২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মেয়েদের অনুপস্থিতির কারণ বাল্যবিয়ে

  • জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ ॥ জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় মুন্সীগঞ্জে ৪৯৮ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেনি। এর মধ্যে জেএসসিতে ৪০৯ এবং জেডিসিতে ৮৯ জন। বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত নিয়ে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে- অনুপস্থিতির অন্যতম কারণ বাল্যবিবাহ। খোদ জেলা সদরের পৌরসভাধীন রনছ রুহতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমেনা আক্তারের বিয়ে হয়েছে কয়েক দিন আগে। তাই সে অনুপস্থিত। প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক সরকার জানান, আমেনা প্রবেশপত্রটিও গ্রহণ করেনি, এটি পড়ে আছে বিদ্যালয়ের আলমিরায়। বিদ্যালয় থেকে তার অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে তিনি জেনেছেন, আমেনার বিয়ে হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদল জানান, এই পরীক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির সঠিক কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে খোঁজ খবর করা হচ্ছে, এরপরই কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা প্রশাসনের পরিখংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি কেন্দ্রেই ছিল অনুপস্থিতি। মুন্সীগঞ্জ জেলায় এ বছর জেএসসি পরীক্ষার্থী সংখ্যা ২০ হাজার ৪২৩। তবে ১৫ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ২০ হাজার ১৪ জন। এছাড়া জেডিসির মোট পরীক্ষার্থী এক হাজার ৪০২। ৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে এক হাজার ৩১৩ জন।

জেএসসিতে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার টঙ্গীবাড়ি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেই ১১৯ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত। এই উপজেলার বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুপস্থিত রয়েছে ২৩ জন। সিরাজদিখান উপজেলার কুচিয়ামোড় আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ২৯, ইছাপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১১, শেখরনগর রায় বাহাদুর শ্রীনাথ ইনস্টিটিউশনে ২০, রাজদিয়া অভয়নগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২৪। লৌহজং উপজেলার লৌহজং পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পাঁচ ও হলদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই জন। গজারিয়া উপজেলার গজারিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাত ও ভবেরচর ওয়াজের আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২। শ্রীনগর উপজেলার শ্রীনগর সরকারী সুফিয়া এ হাই খান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪২, হাসাঢ়া কালী কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯ ও রাঢ়ীখাল জেসি বোস উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৯। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার এভিজেএম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩৩ ও কেকে গব. ইনস্টিটিউশন কেন্দ্রে ২৪ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে।

শুধু জেএসসি-জেডিসিই নয়, এর চেয়ে ছোট মেয়েদেরও বিয়ের আয়োজন চলছে এখানে। কিছু বিষয় প্রশাসনের নজরে আসে, বন্ধ হয়। কিন্তু আড়ালে অনেক বাল্যবিয়েই হচ্ছে। জন্ম নিবন্ধন নিয়ে নানা ছলচাতুরী এবং কাজীদের সঙ্গে আঁতাত করে এমনটি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীর বাল্যবিয়ের আয়োজন চলাকালে প্রশাসন তা বন্ধ করে দেয়। তবে এর আগেই বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়ে গেছে।

উপজেলাটির কাঠাঁলবাড়ীর লুৎফর খানের কন্যার বিয়ের আয়োজন চলছিল। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যতন মারমা শ্রীনগর থানার ওসি সাহিদুর রহমানকে নিয়ে বিয়ের আসরে আসেন। পরে মেয়ের বাবার কাছ থেকে মুচলেকা নেন ‘প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দেবেন না।’ এলাকাবাসী জানায়, ওই এলাকার সৌদি প্রবাসী টিটু হোসেনের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার বিথী আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানের দিন ধার্য ছিল। কনে স্থানীয় আলেমন নেছা জুনিয়র হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী।

একটি সূত্র দাবি করেছে- তবে মঙ্গলবার এই বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়েছে শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল কাজী অফিসে। সেখানে মেয়েকে প্রাপ্ত বয়স্ক দেখিয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। শ্রীনগর থানার ওসি সাহিদুর রহমান রাতে জানান, প্রাপ্ত বয়স্কা হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে তার বাবা বিয়ে দেবে না বলে মুচলেকা দিয়েছে। তবে বিয়ে রেজিস্ট্রি সম্পর্কে তিনি অবগত নন, খোঁজ খবর করা হচ্ছে।