২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজধানীর গণপরিবহন ॥ ভোগান্তির নাম

গত নবেম্বর ২০১৪ থেকে আমি গণপরিবহনে যাতায়াত করে আসছি। দীর্ঘ আড়াই দশক অফিসের গাড়িতে চলাচল করে ঢাকার গণপরিবহনে যাতায়াত যে কত কষ্টের তা ভুক্তভোগী ছাড়া অন্যের অনুধাবন সহজ নয়। ঢাকার গণপরিবহনের ব্যবস্থাপনার সঙ্কট সবচেয়ে বড় সমস্যা। গণপরিবহনের সর্বত্র বিরাজমান অব্যবস্থাপনা। কোথাও শৃঙ্খলা নেইÑ মানা হয় না নিয়মকানুন। ঢাকা শহরের গণপরিবহন বলতে আমি বাস ও মিনিবাসকে বুঝাচ্ছি। যাত্রীর চাহিদার তুলনায় চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের সংখ্যা খুবই নগণ্য। ফলে অফিস সময়ে ও অফিস ছুটি বাসে যেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থা নেইÑ সেসব প্রতিষ্ঠানের লোকজনদের ভোগান্তির শেষ নেই। খুব কমসংখ্যক বাসেই যাত্রীদের লাইন ধরে উঠানামার ব্যবস্থা আছে। একই দরজা দিয়ে উঠা ও নামার ফলে ভোগান্তি বাড়ে। বহু বাসে দুটি দরজা নেই। পেছনের দরজা দিয়ে উঠা ও সামনের দরজা দিয়ে নামা- এ নিয়ম মানা হলে উঠানামার ভোগান্তি অনেকটা কমে যাবে।

রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিনই মানুষের সংখ্যা নানা কারণে বাড়ছেÑ সে তুলনায় গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়ছে না। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে গত ৪-৫ বছরে গণপরিবহনের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিআরটিসি এখন যাত্রীসেবা ভুলে মুনাফার দিকে নজর বেশি দেয়ায় বিআরটিসি নিজস্ব সুনাম হারিয়ে ফেলেছে। মাসিক ভিত্তিতে যাদের বিআরটিসির বাস ভাড়া দেয়া হচ্ছেÑ তারা নিজেরা না চালিয়ে সম্ভবত অপরদের পুনঃভাড়া দেয়ায় সেবার মান দ্রুত কমছে বলে মনে করি। আগে দেখতাম সিট ভরে গেলে অতি সামান্য যাত্রী দাঁড়িয়ে নিয়ে বিআরটিসির বাস চলাচল করত। আর এখন গাদাগাদি না করে বিআরটিসির বাস কোন রুটেই চলে না।

বিভিন্ন কাজে আমাকে মাঝে মধ্যে মতিঝিল ও গুলিস্তানে যেতে হয়। প্রথমে চেষ্টা করি বাসে যেতে। বাসে উঠতে না পারলে সিএনজি বা রিক্সায় চাপতে হয়। মোহাম্মদপুর-ধানম-ি-মতিঝিল রুটে বেসরকারী ২-৩টি সংস্থার বাস এ রুটে চলে। বিআরটিসির বাস এ রুটে কেন চলে না জানি না। ফলে ওই ২-৩টি সংস্থার চালক ও শ্রমিকরা তাদের খেয়ালখুশি মতো বাস চালায়। অথচ এ রুটে বিআরটিসি যদি এসি/নন এসি ১০-১৫টি বাস দিত তা হলে যাত্রী ভোগান্তি কিছুটা কম হতো।

গণপরিবহনের পাল্লার বাস মিনিবাসের পরে আসে সিএনজি, ট্যাক্সি ও অন্য যানবহন। সিএনজি মিটারে চলে না। ট্যাক্সি মিটারে চললেও ট্রাফিক জ্যামে পড়ায় ভাড়া এত বৃদ্ধি পায় যে সীমিত আয়ের কেউ বিপদে না পড়লে মিটারচালিত ট্যাক্সিতে চাপে না।

ঢাকার গণপরিবহনে আরও অধিকসংখ্যক বাস, মিনিবাস এবং এসিবাস সংযোজন করা দরকার।

গণপরিবহনের সঙ্কটের কারণেই যাদের সুযোগ আছে তারা প্রাইভেটকার কিনছে। ঢাকায় ট্রাফিক জ্যামের প্রধান কারণ প্রাইভেট গাড়ি। অনেক পরিবারের ৫-৬টি প্রাইভেটকার আছে। ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম কমানোর জন্য গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গণপরিবহনে সুব্যবস্থাপনা প্রবর্তনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাস্তব পদক্ষেপ নেবেনÑ এটাই আশা করি।

জয়নাল আবেদীন

ধানম-ি, ঢাকা