২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যৌতুক না পাওয়া স্বামীর আগুনে পুড়ে মরল নাসিমা

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ যৌতুকের জন্য স্বামীর দেয়া আগুনে দগ্ধ নাসিমা আক্তার নাইস (২৩) ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে চলে গেলেন না-ফেরার দেশে। শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান। হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ১০ নম্বর শয্যায় তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। আগুনে তার শরীরের ৮২ শতাংশ পুড়ে যায়।

যৌতুকের জন্য স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়ার অভিযোগে তার স্বামী রুবেল হোসেনের (৩০) বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় মামলা হলে তাকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। তার বাড়ি বগুড়ার আদমদিঘি উপজেলার কু-ুগ্রামে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মঞ্জুরুল ভুইয়া জানান, নাসিমার মৃত্যুকালীন জবানবন্দী তিনি রেকর্ড করেছেন। এছাড়াও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, তার স্বামীই নাসিমার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়েছেন। তার ভাড়া বাড়ি এখন তালাবদ্ধ। গ্রামের বাড়িতেও তাকে ধরার জন্য অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি পলাতক রয়েছেন। তারা এখন অন্যভাবে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি। নাসিমার বাবার নাম আব্দুল গাফফার। তার বাড়ি বগুড়ার আদমদিঘি উপজেলার গাদোঘাট গ্রামে। স্বামীর বাড়ি থেকে নাসিমার বাবার বাড়ি দূরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটার। শুক্রবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে নাসিমার লাশ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

নাসিমার বাবা আব্দুল গাফফার বলেন, নাসিমা তার একমাত্র সন্তান। সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন। জামাই হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক। শিক্ষকতা ছেড়ে তিনি মসজিদের ইমামতি শুরু করেছিল। চার-পাঁচ মাস আগে তা বাদ দিয়ে নওগাঁ সদরে তিনি প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকান দেন। এ জন্য তিনি দুই লাখ টাকা দিয়েছেন। এর আগেও দুই দফায় তাকে ৭০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছিল। এছাড়াও একমাত্র সন্তান হওয়ার কারণে মেয়ের মাও তাকে না জানিয়ে গোপনে জামাইকে টাকা দিতেন। নওগাঁয় দোকান করার পর তারা একটা ভাড়া বাসায় থাকত।

গাফফার আর বলেন, সর্বশেষ তার জামাইয়ের দাবি ছিল আরও ১০ লাখ টাকা। টাকা না পেয়ে গত ২৪ অক্টোবর রাতে সে নাসিমার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর আগেও তিনবার স্বামীর অত্যাচারে তার মেয়ে চলে এসেছিল। সামাজিক শালিসের মধ্যেমে আর নির্যাতন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামাই তার মেয়েকে নিয়ে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার মেয়েকে এভাবে মেরে ফেলবে তা বুঝতে পারেননি বলে জানান তিনি।