২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একাত্তরে বিতর্কিত বাশার এবার বাড়ি দখলের চেষ্টায়

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ টঙ্গীবাড়ি উপজেলার কামারখারায় বাড়ি দখলের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত চরিত্র আবুল হালদার। এই অভিযোগ করে তার বোন আমেরিকা প্রবাসী জোহরা শিকদার মঞ্জু দেশে ফিরে বলেন, একাত্তরে পাকি বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে নাজেহাল করেছে নিজ পরিবারকে, তা এখনও বন্ধ হয়নি। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের খবর শোনার অপরাধে (?) তার ভয়ে তটস্থ থাকতে হয়েছে। ভয় দেখানোর জন্য সে বন্দুক হাতে বাড়ির নারিকেল গাছের ডাবে গুলি ছুঁড়েছে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে। তাই বাবা এবং অন্য ভাই-বোনরা লুকিয়ে রেডিওতে স্বাধীন বাংলার খবর শুনেছেন। রেডিওটি লুকিয়ে রাখতে হয়েছে। জোহরা শিকদার মঞ্জু বলেন, বড় এই ভাই, বাশার মুক্তিযুদ্ধের সময়ে হালদার পরিবারকে যে মানসিক টর্চার করেছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তাহলে বাইরের মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করেছে, তা সহজেই অনুমেয়। তিনি বলেন, তখন বাবা এবং অন্য ভাইবোনরা স্বাধীন বাংলা শোনার জন্য ব্যাকুল থাকতাম। আর আবুল বাশার মুক্তিযুদ্ধকে কখনই মেনে নিতে পারেনি।

মুক্তি পাগল মানুষকে কষ্ট দিয়েছে। এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধারা তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে অপর ভাই মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাঈদ আহম্মেদ অনেক কষ্টে তাকে রক্ষা করেন। তখন সে প্রতিজ্ঞা করে মুক্তিযদ্ধের বিপক্ষে আর কখনও অবস্থান নেবে না। কিন্তু ফিরে এসে সে কথা ভুলে ফের একই আচরণ করে। পরে বিএনপিতে যোগ দিয়েও মানুষকে হয়রানি করেছে। সাত বোন তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় আবুল বাশার হালদার এখনও থেমে নেই। সে বোনের বাড়ি জবর দখল করার পাঁয়তারা করছে। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তার এতই বিদ্বেষ যে, বঙ্গবন্ধুর ছবিতে মুখে সিগারেট ঠেসে ধরে পুড়িয়েছে। আবুল বাশার হালদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধরা আমাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল তখনকার প্রতাপশালী কালীপদ ঘোষের মিথ্যা অভিযোগে। আর ঢাকেশ্বরী মিলের কাছে আওয়ামী লীগের অফিস ভাংচুর এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি নষ্টের জন্য তাকে তিন মাস নারায়ণঞ্জ জেলে থাকতে হয়েছে। পরে ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। বাড়ি দখলের অপচেষ্টা সম্পর্কে বলেন, বোনের বৈধ লীজের কাজপত্র থাকলেও বাড়িটির প্রকৃত মালিক তিনি নন। অন্যদিকে টঙ্গীবাড়ি থানার ওসি আলগমীর হোসেন বলেন, কাগজপত্র অনুযায়ী বাড়ির বৈধতা জোহরা শিকদার মঞ্জুর। কিন্তু বোন আমেরিকায় থাকার সুযোগে আবুল বাশার হালদার তা দখল করার চেষ্টা করছে। এই বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।