২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লাল কাঁকড়ার দ্বীপ গঙ্গামতি সমুদ্র সৈকত

কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের অদূরেই রয়েছে আরেক নয়নাভিরাম সমুদ্র সৈকত গঙ্গামতি। লাল কাঁকড়ার দ্বীপ নামে খ্যাতি রয়েছে সৈকতটির। নিবিড়ভাবে নিজের চোখে না দেখলে এর সৌন্দর্য অপরকে বোঝানো যায় না। এবড়ো থেবড়ো নয়। সাগরের স্বচ্ছ লোনা জলে জোয়ারের সময় ডুবিয়ে দিলেও ভাটিতে আবার বিশাল বেলাভূমি। বেলাভূমে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের দৃশ্য অবলোকন করা যায়। প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ আর আধা কিলোমিটার প্রস্থ বেলাভূমে প্রতিদিন পদচারণা ঘটে দর্শনার্থীর। বেলাভূমে হাঁটলেই লাখো লাল কাঁকড়ার ভোঁ দৌড় অবলোকন করা যায়। কাঁকড়াদের ছোটাছুটিতে মনে সৃষ্টি হয় উচ্ছ্বলতা। কেউ বা উর্ধশ^াসে দৌড়ে দু’একটি কাঁকড়া ধরে ফেলে। দেখে নিবিড়ভাবে। বেলাভূমের দক্ষিণ দিকটায় রয়েছে বনাঞ্চল। ঝাউবাগান ও ছইলা-কেওড়া গাছ। উত্তর দিকে রয়েছে শুঁটকি পল্লী। বীচের সর্বত্রই মাছ শিকারিদের বিচরণ চোখে পড়ে।

গঙ্গামতি সৈকতে যেতে এখন আর পথ দুর্গম নয়। কয়েক বছর আগে করা হয়েছে পাকা সড়ক। নির্মাণ করা হয়েছে লেকের ওপর সেতু। সৈকত ঘেঁষা গ্রামটিতে রয়েছে সহস্রাধিক পরিবারের বসবাস। যাদের সবাই মাছ শিকারের পাশাপাশি কৃষিকাজ করে। অন্তত ৩২ বছর এসব পরিবারের বসবাস। অধিকাংশই ভূমিহীন। ছোট্ট, বসবাসের উপযোগী নয়, তারপরও ঝুপড়ি কিংবা টিনের ছাউনির পুনর্বাসিত ঘরে এরা বাস করে। পর্যটক কিংবা দর্শনার্থীর আগমনে এরা হয় উৎফুল্ল। সবাইকে সজ্জন ভাবে। ভয়াল সিডর আইলার মতো দুর্যোগের ঝুঁকিতে এসব পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে শোনা যায় দুর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকার বাস্তব গল্প। শোনা যায়, মৃতদের শোকগাথা বেদনার স্মৃতিকথা। এসব মানুষের দুর্যোগকালীন আশ্রয়ে নির্মাণ হয়েছে দুটি আশ্রয়কেন্দ্র। গঙ্গামতি সৈকতে যাওয়ার আগে রয়েছে মনোরম লেক। সাগরের সঙ্গে মিলেছে লেকটি। দুই পাশে বিশাল আকৃতির হাজারো ছইলা ও কেওড়া গাছ রয়েছে। দাঁড়ানো গাছের ছায়া লেকের দর্শনার্থীদের রোদ থেকে রক্ষা করে। লেকটিতে ভ্রমণে রয়েছে ইঞ্জিনচালিত নৌকা কিংবা ট্রলার। কুয়াকাটা থেকে সরাসরি সাগরপথে ট্রলার কিংব সড়কপথে গঙ্গামতি সৈকতে যাওয়া যায়। এ সৈকতে যাওয়ার পথে দেশের বৃহৎ মিশ্রিপাড়া রাখাইন পল্লীর বৌদ্ধমূর্তি দেখার সহজ সুযোগ রয়েছে। গঙ্গামতি যাওয়া-আসার জন্য দ্বিমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে কলাপাড়া উপজেলা সদর থেকে।

Ñমেজবাহউদ্দিন মাননু

কলাপাড়া থেকে