যাদা অক্ষুণœœ রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব সমস্যা চিন্তিত করা হয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

প্রায় অর্ধলক্ষ শিক্ষকের পদ শূন্য ॥ দেশের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনও ৪৮ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রায় ১৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষক নেই। নতুন জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য পদের সংখ্যা ২৩ হাজার ৫৪১। এদিকে শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বর্তমানের পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে চলতি অর্থবছরে ১৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এছাড়া বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

রাজধানীতেই বেহাল ॥ ঢাকার বাইরে অবস্থিত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয় প্রায়ই। মাঝে মাঝেই দেখা যায় ভবন নেই, ‘শিশুরা ক্লাস করছে খোলা আকাশের নিচে।’ আবার দেখা যায়, একজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী কয়েকশ’। কয়েক কিলোমিটার নৌকায় পাড়ি দিয়েও স্কুলে শিশুদের যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। এখানেই শেষ নয়। এই মুহূর্তেও দেশের দুই হাজার গ্রামে নেই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। যদিও সরকার ইতোমধ্যেই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়বিহীন দুই হাজার গ্রামের জন্য দুই হাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। যার অর্ধেকেরও বেশিরভাগ কাজ শেষ পর্যায়ে।

শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সন্তানদের পাচ্ছে না সরকারী বিদ্যালয় ॥ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করাতে পারছে না শিক্ষকরা। এ চিত্র রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত প্রায় একই। রাজধানীতে এ চিত্র রীতিমতো ভয়াবহ। মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংযুক্ত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বাদ দিয়ে রাজধানীর বাদী প্রায় তিনশ’ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় টানতে পাছে না শিক্ষিক, মধ্যবিত্ত ও বিত্তশালী পরিবারের সন্তানদের। ফলে বস্তিবাসী আর দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েরাই পড়াশোনা করছেন এই সরকারী স্কুলগুলোতে। সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারী স্কুলের শিক্ষকরাও তাঁদের সন্তানদের কেজি ও প্রাইভেট স্কুলে পড়াশোনা করাচ্ছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষকরা যথেষ্ট যোগ্য। বিনা বেতনে পড়াশোনা হয় বলে শিক্ষিত, উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অভিভাবকরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তাদের ছেলে-মেয়েদের ভর্তি না করানোর একটা মানসিকতা আছে। অভিভাবকদের এই ধরনের মানসিকতায় পরিবর্তন আনা জরুরী। অভিভাবকরা অবশ্য বলছেন, কেজি ও প্রাইভেট স্কুলের তুলনায় মান তুলনামূলক ভাল হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ ও ছুটিতে থাকায় অনেক সরকারী স্কুলেই রয়েছে শিক্ষক সঙ্কট। ফলে একেকজন শিক্ষককে দিনে তিন থেকে পাঁচটি ক্লাসও নিতে হয়। এর ফলে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকদের মনোযোগের অভাব থাকে। তাই সচেতন অভিভাবকরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তাদের ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা করায় না। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলছিলেন, সরকারী স্কুলগুলোর শিক্ষার পরিবেশ আরও শিশুবান্ধব করতে হবে। এছাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষকদের বেতন ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি অভিভাবকদের মানসিকতা বদলাতে হবে।

গবেষণা রিপোর্টও উদ্বেগজনক ॥ বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযানের ‘বাংলাদেশের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থা’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা সবার জন্যে বাধ্যতামূলক করা হলেও নানান সমস্যায় ধুঁকছে এই স্তরের শিক্ষা। বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শিশুদের উপযোগী শ্রেণীকক্ষ। যাদের আছে তাও আকারে ছোট। সরকারী বিদ্যালয় এবং কিন্ডারগার্টেনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ শ্রেণীকক্ষ ধুলাবালি ও ময়লা কাগজপত্রে অপরিচ্ছন্ন।

বেসরকারী বিদ্যালয়ের ৮৪ শতাংশই অপরিচ্ছন্ন। অনেক স্থানে পৌঁছেনি শিশুদের উপযোগী শিক্ষা উপকরণ। সামঞ্জস্য নেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠ্যবই, শিক্ষণ-শিখন উপকরণ এবং শিক্ষাক্রমেও। অন্যদিকে প্রাক-প্রাথমিকেও অব্যাহতভাবে বাড়ছে শিক্ষা ব্যয়। বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণীকক্ষ প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার অনুপযোগী।

প্রতিবেদনে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা উপকরণের স্বল্পতার চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, প্রাক-প্রাথমিকে শিক্ষা চার্ট, খেলনা, শারীরিক কসরতের উপকরণ, চিত্রাঙ্কনের উপকরণ এবং নাচ, গান ও নাটকের সরঞ্জামাদি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ৩৯ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব উপকরণ পাওয়া যায়নি। এছাড়াও শিক্ষাক্রম, পাঠ্যবই এবং শিক্ষণ-শিখন উপকরণের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোন সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্ডারগার্টেনগুলোতে নানা ধরনের বই পড়ানো হলেও প্রয়োজনের তুলনায় কম রয়েছে শিশুদের শিক্ষা উপকরণ। শিক্ষণের অংশ হিসেবে খেলাধুলা এবং আনন্দদায়ক কর্মকা- একেবারেই অনুপস্থিত। ফলে প্রাথমিক শ্রেণীতে পড়ানোর পদ্ধতির সঙ্গে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীতে পড়ানোর পদ্ধতিতে কোনো তফাৎ পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

শিক্ষানীতি প্রণয়নের পর থেকেই বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন, শিক্ষানীতির যত বিষয় আছে তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত নেয়া। এটি বাস্তবায়ন করাই হবে সবচেয়ে কঠিন কাজ। ঘটলও তাই। শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তাই বলছেন, শিক্ষানীতিতে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত করার কথা বলা হয়েছে, যা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত করতে হলে সরকারী ও বেসরকারীসহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ এবং অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। এছাড়া দেশের দুই হাজার ২০০ নিম্নমাধ্যমিক স্কুল চরম বেহাল অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। এগুলোর দিকেও নজর দিতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণীকে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে অবকাঠামো, শিক্ষকদের মর্যাদা ও আর্থিক সংশ্লিষ্টই হচ্ছে প্রধান বাধা।

অষ্টম শ্রেণী চালু, সংশ্লিষ্ট কমিটির নানা প্রশ্ন ॥ এত সীমাবদ্ধতার পরেও দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রায়ই বলছেন, ২০১৮ সাল থেকেই দেশের প্রাথমিক শিক্ষা হবে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত। সেক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে একটি সমাপনী পরীক্ষা হবে। বর্তমানে যেখানে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণী শেষে দুটি সমাপনী পরীক্ষা হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বাস্তবায়ন নিয়ে বেশ কয়েকটি আলোচ্য বিষয় সামনে রেখে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এখনও কোনটিই চূড়ান্ত হয়নি। তবে এটা ঠিক যে, প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত হবে এবং এটি হলে সমাপনী পরীক্ষা একটিই হওয়া উচিত। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত নির্ধারণ করা নিয়ে মন্ত্রণালয়টির সচিবকে প্রধান করে একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছিল ২০১১ সালে। সেই কমিটি যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণী চালু হলে অনেক বিষয়ে জটিলতা তৈরি হবে। এসব জটিলতা আগেভাগে নিরসন করা উচিত।