১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সুনিধি ও হাবিবের সুরে উন্মাতাল শ্রোতা

সুনিধি ও হাবিবের সুরে উন্মাতাল শ্রোতা
  • সংস্কৃতি সংবাদ

মনোয়ার হোসেন ॥ আয়োজনটি ছিল গানের। তাই বয়ে গেল সুরের ঝরনাধারা। আর উন্মুক্ত আকাশ সংস্কৃতির কল্যাণে এদেশের শ্রোতাদের কাছেও পরিচিত ও জনপ্রিয় শিল্পী সুনিধি চৌহান। বলিউডি ফিল্মের এই প্লে-ব্যাক গায়িকার ‘মাই নেম ইজ শিলা, শিলা কি জাওয়ানি’ গানের সুরে অনেকেই হয়েছেন মাতোয়ারা। শুক্রবার হেমন্তের রাতে অনুষ্ঠিত এই সঙ্গীতাসরে গাইলেন ভারতের এই জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। হিন্দি ছবির গানের পাশাপাশি বাংলা গানের পরিবেশনাতেও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভাসালেন শ্রোতাদের। শিল্পীর কণ্ঠমাধুরীর উষ্ণতায় যেন জেগে উঠেছিল রাজধানীর ঢাকার দর্শকশ্রোতাদের হৃদয়। তার সঙ্গে সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আনন্দ যোগ করেন এদেশের সঙ্গীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ এবং ইন্ডিয়ান আইডল ফাইভের বিজয়ী রাকেশ মাইনি।

শীতের আগমনী বার্তা বরণের এ কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হয় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার নবরাত্রি হলে। ‘উইন্টার বাস্ট-২০১৫ ঢাকা’ শীর্ষক সঙ্গীতানুষ্ঠানটির আয়োজন করে ইনসেপশন মিডিয়া ও ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্ট।

তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে ঢাকা মাতালেন সুনিধি চৌহান। সেই আনন্দের ফল্গুধারা দেখা গেল গতকাল। হেমন্তের সন্ধ্যায় গানে গানে কয়েক হাজার দর্শক-শ্রোতাকে উন্মাতাল করে রাখেন বলিউডি ছবির হালের তুমুল জনপ্রিয় শিল্পী সুকণ্ঠী সুনিধি চৌহান। একে একে জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে ছুটির রাতটা যেন নিজের করে নিলেন তিনি। তার সঙ্গে হাজার দর্শক-শ্রোতা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে নেচেগেয়ে উপভোগ করেন এ কনসার্ট।

রাত তখন সোয়া নয়টা। রঙিলা আলোকরশ্মির ভেতর দিয়ে মঞ্চে এলেন সুনিধি চৌহান। চঞ্চল হয়ে উঠল প্রতীক্ষার প্রহরগোনা শ্রোতার অন্তর। তুমুল জনপ্রিয় হিন্দি ছবির গান ধুম মাচালের মাধ্যমে শুরু হলো পরিবেশনা। বেড়ে গেল গানপ্রেমীদের হৃৎকম্পন। প্রথম গান শেষেই শ্রোতাদের সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়ে সুনিধি বললেন, শুভ সন্ধ্যা ঢাকা। কেউ লজ্জা পাবেন না। গানের সঙ্গে চিৎকার করে ভাললাগার কথা প্রকাশ করলেন। এরপর ঠোঁটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শরীর ভাসিয়ে গাইলেন ‘ইয়ে নটি কাহানি হালকাত জাওয়ানি’। সুর থামতেই ঝরে পড়ল উদ্দীপ্ত শ্রোতার তুমুল করতালি। কেউ বা উচ্ছ্বাস ধরে রাখতে না পেরে বাজিয়ে দিলেন শিষ। এরপর অনন্য সুরেলা কণ্ঠের সঙ্গে সুপরিসর মঞ্চজুড়ে চলল সুনিধির উত্তাল নাচ। প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর এ শিল্পী যেমন গাইলেন, তেমনই নাচলেন এবং নাচালেন। কণ্ঠমাধুর্যে শ্রোতাদের মোহাচ্ছন্ন করে একে একে গাইলেনÑ‘ড্যান্স মে চান্স মারলে’, ‘মেরা ইশক সুফিয়ানা’, ‘সাজনা বে সাজনা’, ‘ম্যায় তো এ্যামি এ্যামি লুট গ্যায়া’, ‘দেশী গার্ল’সহ একগুচ্ছ জনপ্রিয় হিন্দি ছবির গান। মাঝে খানিক বিরতিতে গাইলেন রাকেশ মাইনি। এরপর আবারও সুনিধির ঝলক। দ্বিতীয় পর্বে গাইলেন সফট মেলোডি গান ‘দিল মেরা শুনো না’। এরপর আবারও কোমল সুরের গান ‘জারা জারা কাহি পুছে’। এবার গজল। গাইলেন ‘কাভি কাভি মেরি দিল মে খ্যায়াল আতা হে’। মিলনায়তন জুড়ে যেন নেমে এলো অপার্থিব আবহ। মাঝে স্পষ্ট বাংলায় বললেন, ‘ঢাকা আমি তোমাকে ভালবাসি’। এরপর গাইলেন ‘কিতনা সোনা তুঝে রাবনে বানায়া’। হঠাৎ নেমে এলো চমক, সুনিধির কণ্ঠে গীত হলো বাংলার সুর। আবেগী কণ্ঠে গাইলেন রবি ঠাকুরের গান ‘ওগো দুঃখ জাগানিয়া তোমায় গান শোনাব’। বাংলা গান শেষে আবারও ফিরলেন হিন্দির ভুবনে, গাইলেন তার জনপ্রিয় গানগুলো। শেষ দিকে নেচে নেচে গেয়ে শোনালেন শ্রোতাদের দীর্ঘক্ষণের অনুরোধের গান ‘শিলা কি জাওয়ানি’।

শুরুতেই তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে মাতালেন শিল্পী হাবিব ওয়াহিদ। ঘড়ির কাঁটা তখন ৭টা ৪০ মিনিট। ভরাট কণ্ঠে ধরেন তার জনপ্রিয় গান ‘বলে তো দিয়েছি হৃদয়ের কথা’ গানটি। গানের কথায়, সুরে ও গায়কীতে দর্শকশ্রোতাদের হৃদয়ও যেন নেচে ওঠে। এরপর শুধুই গানের মূর্ছনা। দ্বিতীয় গানটিও রোমান্টিক ধাঁচের। গাইলেন ‘আলতো ছোঁয়ায় চোখের চাওয়ায়’ গানটি। তৃতীয় গানটিও প্রেমরসে সিক্ত ‘রাত নিঝুম বসে আছো তুমি’। এরপর চতুর্থ গানটি তার অন্যতম সেরা জনপ্রিয় গান। ‘ভালবাসবো বাসবো রে বন্ধু তোমায় যতনে’ গানের মাধুর্যে নেচে উন্মাতাল হয়ে ওঠে গোটা মিলনায়তনে। দর্শকশ্রোতারাও তাতে কণ্ঠ মেলাল। এরপর আবারও জনপ্রিয় গান ‘আমি তোমার মনের ভেতর/একবার ঘুরে আসতে চাই’। এরপর গাইলেন শাহ আব্দুল করিমের বিখ্যাত সেই গান ‘কৃষ্ণ আইলা রাধার কুঞ্জে’। এরপর গেয়ে শোনান বাংলার মরমি সাধক হাসন রাজার গান। ততক্ষণে জমে উঠেছে সঙ্গীতাসর, কানায় কানায় ভরে উঠেছে গোটা মিলনায়তন। শ্রোতার মাঝে ছড়িয়েছে উদ্দীপনা।

হাবিবের পরিবেশনা শেষে মঞ্চে আসেন রাকেশ মাইনি। সুরে সুরে শ্রোতাকে মাতিয়ে রাখেন এই তরুণ শিল্পী। তিনি পরিবেশন ‘জিয়া জায়েনা জায়েনা তেরে বিনা রে’, ‘গান্ধি গান্ধি বাত’ গানগুলো। সব শেষে শ্রোতার হৃদয়ে তোলপাড় তুলতে মঞ্চে আসেন সুনিধি চৌহান। সঙ্গে ছিল ভারত থেকে আসা তার নিজস্ব যন্ত্রীরা।