২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নারায়ণগঞ্জে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিকারের ব্যবস্থা নেই

মোঃ খলিলুর রহমান, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ॥ রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জের আওতাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট মহসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে আশঙ্কজনক হারে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে অনেকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। কেউ কেউ চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। অথচ সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে কেউ এগিয়ে আসছে না। সর্বশেষ গত ২১ অক্টোবর বুধবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জে একই দিনে পথচারীসহ ৬ জন নিহত হয়েছে।

জানা যায়, রাজধানী ঢাকার পাশেই নারায়ণগঞ্জ জেলার অবস্থান। এ জেলার আওতায় রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্করোড, ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক, ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়ক, নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-ডেমরা সড়কসহ থানা-উপজেলার অসংখ্যা আঞ্চলিক সড়ক। ইদানিং মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে আশঙ্কাজনক হারে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন।

একটি বেসরকারী সংস্থার সূত্র মতে নারায়ণগঞ্জে ১৮টি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান রয়েছে বলে তারা চিহ্নিত করেন। তাদের মতে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো হলো- শহরের চাষাঢ়া মোড়, পঞ্চবটি, ইসদাইর, শিবু মার্কেট, জালকুড়ি, ভূইঘর, সাইনবোর্ড, সানারপাড়, শিমরাইল, আদমজী, কাঁচপুর, তারাব বিশ্বরোড, বরপা, ভূলতা, গাউছিয়া, গোলাকান্দাইল, আধুরীয়া, সাওঘাট সিএনজি পাম্প ও কাঞ্চন বাজার। এছাড়াও সাইবোর্ড, শিমরাইল, কাঁচপুর, তারাব বিশ্বরোড, রূপসি, গোলাকান্দাইল, কাঞ্চন, চাষাঢ়া, পঞ্চবটি, খানপুরসহ বিভিন্ন সংযোগ সড়কের সতর্ক নির্দেশনার অভাব রয়েছে বলে ঐ সংস্থাটি উল্লেখ্য করেন। সতর্কতার অভাবের কারণেও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন।

ওই সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, জনবহুল স্থানে জেব্রাক্রসিং ও ফুটওভারব্রিজ না থাকায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। চাষাঢ়া মোড়, পঞ্চবটি, শিবু মার্কেট, আদমজী, বরপা স্কুলের সামনে, ভূলতা গার্মেন্টেস, কাঁচপুরসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তা পারাপারের জন্য কোন জেব্রাক্রসিং ও ফুটওভারব্রিজ নেই। এতে যত্রতত্র রাস্তা পার হতে গিয়েও সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হচ্ছে লোকজন। জালকুড়ি, সাইনবোর্ড, সানারপাড়, ইসদাইর, ভূইঘর, আদমজী, বরপা, ভূলতা গাউছিয়া, গোলাকান্দাইল, আধুরীয়া, সাওঘাট সিএনজি পাম্প ও কাঞ্চন বাজার ও তারাব বিশ্বরোডসহ বিভিন্ন স্থানে এখনও বাস-বে না থাকায় জনসাধারণ ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কের উপরেই গণপরিবহনে ওঠানামা করছে। এ কারণেও সড়ক দুর্ঘটনায় লোকজন পতিত হতে পারে।

ট্রাফিফ সার্জেন্ট জিয়া জানায়, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস রাস্তায় চলতে হলে তার ৫টি বৈধ কাগজ লাগবে। তা হলো- রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেন, ইন্স্যুরেন্স, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স। অপরদিকে মোটরসাইকেল হলে তার ৪টি কাগজ থাকতে হবে। এগুলো হলো- রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেন, ইন্স্যুরেন্স ও ড্রাইভিং লাইসেন্স। বাস-মিনিবাসসহ গণপরিবহনে থাকতে হবে ৬টি বৈধ কাগজ। এগুলো হলো- রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকে, রুট পারমিট, ট্যাক্স টোকেন, ইন্স্যুরেন্স, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স। অথচ এখানার অনেক যানবাহনের কোন বৈধ কাগজপত্রই নেই তবুও চলছে রাস্তায়। এখানকার অনেক যানবাহনের ফিটনেস সার্টিফিকেট ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় অনেক যানবাহন সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ প্রায় সকল সড়কের ওপরই যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এর কারণেও অনেক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। পোল্ডার পুল থেকে কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে অনেক যানবাহন রাস্তা দখল করে পার্কিং করে ঘণ্টার ঘণ্টার পর দাঁড়িয়ে থাকছে। ট্রাফিক পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে গাড়ি পার্কিং এর কারণেও অনেক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। আবার যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চালানোর ফলেও ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ শহর ও শিমরাইল মোড় বিভিন্ন স্থানে থেকে বহু যানবাহন কাগজপত্র ছাড়াই বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে। খবর নিয়ে জানায়, রাজধানীতে চলাচলের নিষিদ্ধ যানবাহনগুলো লক্কড়-ঝক্কড় মার্কা বাস-মিনিবাস, সিএনজি, টু-স্টোক বেবি-ট্যাক্সিসহ নানা যানবাহন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রুটে অবাধে চলাচল করছে। এছাড়াও দূরপাল্লার বাতিলকৃত বাসগুলো এখন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রুটে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। অপরদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সিএনজি, অটোরিক্সা, টমটম-নসিমন-করিমন পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এমনকি রাতের বেলাও চলাচল করছে। এতেও বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। শিমরাইলের বাসিন্দা ইউসুফ জানায়, শিমরাইল মোড়ে পর পর দুটি ফুটওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও নিচ দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। এতেও অনেক পথচারী সড়ক দুর্ঘটনা মারা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ২১ অক্টোবর ভোর ৫টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় একটি দ্রুতগামী দূরপাল্লার যানবাহন একটি সিএনজিকে চাপায় দিলে ঘটনাস্থলেই সিএনজি চালকসহ ৪ জন নিহত হয়। এছাড়াও একই দিন মহাসড়ক পার হতে গিয়ে সানারপাড় ও শিমরাইল এলাকায় দুই পথচারী নিহত হয়। আবার গত ১৯ অক্টোবর একই মহাসড়কের সোনারগাঁয়ের এলাকায় দুই যাত্রীবাহী বাস পাল্লা দিতে গিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথচারীদের ওপর উঠে যায়। এতে ৩ পথচারী নিহত হয়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আড়াইহাজারের পুরিন্দা এলাকায় গরুবাহী পিকআপভ্যানের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় গরুর বেপারিসহ ৩ জন নিহত হয়। এছাড়াও প্রায়ই প্রতিনিয়তই রাস্তা পারাপারসহ নানাভাবে সড়ক দুর্ঘটনা ২/১ জন নিহত হচ্ছেই। এভাবেই বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার সারি। অকালে ঝড়ে পড়ছে অসংখ্য প্রাণ। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) বদরুল আলম মোল্লা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় রাস্তায় আট লেনের কাজ চলছে। এতে কোন কোন জায়গায় সরু হয়ে গেছে। এ সরু হওয়ার কারণেও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এভাড়াও কাঁচপুর থেকে সাইবোর্ড পর্যন্ত ১৩টি ফাঁকা জায়গা আছে। এ ফাঁকা জায়গা দিয়ে সিএনজি ও টু-স্টোক বেবি ও অটোরিক্সা মহাসড়কে উঠে যাচ্ছে। এগুলো রোধ করার জন্য আমাদের ১৩ পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। কিন্তু তারপরও ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে মহাসড়কের নিষিদ্ধ যানবাহন উঠে যাচ্ছে। এ কারণেও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই ২১ অক্টোবর একটি সিএনজি মহাসড়কে উঠা যাওয়ায় যানবানের চাপায় সিএনজি চালকসহ ৪ জন নিহত হয়।