১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যাংকিং খাতসহ আজ সবাইকেই পাশে পেয়েছে ওরা ॥ সাবেক ছিটের অর্থনীতি শেষ

  • জমি না থাকলেও কৃষিঋণ এখন শুধু ভাগ্য বদলের স্বপ্ন

রহিম শেখ, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড় থেকে ফিরে ॥ পাশের গ্রামে গ্রামীণ ব্যাংক ঋণ দিয়েছে, অথচ ছিটের বাসিন্দা বলে আমরা ঋণ পাইনি। এনজিও টিউবওয়েল দিয়েছে, কম্বল দিয়েছে, কৃষি উপকরণ দিয়েছে, কিন্তু আমরা কখনও পাইনি। আমরা কেমন আছি, কী অবস্থায় আছি তা দেখতে কখনও কোন সরকারী লোক গ্রামে আসেনি। কিন্তু আজ সবাই আমাদের পাশে। সব সুবিধাই আমরা পেতে যাচ্ছি। ব্যাংক আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছে। কথাগুলো যেন এক নিঃশ্বাসেই বলছিলেন আফতাব। পুরো নাম আফতাবুর রহমান আফতাব। পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার অধুনালুপ্ত ছিটমহল দহলা খাগড়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা তিনি। তার মতে, দেশের সৌভাগ্যবান নাগরিকদের মধ্যে তিনিও একজন। সরকার, বিশেষ করে দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সাবেক ছিটের চল্লিশোর্ধ এই নাগরিক। জনকণ্ঠকে বলেন, নতুন বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গোটা ব্যাংকিং খাত আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ টাকা দিয়ে ব্যাংক হিসাব খুলেছেন আফতাব। পেয়েছেন একটি বেসরকারী ব্যাংকের পক্ষ থেকে কৃষি উপকরণ। স্ত্রী পেয়েছেন একটি সেলাই মেশিন। এখন শুধু ভাগ্যবদলের স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের মানচিত্রে যুক্ত হওয়া এই দম্পতি।

জানা গেছে, বাংলাদেশের ভূখ-ে ১১১টি ছিটমহলের মধ্যে লালমনিরহাটে ৫৯টি, পঞ্চগড়ে ৩৬টি, কুড়িগ্রামে ১২টি ও নীলফামারীতে চারটি অবস্থিত। সরাসরি মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে অধুনালুপ্ত এসব ছিটমহলের নাগরিকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে গোটা ব্যাংকিং খাত। এজন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক সেবার আওতায় বাড়ানো হয়েছে ব্যাংকিং সেবার পরিধি। সাবেক ছিটমহলে বসবাসকারী মানুষের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অধিকার সুনিশ্চিত করা এবং এসব অঞ্চলে কৃষি কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কৃষিঋণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে যাদের জমি নেই তাদেরও সহজ শর্তে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের মানচিত্রে সদ্য অন্তর্ভুক্ত ছিটমহলগুলোর কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের গ্রুপভিত্তিক এসএমই ঋণ বিতরণ ও নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সকল ব্যাংককে সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতের (সিএসআর) অর্থ দিতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকিংসেবায় যুক্ত করতে ১০ টাকার বিনিময়ে হিসাব খোলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান জনকণ্ঠকে জানান, বাংলাদেশের মানচিত্রে সদ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়া ছিটমহলের বাসিন্দাদের জাতীয় অর্থনীতির মূলধারায় সংযুক্ত করতে এবং তাদের সম্ভাবনাময় উদ্যোগসমূহ বিকশিত করার লক্ষ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে কৃষি এসএমইসহ উৎপাদনমুখী ও পরিবেশবান্ধব খাতগুলোতে ঋণের যোগান বাড়িয়ে কৃষক ও হতদরিদ্রদের ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ দেয়া, বর্গাচাষীদের জন্য বিশেষ ঋণ, আমদানিনির্ভর ফসল চাষে কম সুদে ঋণ, নারী উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে কম সুদে ঋনের সুযোগ সৃষ্টি, দ্রুত ও কম খরচে টাকা পাঠানোর জন্য মোবাইল ব্যাংকিং প্রবর্তন করা হয়েছে।

সরেজমিন পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার অধুনালুপ্ত ছিটমহল দহলা খাগড়াবাড়ী গ্রামে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যাংকের পক্ষ থেকে এলাকায় সুপেয় পানির জন্য ৭টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। আত্মকর্র্মসংস্থানের জন্য গ্রামের নারীদের মাঝে ৭টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। এলাকার তরুণদের মাঝে ৬টি বাইসাইকেল ও ২টি ভ্যানগাড়ি দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৩ বান্ডিল ঢেউটিন, ১টি স্পে মেশিন ও শিক্ষা কার্যক্রমের আধুনিকায়নে ৩টি কম্পিউটার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, স্কুল বেঞ্চ, দরিদ্র মানুষের শীত নিবারণের জন্য কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক খুরশীদ আলম জনকণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশের মানচিত্রে সদ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়া ছিটমহলের বাসিন্দাদের অর্থনীতির মূলধারায় সংযুক্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কৃষি, এসএমই ঋণ বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর সিএসআরের আওতায় অধুনাবিলুপ্ত ১১১টি ছিটমহল এলাকায় ৩৩৪টি নলকূপ, ১৯২টি স্যানিটারি ল্যাট্রিন, ১০টি স্পে মেশিন, বিপুল পরিমাণ ওষুধ এবং শিক্ষা কার্যক্রমের আধুনিকায়নে ১৯টি কম্পিউটার, ১৩শ’টি স্কুলব্যাগ, ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ, ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, ১০০টি স্কুল বেঞ্চ, আত্মকর্র্মসংস্থানের জন্য ৯০টি সেলাই মেশিন, ১৮৩টি বাইসাইকেল, ১১০টি ভ্যানগাড়ি, ১৪৬ বান্ডিল ঢেউটিন, ৩০টি গরু, দরিদ্র মানুষের শীত নিবারণের জন্য ৫১০০টি কম্বল বিতরণ করেছে। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো ওই এলাকায় সৌরবিদ্যুত স্থাপন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কালভার্ট নির্মাণসহ বহুমুখী পদক্ষেপ অংশগ্রহণ করছে। কয়েকদিন আগে একটি বেসরকারী ব্যাংকের পক্ষ থেকে অনুদান হিসেবে সেলাই মেশিন পেয়েছেন ১নং দহলা খাগড়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা পারভীন বেগম। দর্জির কাজ জানা থাকলেও অভাবের সংসারে এতদিন একটি সেলাই মেশিন কেনার সাধ্যও ছিল না পারভীনের। এখন কাজ করে অনেক টাকা আয় করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। তার মতো ওই এলাকার অনেক নারীকে সহায়তা করেছে বিভিন্ন ব্যাংক। গাড়াতি গ্রামের বাসিন্দা রেহানা বেগম জানান, আমাদের এলাকা থেকে দেবীগঞ্জ উপজেলা সদরের দূরত্ব ৫-৭ কিলোমিটার। একে তো ছিটমহল, অন্যদিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকায় সবকিছু থেকে পরবাস জীবনযাপন করতাম আমরা। অর্থাভাবে ভাল জামাকাপড়ও জুটত না ভাগ্যে। গত দুই সপ্তাহ আগে একটি বেসরকারী ব্যাংকের আর্থিক সহায়তা হিসেবে তিনিও পেয়েছেন একটি সেলাই মেশিন। নতুন বাংলাদেশী হিসেবে গর্বিত এই নারীর ভাষায়, গ্রামে হাতে তৈরি পোশাকের চাহিদা রয়েছে। তাই সেলাই মেশিনের আয় দিয়ে অর্থাভাব কাটবে- এমনই আশাবাদ প্রত্যন্ত গ্রামের এই নারীর। কৃষি উপকরণ হিসেবে একটি স্প্রে মেশিন পেয়ে আনন্দের ভাষা প্রকাশ করতে পারছিলেন না উপজেলার সাবেক ছিট কোটভাজিনী (সরকারপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল ইসলাম। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস কৃষি। বাপ-দাদারাও এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এখন নিজেও কৃষিকাজ করছি। ব্যাংকের দেয়া একটি স্প্রে মেশিন ভাগ্য বদলাতে কিছুটা হলেও সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন নতুন এই বাংলাদেশী। সাবেক ছিটবাসীদের ব্যাংকিংসেবার আওতায় আনতে সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যাংকের পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ শাখা এবং লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী শাখা ভবনের ফলক উন্মোচন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান। পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের মানচিত্রে সদ্য যুক্ত হওয়া সাবেক ছিটমহলগুলোতে ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারী-বেসরকারী ব্যাংকের একাধিক প্রধান নির্বাহী।

জমি না থাকলেও ছিটবাসী পাবে কৃষিঋণ ॥ জমির মালিকানা বিষয়ক সমস্যা নিষ্পত্তি না হলেও দেশের মানচিত্রে সদ্য যুক্ত হওয়া সাবেক ছিটমহলগুলোর বাসিন্দাদের মাঝে কৃষিঋণ বিতরণ করা যাবে। গত ৩ নবেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগের পক্ষ থেকে জারিকৃত এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। এতে বলা হয়, একই সঙ্গে জমির মালিকানা নিশ্চিত করা না গেলে, নাগরিকত্ব সনদ যাচাইপূর্বক দুই বা ততোধিক কৃষকের অনুকূলে গ্রুপ ভিত্তিতে কৃষিঋণ (শস্য বন্ধকীকরণের বিপরীতে) বিতরণ করা যাবে। এক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী অফিসার/সাব-রেজিস্ট্রারের প্রত্যায়নপত্রের বিপরীতে কৃষি ও পল্লীঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচী মোতাবেক কৃষিঋণ বিতরণ করা যাবে। এর আগে গত ২ আগস্ট দেশের মানচিত্রে সদ্য যুক্ত হওয়া সাবেক ছিটমহলগুলোকে কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণের আওতায় আনতে সকল তফসিলী ব্যাংককে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সার্কুলারে বলা হয়, দেশের মানচিত্রে সদ্য যুক্ত হওয়া ১১১টি ছিটমহলে বসবাসকারী মানুষের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অধিকার সুনিশ্চিত করা এবং এসব অঞ্চলে কৃষি কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কৃষিঋণ বিতরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ও পল্লীঋণ নীতিমালা এবং কর্মসূচীর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সকল তফসিলী ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে।

সাবেক ছিটে এসএমই ঋণ বিতরণের নির্দেশ ॥ বাংলাদেশের মানচিত্রে সদ্য অন্তর্ভুক্ত ছিটমহলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মাঝেও এসএমই ঋণ বিতরণের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এ্যান্ড স্পেশাল ডিপার্টমেন্ট এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে। এতে বলা হয়েছে, অধুনালুপ্ত ছিটমহলের নাগরিকদের জাতীয় অর্থনীতির মূলধারায় সংযুক্ত করে তাদের সম্ভাবনাময় উদ্যোগসমূহ বিকশিত করার লক্ষ্যে এসএমই ঋণ বিতরণ করা হবে। দেশের কার্যরত সকল তফসিলী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের গ্রুপভিত্তিক এই ঋণ বিতরণের নির্দেশ দেয়া হয়।

১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব ॥ গত ৩ আগস্ট এক সার্কুলারের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানচিত্রে সদ্য অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়, ওই এলাকার নিকটবর্তী ব্যাংক শাখার মাধ্যমে এ হিসাব খুলতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ প্রদান করা হলো। হিসাব খোলা ও পরিচালনার জন্য কোনো সার্ভিস চার্জ নেয় যাবে না। বাংলাদেশ পূর্বতন ছিটমহলবাসীর হিসাব নামে নির্ধারিত ছকে তিন মাস পর পর এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। এর আগে দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন বাংলাদেশীদের মাঝে সিএসআর অর্থ ব্যয়ের নির্দেশ ॥ অধুনালুপ্ত ছিটমহলে বসবাসরত নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সকল ব্যাংককে সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতের (সিএসআর) অর্থ দিতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২ আগস্ট এক চিঠির মাধ্যমে দেশের কার্যরত সকল ব্যাংককে এই নির্দেশ দেয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, সাবেক ছিটমহলগুলোতে বসবাসরত ভাগ্যাহত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা আবশ্যক। এজন্য সিএসআর বাজেট থেকে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে অগ্রাধিকারমূলক সিএসআর কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো।