২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রিজেন্টের ফ্লাইটে ফের সোনা চোরাচালান, এবার বিমান জব্দ

  • সিটের নিচে তল্লাশি চালিয়ে ১৪ কেজি সোনা উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বার বার রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে একই কায়দায় সিটের নিচে লুকিয়ে আনা সোনা ধরা পড়ছে। শুক্রবারও ওই কায়দায় হযরত শাহজালাল (র) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি উড়োজাহাজ থেকে ১৪ কেজি সোনা জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ দল। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। সকাল সোয়া ৮টার দিকে ওই উড়োজাহাজের সিটের নিচে তল্লাশি করে এসব সোনা জব্দ করা হয়। এ নিয়ে এ পর্যন্ত চারবার রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে

সোনা ধরা পড়ার ঘটনা ঘটল। তবে এবার রিজেন্টের ওই উড়োজাহাজটি জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোঃ লুৎফুর রহমান রিজেন্টের সোনা চোরচালানে জড়িত থাকার কথা বিস্তারিত জানান।

জানা যায়, সকাল সোয়া ৮টার দিকে কুয়ালালামপুর থেকে আসা একটি ফ্লাইট বিমানবন্দরে অবতরণের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই উড়োজাহাজে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই উড়োজাহাজের ১৯ (এ) আসনের নিচে তিনটি সারিতে রাখা ১৪ কেজি সোনা জব্দ করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। হলুদ ও কালো রংয়ের স্কচটেপ দিয়ে এসব সোনার বার আটকানো ছিল। ১০ তোলা করে ১২০টি সোনার বার জব্দ করা হয়। জব্দ হওয়া ১৪ কেজি সোনার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকা।

ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনার লৎফুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উড়োজাহাজের সিটের নিচে কিভাবে সোনা এলো এবং কারা তা সেখানে রেখেছে সে বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এভিয়েশন সিকিউরিটিদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে আমার ধারণা। তবে তদন্ত না করে কিছুই বলা যাচ্ছে না। তবে ধারণা যেহেতু ওই সিটের যাত্রী জড়িত নয়, সেহেতু এটা নিশ্চিত বলা যায়, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ম্যানেজমেন্টের লোকজন জড়িত থাকতে পারে কিংবা কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরের হান্ডলিং এজেন্ট বা ক্লিনিং অথরিটির লোকজনের পক্ষেই কেবল সম্ভব ওই জায়গায় সোনা লুকিয়ে রাখা। যা হোক, প্রাথমিক তদন্তের পর যদি মনে হয় রিজেন্ট এয়ারওয়েজ জড়িত তাহলে থানায় মামলা করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বশীল একাধিক কাস্টমস কর্মকর্তা জানান, ওই উড়োজাহাজ শাহজালালে অবতরণ করার পর বে-তে রাখা হয়। ওই জাহাজের সব যাত্রীকেও চেক করা হয়। কারোর কাছে কোন সোনা পাওয়া যায়নি। এতে নিশ্চিত হওয়া যায়, এ সোনার কোন ক্যারিয়ার ছিল না। এর গন্তব্য ছিল হ্যাঙ্গার। সব যাত্রী নেমে যাওয়ার পর উড়োজাহাজটি হ্যাঙ্গারে নিয়ে সোনা খালাস করা হতো, যা কেবল এয়ারলাইন্সের কর্মকতাদের নিয়ন্ত্রণ করার একমাত্র কর্তৃত্ব থাকে।

ওই কাস্টমস কর্মকর্তা জানান, এর আগেও তিনবার রিজেন্ট এয়ারের উড়োজাহাজে বড় বড় চারটি চালান ধরা পড়ে। তখন পুলিশের তদন্তে ওই চোরাচালানে রিজেন্ট এয়ারের ‘বোতল আশীষ’ নামে এক কর্মকর্তার নাম বেরিয়ে আসে। সিঙ্গাপুরে অবস্থানকারী শাহেদ নামে চোরাচালানের এক গডফাদার তখন ওই চালানগুলো ঢাকায় পাঠিয়েছিল বলে গোয়েন্দাদের তদন্তে উঠে আসে। এবারের চালানেও বোতল আশীষের দিকেই গোয়েন্দাদের সন্দেহের তীর।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রিজেন্ট এয়ারের সিইও আশীষ রায় চৌধুরী জনকণ্ঠকে বলেন, তদন্তের আগেই আমাকে কেন এভাবে জড়ানো হচ্ছে। আমাদের কাছে ওই সিটের যাত্রীর নাম আছে। আমরা ওই নাম দিয়ে তদন্তকারীকে সাহায্য করতে পারি। আর কাস্টমস কর্মকর্তারা সাধু নাকি যে, তারা অভিযোগ করলেই সব সত্য হয়ে যাবে?

সিঙ্গাপুরে রিজেন্ট এয়ারের কোন উড়োজাহাজ নিয়ে চোরাচালান বিষয়ক কোন ঝামেলা হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, শাহেদ আমাদের জিএসএ হতে পারে। সে চোরাচালানে জড়িত কি-না সেটা আমি বলতে পারব না।

এ বিষয়ে ঢাকা কাস্টমস হাউসের যুগ্ম-কমিশনার এসএম সোহেল রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, বার বার রিজেন্টের ফ্লাইটেই আনা এসব সোনা বিক্রির টাকা কোথায় ব্যবহার হয় সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চোরাচালানের এ টাকা দেশে কোন নাশকতার কাজেও লাগানো হতে পারে বলে যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।