২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদ্রোহীদের রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ ॥ সিরিয়া যুদ্ধ

  • জাতিসংঘ সংস্থার প্রতিবেদন

সিরিয়ার এক শহরে মাস্টার্ড গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল বলে রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা স্থির করেছেন। সেই শহরে তখন ইসলামিক স্টেট জঙ্গীরা আরেক দল বিদ্রোহীর সঙ্গে লড়াইয়ে লিপ্ত ছিল। এক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলের এক রিপোর্টে এ কথা বলা হয়। খবর ইয়াহু নিউজের।

রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থার (ওপিসিডাব্লিউ) ২৯ অক্টোবরের এক গোপন রিপোর্টে ২১ আগস্ট আলেপ্পোর উত্তরে মারিয়া শহরে অন্তত দু’ব্যক্তি সালফার মাস্টার্ডে আক্রান্ত হয় বলে সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা সহকারে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়। এতে বলা হয়, সালফার মাস্টার্ডের প্রভাবেই সম্ভবত একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।

ওই সিদ্ধান্তে সিরিয়া সালফার মাস্টার্ডসহ এর রাসায়নিক অস্ত্রভা-ার ধ্বংস করতে সম্মত হওয়ার পর দেশটিতে সালফার মাস্টার্ড ব্যবহৃত হওয়ার সত্যতা প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হলো। সালফার মাস্টার্ড সাধারণভাবে মাস্টার্ড গ্যাস নামে পরিচিত। রিপোর্টে ইসলামিক স্টেটের নাম উল্লেখ করা হয়নি, কারণ ওই তথ্যানুসন্ধানী মিশনকে কোন্ পক্ষ দোষী তা নিরূপণের দায়িত্ব দেয়া হয়নি। কিন্তু কূটনৈতিক সূত্রে বলা হয়, ওই সময়ে মারিয়া শহরে ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আরেকটি বিদ্রোহী দলের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করা হয়েছিল। এক সূত্রে বলা হয়, এ থেকে সালফার মাস্টার্ড কোথা থেকে এসেছিল এ প্রশ্ন বড় হয়ে ওঠে। হয় তারা (আইএস) নিজেরা তা তৈরি করার সামর্থ্য অর্জন করেছিল, নয় তো তা আইএসের দখল করা এক অঘোষিত মজুদাগার থেকে আনা হয়ে থাকতে পারে। উভয়ই উদ্বেগজনক উপায়। সিরিয়া ১৮ মাস আগেই বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করেছিল বলে মনে করা হয়। এসব পদার্থের ব্যবহারে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং ১৯৯৭ সালের রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন লঙ্ঘিত হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জন কারবি বলেন, ওপিসিডাব্লিউ ২৯ অক্টোবর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে তিনটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। এদের মধ্যে দুটি খুবই উদ্বেগজনক। ওপিসিডাব্লিউ এক তদন্তে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহৃত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছে এবং দ্বিতীয় তদন্তে এরূপ অস্ত্র ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

বারবি বলেন, মাস্টার্ড উপকরণ ব্যবহৃত হওয়ার ঘটনাটি ছাড়াও ওপিসিডাব্লিউ ইদলিব প্রদেশের সরকারবিরোধীদের নিয়ন্ত্রিত ভূখ-ে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এসব পদার্থে সম্ভবত ক্লোরাইন ছিল। তিনি বলেন, রাসায়নিক গোলাবারুদের বিস্ফোরণ ঘটার সময় আকাশে হেলিকপ্টার ওড়ার শব্দ শোনা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তিনি বলেন, কেবল আসাদ সরকারের হেলিকপ্টার রয়েছে। তিনি প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করছিলেন। বারবি বলেন, ইসলামিক স্টেটের মতো কোন দলও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করছে বলে যদি স্থির হয় তবে তা আইএসের মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধ লঙ্ঘন করার ইতিহাসের সঙ্গে মিলই খাবে। রিপোর্টগুলো আইএস দল ইরাক ও সিরিয়া উভয় দেশ থেকে রাসায়নিক অস্ত্র সংগ্রহ করেছে এবং ব্যবহার করছে বলে ক্রমবর্ধমান প্রমাণকে আরও জোরদার করবে। এগুলো চলতি মাসের শেষদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হবে।

কুর্দি কর্তৃপক্ষ চলতি মাসের প্রথম দিকে জানায়, আইএস যোদ্ধারা আগস্ট মাসে উত্তর ইরাকে সংঘর্ষ চলাকালে কুর্দি পেশমার্গা যোদ্ধাদের উদ্দেশে মাস্টার্ড উপকরণভর্তি মর্টারের গুলি ছুড়েছিল। ওই অঞ্চলের রাজধানী আরবিলের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে পরিচালিত ওই হামলার কবলে পড়া ৩৫ যোদ্ধার রক্তে মাস্টার্ড গ্যাসের নমুনা পাওয়া যায়। ওই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ওপিসিডাব্লিউর এক বিশেষজ্ঞ দলকে ইরাকে পাঠানো হয়েছে। দলটি চলতি মাসের শেষদিকে যোদ্ধাদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করবে বলে মনে হয়।