১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ময়রার কাছে ফিরেছে মিষ্টির হাঁড়ি ॥ কদর কুটুমবাড়িতেও

সমুদ্র হক ॥ বাঙালীর শিকড়ের সংস্কৃতির আবহমান রূপগুলো ফিরে আসছে। একটা সময় ‘কুটুমবাড়ি’ যেতে মাটির হাঁড়িতে করে মিষ্টি নেয়ার চল ছিল। বিয়েবাড়ি ও নানা অনুষ্ঠানে একপক্ষ আরেকপক্ষের বাড়িতে যেত মাটির হাঁড়ি ভর্তি মিষ্টি নিয়ে। বিশেষ করে বরযাত্রীবাহী গরুর গাড়ির সামনে মাটির হাঁড়িতে মিষ্টি নিয়ে একজন বা কয়েকজন হেঁটে যেত। মিষ্টির এই হাঁড়ি প্রমাণ দিত ওই গরুরগাড়িতে বর যাচ্ছে। একটা সময় শহরে মিষ্টির দোকানগুলোতেও মাটির হাঁড়িতে মিষ্টি ভরে দেয়া হতো। গ্রামের হাটবাজারের মিষ্টির দোকানে তো ছোট, বড়, মাঝারি হাঁড়ি সাজানোই থাকত। এখন ময়রা মিষ্টি বানায় ঠিকই তা ভরে দেয়া হয় শক্ত কাগজের প্যাকেটে। মাটির হাঁড়ি ও খুটিতে কেবল দই ভরানো হয়। সেদিনের সেই মিষ্টির হাঁড়ি ফিরে আসছে ময়রার দোকানে। বগুড়ার দইয়ের সুখ্যাতি দেশ ছাড়িয়ে বিদেশবিভূঁইয়েও পৌঁছে গেছে। বগুড়ার কুমোররা এতকাল শুধু দইয়ের সরা, খুটি ও হাঁড়ি বানোত। এখন তারা মিষ্টির হাঁড়িও বানাচ্ছে। বগুড়ার পালপাড়া ডেমাজানি গোকুল এলাকার কুমোর বা মৃৎ শিল্পীরা জানায়, দইয়ের হাঁড়ির পাশাপাশি এখন মষ্টি ভরানোর জন্য মাটির হাঁড়িরও অর্ডার আসছে। শহরের ও উপজেলা পর্যায়ের মিষ্টির অনেক দোকানি মিষ্টি বিক্রির জন্য মাটির হাঁড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতি এক শ’ হাঁড়ি বিক্রি হচ্ছে ৬শ’ টাকায়। এ ছাড়াও ছোট-বড়-মাঝারি ধরনের হাঁড়ির দাম প্রতি শ’ ৪শ’ থেকে ৭শ’ টাকা পর্যন্ত। বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির কয়েকটি দোকানে কাগজের প্যাকেটের পাশাপশি মাটির হাঁড়িতেও মিষ্টি বিক্রি হতে দেখা যায়। একজন জানালেন, বনেদী পরিবারের অনেকে এখন মাটির হাঁড়িতে মিষ্টি চায়। কখনও হাঁড়ি সাজিয়েও দেয়া হয়। একদার সেই মিষ্টির হাঁড়ি ফিরে আসছে...। এক প্রবীণ বললেন, কুটুমবাড়ির মিষ্টির হাঁড়ির কদরই আলাদা।