২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মহাসঙ্কটে মহাসড়ক

দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নতকরণ করার কাজটি যে ধীরলয়ে চলছে, তা দৃশ্যমান। এ কারণেই যাত্রীসাধারণসহ পণ্য পরিবহন ক্ষেত্রটিও নানাভাবে সঙ্কুচিত রয়ে গেছে। এমনিতেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্ব বহুমাত্রিক। জাতীয় অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকেও এর বেশ গুরুত্ব রয়েছে। এই মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হলে জাতীয় অর্থনীতি হবে গতিশীল। বেগবান এই ক্ষেত্রটিকে সম্প্রসারিত করার কাজটি যে জরুরী, তা উপলব্ধি করা না গেলে উন্নয়নের রথের চাকা ধীর হয়ে যাবে অনায়াসে। এই মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজটির গতি কেন শ্লথ সে নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোন ভাষ্য মেলে না। সরকার জাতিকে যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখাচ্ছেন সেটি পূরণের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। এই মহাসড়ক বর্তমান সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। আর এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের হাল যদি হয় বেহাল, তবে অন্য কাজগুলোর যে কী অবস্থা তা সহজেই অনুমেয়। এই মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় চতুর্থবারের মতো বাড়ানো হয়েছে এবং এ মেয়াদ ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। অর্থাৎ আরও একবছর বাড়ানো হলো। শেষবার যখন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়, তখন কাজ শেষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে। অথচ অদ্যাবধি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ৭১ শতাংশ। শম্বুক গতিতে চলা কাজের নমুনা হিসেবে এটি উদাহরণ হয়ে থাকছে। প্রকল্পের বর্তমান মেয়াদ বাড়ায় ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৩ হাজার ৭শ’ ৯৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। তৃতীয় দফা মেয়াদ বাড়ানোর সময় এই ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ১শ’ ৯০ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অথচ ২০০৫ সালে প্রকল্প অনুমোদনের সময় এর ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ১শ’ ৬৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। কথা ছিল আড়াই বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। কিন্তু হা হতোস্মি! কাজ শুরু করতেই আরও আড়াই বছর লেগেছে।

দেশের অর্থনীতিকে সচল করতে হলে, যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নতি না হলে অর্থনীতির চাকা সচল হয় না। দায়িত্ব নেয়ার পর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের হররোজ লম্বা চওড়া বাতচিত করে আসছেনÑ যার কোন সারমর্ম মেলে না। কাজ বলতে স্রেফ দৌড়ঝাঁপ করছেন। টিভি ক্যামেরার সামনে প্রতিনিয়ত যেসব বাক্যবান ছুড়ে দিচ্ছেন তা কোন আশার সঞ্চার করে না। কথার সঙ্গে কাজের কোন সঙ্গতি যেমন নেই, তেমনি কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কেউ বলতেও পারবে না, কোন একটি কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। ঈদের আগে শুরু হয় খানাখন্দ, ভাঙাচোরা সড়ক মেরামতের। নামমাত্র সংস্কারে ব্যয় হয় প্রচুর অর্থ। কিন্তু দু’দিন পর সেই সড়ক হয়ে ওঠে খাদ ও গর্ত সমৃদ্ধ। ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনের কাজে সময়ের পর সময় বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ব্যয়ও বাড়ানো হয়, অথচ তিন-চতুর্থাংশ কাজও শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আড়াই বছর সময় বেশি কেন দেয়া হলো, সেই নিয়েও নেই জবাবদিহিতা। বরাদ্দকৃত অর্থের চেয়ে হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ অতিরিক্ত দেয়া হয়েছে। এরপরও প্রকল্প শেষ করতে আরও সময় ও আরও অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি মহল জেনে বুঝেই প্রকল্পের কাজ দীর্ঘায়িত করছে। এর ফলে তাদের পকেট ভারি হচ্ছে। নীতি নির্ধারকদের কারও কারও অন্যায় মদদ ছাড়া বিশেষ মহল এভাবে প্রকল্পের মেয়াদ আর ব্যয় বাড়ানোর অপচেষ্টায় এমনভাবে লিপ্ত হতে পেড়েছে।

সরকারের উচিত প্রকল্পের মেয়াদ আর ব্যয় বাড়ানোর আগে জবাবদিহিতা গ্রহণ করা। কেন কাজ শেষ হচ্ছে না নির্ধারিত সময়েও, এর জন্য কারা দায়ী। সেটা জানা সঙ্গত। বর্ষা মৌসুম আর পাথরের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে পার পাওয়া যাবে না। যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুগম করতে কোন বিঘœ বরদাশত করা উচত নয় সরকারের।