১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তবুও জয়ের আকাক্সক্ষায় তাজিকিস্তান যাত্রা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ প্রথমবারের চেষ্টায় ঘরের মাঠে বাগে পেয়েও ‘দ্য ক্রাউন’দের হারানো যায়নি। এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে দুভার্গ্যরে ড্র মেনে নিতে হয়েছিল। এবার তাদের মাঠেই ফিরতি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে ‘বেঙ্গল টাইগার্স’রা। শুক্রবার সকালেই আকাশপথে তাজিকিস্তান রওনা হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ফিফা বিশ্বকাপ ও এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে (এশিয়া জোনের গ্রুপ ‘বি’) এ্যাওয়ে ম্যাচে ১৮০ ফিফা র‌্যাঙ্কিংধারী বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ১৬০ ফিফা র‌্যাঙ্কিংধারী তাজিকিস্তান। নতুন ইতালিয়ান কোচ ফ্যাবিও লোপেজের অধীনে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভাল খেলার প্রত্যাশা নিয়েই দেশ ছেড়েছে মামুনুলরা। প্রথমবারের মতো এবং দীর্ঘদিন পর দলে ডাক পাওয়া খেলোয়াড়রা চান ভাল নৈপুণ্য উপহার দিতে। লোপেজের অধীনে সপ্তাহখানেক অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল ঢাকার বাফুফে আর্টিফিসিয়াল টার্ফে। গত ৩ নবেম্বর ২৩ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়। ইনজুরির কারণে দলে নেই লেফটব্যাক আতিকুর রহমান মিশু। এছাড়া জ্বরের কারণে স্টপারব্যাক রেজাউল করিম রেজা, জন্ডিসের কারণে উইঙ্গার জুয়েল রানা, দুটি কার্ড সমস্যার কারণে মিডফিল্ডার মোনায়েম খান রাজু ও ডিফেন্ডার তপু বর্মণ-ও দলে নেই। পারফর্মেন্সের বিচারে বাদ পড়েছেন লেফটব্যাক নুরুল ফয়সাল ও গোলরক্ষক মাজহারুল ইসলাম হিমেল। মূলত কিরগিজস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের যেই জাতীয় দলটি খেলেছিল সেই দলটিকেই ধরে রেখেছেন লোপেজ। ২৩ জনের দলে নতুন মুখ স্টপারব্যাক কেষ্ট ও নাসির উদ্দিন, গোলরক্ষক আশরাফুল রানা। দলে একেবারেই নতুন মুখ মোহামেডানের মিডফিল্ডার মাসুক মিয়া জনি।

গত ১৬ জুন ঢাকায় ‘হোম’ ম্যাচে তাজিকদের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ পাঁচ দলের মধ্যে আছে সর্বশেষ স্থানে। ৫ খেলায় ১ ড্র ও ৪ হারে তাদের সংগ্রহ ১ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে ২ ড্র ও ৩ হারে ২ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে তাজিকিস্তান। ৫ ম্যাচে ৪ জয় ও ১ ড্রয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে আছে জর্দান।

এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তান ফিফা স্বীকৃত ৭ ম্যাচে পরস্পরের মোকাবেলা করেছে। তাজিকিস্তান জিতেছে ৪ ম্যাচ, বাংলাদেশ ১টি। ড্র হয়েছে ২টি ম্যাচ। বাংলাদেশ জাতীয় দল তাদের সর্বশেষ জয় পেয়েছিল গত ৬ ফেব্রুয়ারি, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ’ ফুটবলের সেমিতে তারা ১-০ গোলে হারিয়েছিল থাইল্যান্ড যুব দলকে। তাজিকদের হারিয়ে আবারও জয়ের ধারায় ফেরার সুযোগ কাজে লাগাতে চায় নষ্ট তারা।

বাংলাদেশ যে ৭ বার তাজিকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছে তার ৫টিই বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচ। ২০০৩ সালের ২৬ নবেম্বর ঢাকায় সে ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল ২-০ গোলে। বিশ্বকাপের প্রাক-বাছাই পর্বের ফিরতি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওই বছর ৩০ নবেম্বর দুশানবেতে। ফল ছিল একই। ২০০৭ সালের ৮ অক্টোবর বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের হোম ম্যাচে তাজিকিস্তানকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। তবে ২৮ অক্টোবর দুশানবেতে এ্যাওয়ে ম্যাচে বাংলাদেশকে হারতে হয় ৫-০ গোলে।

এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে দুবার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-তাজিকিস্তান। একবার করে জিতেছে দুই দেশ। ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশকে ৬-১ গোলে হারিয়েছিল তাজিকিস্তান। ২০১০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় অনুষ্ঠিত এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে তাজিকিস্তানকে ২-১ গোলে হারায় বাংলাদেশ। গোল করেছিলেন মিশু এবং এনামুল। ১৬ জুন যে ম্যাচে বাংলাদেশ ১-১ গোলে তাজিকিস্তানের সঙ্গে ড্র করেছিল, সেই ম্যাচে ৫০ মিনিটে এমিলির গোলে লিড নেয় বাংলাদেশ। ৬৭ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তাজিকিস্তান। তারপরও শেষদিকে (৮৮ মিনিটে) গোল খায় বাংলাদেশ! ওই গোলটি ছিল বাংলাদেশের জন্য দুভার্গ্যরে। প্রথম দফায় ফ্রি কিক প্রতিহত করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই ফ্রি কিক রেফারি আবারও নেয়ার নির্দেশ দেন। ফিরতি ফ্রি কিকে বাংলাদেশের মানবপ্রাচীর আরও পিছিয়ে নেয়া হয়। এই ফ্রি কিকে লক্ষ্যভেদ করে সমতা ফেরায় প্রতিপক্ষ। ‘প্রস্তুতি ভালই হচ্ছে। আগামী ম্যাচটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভাল ফল যেন হয়, সেজন্য আপ্রাণ চেষ্ট করব। যদিও প্রতিপক্ষের মাটিতে খেলা, ঠা-া আবহাওয়ায় খেলা, প্রতিপক্ষ দলকে সমীহ করেও খেললেও তারপরও লক্ষ্য থাকবে জেতার।’ কথাগুলো ফ্যাবিও লোপেজের। তাজিকিস্তানের ঠা-া আবহাওয়া প্রসঙ্গে লোপেজ বলেন, ‘জানি ওখানে অনেক ঠা-া। তবে আমরা যেহেতু কদিন আগেই ওখানে যাব, কাজেই আশা করি ওখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারব।’

উল্লেখ্য, এটি একদিকে যেমন বিশ্বকাপ বাছাই, সেই সঙ্গে এএফসি এশিয়ান কাপেরও যৌথ বাছাই। তাই বিশ্বকাপ বাছাইয়ে যে কয়টি ম্যাচ বাকি আছে বাংলাদেশের তার সবটিতেই ভাল করে অন্তত এশিয়ান কাপের মূলপর্বে যাওয়ার আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেছেন মামুনুল।

বাংলাদেশ দল ॥ শহীদুল, লিটন, আশরাফ, নাসির, নাসিরুল, ইয়াসিন, ইয়ামিন, রায়হান, কেষ্ট, ওয়ালী, মামুনুল, জামাল, হেমন্ত, জনি, শাহেদুল, ইমন, রনি, সোহেল রানা, কোমল, সজীব, ফয়সাল মাহমুদ, জীবন ও তকলিস।