২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পালাবে কেন?

মাত্র তেরো দিনের ব্যবধানে রাজধানীতে আবারও সশস্ত্র পুলিশকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটল। দুর্বৃত্তরা রীতিমতো ফিল্মী কায়দায় পুলিশের ওপর আক্রমণ চালিয়ে কার্যোদ্ধার করে বীরদর্পে ফিরে যায়। এটা অশনি সংকেত। চাইনিজ রাইফেল হাতে থাকা সত্ত্বেও সহকর্র্মী রক্ষায় প্রতিরোধ না গড়ে উল্টো কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের হতাশ, বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করে। যাদের হাতে দেশের মানুষের নিরাপত্তার ভার ন্যস্ত, তাদেরই নিজেদের রক্ষা করতে না পারার ব্যাপারটি জনগণকে নেতিবাচক বার্তা দেবে। এটা আরও বড় দুর্ভাবনার বিষয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশক হত্যাকা- এবং পুলিশের ওপর হামলা সব কিছুই একই সূত্রে গাঁথা। একটি মহল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্য কখনও আইএস, কখনও আনসারুল্লাহ বাংলা টিম প্রভৃতি নামে এসব হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।’ কথা হলো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দ-িতদের রক্ষা এবং বিচার প্রক্রিয়া বানচালের উদ্দেশ্যে দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হলে, তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকেই। এক্ষেত্রে পুলিশের সামান্যতম দুর্বলতা প্রদর্শনের কোন সুযোগ নেই। কারণ সশস্ত্র বেপরোয়া হামলাকারীদের রুখতে না পারলে আরও বড় বিপর্যয় ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা অমূলক নয়। পুলিশ আক্রান্ত হলে তার পাশে নাগরিক তথা এলাকাবাসীর দাঁড়ানোর দৃষ্টান্ত আমাদের সমাজে রয়েছে। বুধবার সকালে আশুলিয়ায় পুলিশের ওপর আক্রমণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিষ্ক্রিয় থাকার বিষয়টিও দুঃখজনক।

পরিতাপের বিষয় হলো, সাধারণ মানুষের মনে পুলিশ সম্পর্কে এক মিশ্র অনুভূতি কাজ করে। পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থার জায়গাটি এখনও প্রশ্নবিদ্ধ। তবে একতরফা কেবল পুলিশের দোষ দেয়া সমীচীন নয়। পুলিশের সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতার বিষয়টিও অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে। সাম্প্রতিককালে অপরাধ দমনে পুলিশের চ্যালেঞ্জ বহুলাংশে বেড়ে গেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ অপরাধীর পেছনে ছোটেÑ পুলিশের পেশার এই বৈশিষ্ট্যের দিকে সমাজের সহানুভূতির দৃষ্টি তেমন নেই। হরতাল-অবরোধ আহ্বানকারী রাজনৈতিক দলের সহিংসতার শিকার হয়ে থাকে পুলিশও। আমরা ভুলে যাইনি ২০১৪ সালের পাঁচই জানুয়ারি নির্বাচনের কয়েক মাস আগে থেকেই নির্বাচন বর্জনকারী দল বিএনপি ও তাদের জোটমিত্র জামায়াত পুলিশকে তাদের সহিংস আক্রমণের প্রধান লক্ষ্যবস্তু করে তুলেছিল। বিভিন্ন সময়ে শিবির ক্যাডাররা পুলিশের ওপর আক্রমণ চালিয়ে থাকে। এ ধরনের বাধা উজিয়েই পুলিশকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখায় সক্রিয় হতে হচ্ছে।

গত বছরের মার্চে পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছিলেন। সন্দেহ নেই এটা বিরাট বিনিয়োগ। জনবল, সরঞ্জাম, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ঘাটতি কাটানোর পাশাপাশি পুলিশের সদাচরণ ও সেবার মান বৃদ্ধি এবং মানসিক গঠন পরিবর্তনের মাধ্যমে সুনাম বাড়ুকÑ এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। কিন্তু তল্লাশি চৌকি বা যে কোন জায়গায় পুলিশের ওপর যে কোন ধরনের হামলা হলে তা প্রতিরোধ ও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের সক্ষমতা এবং মনোবল পুলিশের অবশ্যই থাকতে হবে। পুলিশ বাহিনীতে নতুন নিয়োগদানের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা কাম্য। এখানে কোন ধরনের ছাড় দেয়া হলে তা ভবিষ্যতে ঝুঁকিই বাড়াবে। সেই সঙ্গে নিয়োগকৃতরা যথাযথ প্রশিক্ষণ পাচ্ছে কিনা সেটাও শতভাগ নিশ্চিত করা দরকার। নিহত পুলিশ কনস্টেবল মুকুল হোসেনের পরিবারের প্রতি রইল আমাদের গভীর সমবেদনা।

নির্বাচিত সংবাদ