০৬ নভেম্বর ২০১৫

গোমাংসের ওপর নিষেধাজ্ঞার আবেদন দিল্লী হাইকোর্টে খারিজ

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ দিল্লীতে গোমাংসের ওপর কোন নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। এমনই মত দিল দিল্লী­ হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি জি রোহিনী এবং বিচারপতি জয়ন্ত নাথের বেঞ্চ জানিয়েছে, দিল্লীতে গোমাংস সংক্রান্ত কোন খাবারের ওপরেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে না। খবর জি নিউজের।

একজন সাধু দিল্লী সরকারের কাছে একটি আবেদনপত্র জমা দেন। যেখানে জম্মু-কাশ্মীরের ১৯৩২ রণবীর পেনাল কোডের ন্যায় একটি আইন চালু করার কথা বলেন তিনি। যেই আইনে গো অথবা যেকোন পশু হত্যাকারীদের ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়া আছে।

এরপর আপ সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়, দিল্লীতে ইতোমধ্যেই দিল্লী এগ্রিকালচার ক্যাটেল প্রিজারভেশন এ্যাক্ট নামে একটি আইন প্রচলিত আছে। এই আইনে পশু-পাখিদের রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।

গোমাংস ইস্যুতে কয়েক মাস ধরে উত্তাল সারা ভারতবর্ষ। উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে আখলাক নামে একজন ব্যক্তিকে ফ্রিজে গোমাংস রাখার অপরাধে পিটিয়ে মেরে ফেলে স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু তারপর মাংস পরীক্ষা করে দেখা যায় সেটি গোমাংস নয়। এর কয়েকদিন পরে জম্মু-কাশ্মীর হাইওয়েতে একজন ট্রাক ড্রাইভারকে গরু পাচারকারী সন্দেহে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মেরে ফেলা হয়। তারপর আগুনে ঘি দেয়ার মতই উস্কে ওঠে গোমাংস ইস্যু। দিল্লীর কেরল হাউজের মেনুতে ‘বিফ ফ্রাই’ দেখে কোনও নির্দেশ ছাড়াই হানা চালায় দিল্লী পুলিস। এরপর আরএসএসের মুখপত্র ‘পাঞ্চজন্যে’তে একটি রিপোর্ট বের হয়। সেখানে বলা হয় বেদের নির্দেশ অনুযায়ী গো হত্যাকারীদের মেরে ফেলা উচিত।

ভারতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করেন। প্রত্যেক ধর্মের এক এক রকমের রীতিনীতি। তাই ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ দেশে দিল্লী হাইকোর্টের এই রায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সকলেই।