২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মহেশখালী পটুয়াখালীতে আরও দুটি এলএনজি টার্মিনাল হচ্ছে

  • প্রতি টার্মিনালে হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর হবে

রশিদ মামুন ॥ আারও দুটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জ্বালানি বিভাগ এই দুটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করবে। মহেশখালী এবং পটুয়াখালীতে টার্মিনাল দুটি নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি টার্মিনাল এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করতে পারবে। বিদ্যুত-জ্বালানি সরবরাহ বিশেষ আইন-২০১০-এ টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব মূল্যায়নে জ্বালানি সচিবকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, গত বুধবার নয় সদস্যের ওই কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। জ্বালানি বিভাগের উপ-সচিব জনেন্দ্র নাথ সরকার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে দেখা যায় কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উন্নয়ন-২ শাখার উপসচিব। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-২, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান। এছাড়াও কমিটিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি), অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন করে প্রতিনিধিকে রাখা হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাব মূল্যায়নের সঙ্গে সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের যাতে দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যায় এ জন্য এসব কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে।

বিদ্যুত-জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু দেশের জ্বালানি সঙ্কট সমাধানের জন্য আরও এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন। তিনি বলেন, এখনই দেশে ৫শ’ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। দেশে শিল্প বিকাশে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

জ্বালানি বিভাগ এবং পেট্রোবাংলা থেকেই বলা হচ্ছে এখন গ্যাসের উৎপাদন বাড়লেও ক্রমান্বয়ে তা কমতে থাকবে। আগামী বছর থেকেই উৎপাদনের নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হতে পারে। এজন্য আগে ভাগেই প্রস্তুতি নিতে হবে। দেশের সাগরে বড় ধরনের কোন মজুদ না পাওয়া গেলে ২০২৫ সালনাগাদ ভয়াবহ জ্বালানি সঙ্কটে পড়বে দেশ। দেশের বড় বড় ক্ষেত্রের মজুদ এই সময়ে এসে অনেকটাই কমে যাবে। এতে দেশের বিদ্যুত উৎপাদন এবং শিল্প বাণিজ্যে ব্যবহৃত গ্যাসের বেশিরভাগই আমদানি করতে হবে। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে স্বল্প গ্যাস মজুদের দেশে মিশ্র জ্বালানি ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। এখন জ্বালানি তেলের দাম কমায় এলএনজির বিশ্ব বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। বিশ্ববাজারে এলএনজির দর কমে অর্ধেক হয়ে গেছে। এখন ভারত, পাকিস্তানও এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, দেশে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করার জন্য বিভিন্ন কোম্পানি যোগাযোগ করছে। এর আগে এসব প্রস্তাব প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করে জ্বালানি বিভাগের কাছে পাঠানোর জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। জানা গেছে, ওই কমিটি বিভিন্ন কোম্পানির প্রস্তাব পর্যালোচনা করেছে। এখন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে দরকষাকষি করে প্রতি ইউনিট রি-গ্যাসিফিকেশনের দর নির্ধারণ করা হবে। এর আগে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে এ্যাস্ট্রা অয়েল এ্যান্ড এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে অনুস্বাক্ষর (প্রাথমিক চুক্তি) করছে পেট্রোবাংলা।