২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হাউজিং এস্টেট এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে

ডি.এম তালেবুন নবী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ রাজধানীমুখী জনস্রোত রুখে দিতে সরকার নতুন গণমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এতদিন নিম্ন মধ্যবৃত্ত থেকে শুরু করে উচ্চ মধ্যবৃত্ত ও তার উপরের শ্রেণীর লক্ষ্য ছিল উপার্জনের সঙ্গে মাথাগোঁজাসহ পুনর্বাসনের। কিন্তু সরকার এবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। বড় বড় শহরে পুনর্বাসনে হাউজিং এস্টেট কাজ করে আসছিল এতদিন। দীর্ঘদিনের এই ধ্যান-ধারণা ও সিস্টেমকে একেবারে পাল্টে দিতে আরও গণমুখী কর্মকা-ে সরকার তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। অতি সাধারণ মানুষের মাথাগোঁজার ঠিকানা তৈরিতে ছোট শহরগুলিতেও হাউজিং স্টেটকে নিয়ে যাওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে। যা হয়ত বা পরবর্তীতে উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামেও নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন সরকারের নীতি নির্ধারকরা। বর্তমান সরকারের এই গণমুখী সাহসী পদক্ষেপে দারুণভাবে উৎসাহিত ও উৎফুল্ল হয়েছে অতি সাধারণ, মাঝারি ও তৃণমূল পর্যায়ের ভূমিহীন মানুষগুলো। তারা দীর্ঘদিন কঠোর সংগ্রাম ও পরিশ্রম করে এখন অনেকটাই সংক্ষম হয়েছে সঞ্চয়ে। কিন্তু এখনও নিজস্ব বাড়িঘর তৈরি করতে পারেনি। তারা এই মুহূর্তে নতুনভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে বর্তমান সরকারের পুনর্বাসন কর্মসূচী শুরু হওয়ায়। এসব মানুষ কোনদিন ভাবেনি তাদের নিজস্ব ভিটেমাটি হবে। তার উপর গড়ে তুলবে মাথাগোঁজার ঠাঁই। তারই অংশ হিসেবে গণপূর্ত ও ত্রাণ পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহায়ন ও পুনর্বাসনের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। রাজশাহী হাউজিং স্টেটের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছে কাজ। প্রথম এবং প্রাথমিকভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে হাত দেয়া হয়েছে। এলাকাটি শহরের একেবারে মধ্যবর্তী অঞ্চল। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী মহাসড়কের ধারে দুর্গাপুর ও হরিপুর মহল্লার কাছাকাছি কালিতলা বিলসংলগ্ন চৌহদ্দীটোলার নিচে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই জমি অধিগ্রহণসহ মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। মাটি ভরাটে ব্যয় হয়েছে ৮ (আট) কোটি টাকা। মোট জমির পরিমাণ ১৬ একর ৩.৯ কাঠা। প্লট করা হয়েছে ১৭৫টি। তার মধ্যে পাঁচ কাঠার ৫৪টি, তিন কাঠার ৮৬টি ও আড়াই কাঠার ৩৫টি। রাস্তাঘাট, ড্রেন নির্মাণ ও বিদ্যুত লাইন টানার কাজ চলছে। সরকারী প্লটের সঙ্গে সঙ্গে একেবারে নিজস্ব জমিতে স্কুল, পার্কসহ বিনোদনের সব ব্যবস্থা রেখেছে গণপূর্ত বিভাগ। এক কথায় এটি হবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নতুন উপশহর। প্লটগুলো যাতে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে সে সব বিবেচনা করে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কাঠার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। এই অঞ্চলে বেসরকারীভাবে জমি কেনা-বেচা হচ্ছে প্রতিকাঠা প্রায় ১০ লাখের কাছাকাছি। রাজশাহী হাউজিং স্টেট ইতোমধ্যেই প্লট দ্রুত বরাদ্দ দিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর ও শহরতলীতে যাদের কোন নিজস্ব জমি বা বাড়ি নেই তারাই শুধু এই আবাসনের প্লটের জন্য দরখাস্ত করার যোগ্য হবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই লটারির মাধ্যমে পাওয়া ব্যক্তিদের প্লট বুঝিয়ে দেয়ার কাজ শুরু করবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। মূল্য এক সঙ্গে কিংবা কিস্তির মাধ্যমে হাউজিং স্টেট রাজশাহী গ্রহণ করবে। এ ধরনের একটি সাহসী গ্রামমুখী পদক্ষেপ এই প্রথম বাংলাদেশে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত এমনি একটি পদক্ষেপে খুবই প্রান্তিক এবং সাধারণ মানুষ মাথাগোঁজার ঠাঁই পাবে। সরকারী এসব প্লটে বহুতল ভবন নির্মাণে ব্যাংক বড় মাপের সহযোগিতা দেবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সংসদ আব্দুল ওদুদ বিশ্বাস জনকণ্ঠকে জানান, হরিপুর এলাকার নতুন হাউজিং এস্টেটটি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তিনি আরও জানান, ছোট শহর এলাকার আবাসনের সঙ্গে সঙ্গে খুব শীঘ্রই ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে হাউজিং স্টেট সম্প্রসারণের কাজ শুরু করবে সরকার। সরকারের ছোট শহরে হাউজিং স্টেট সম্প্রসারণের কাজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরে শুরু হলেও এর অফিস প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে রাজশাহী শহরে। সাধারণ মানুষের এতে দুর্ভোগ বেড়েছে। কারণ রাজশাহী যাওয়া আসা করতে একজন সাধারণ মানুষের চার শ’ টাকা খরচ লাগে। তাই অবিলম্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গণপূর্ত ভবনের একটি অংশে স্থানীয়ভাবে হাউজিং স্টেটের কাজ শুরু করলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সরকারীভাবে বরাদ্দ প্লটের অফিস এখানে না থাকায় প্লট কেনা ও হস্তান্তরে বড় ধরনের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। একই কারণে প্লট হস্তান্তর বা বিক্রি হতে সময় নিচ্ছে।

নির্বাচিত সংবাদ