২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইন্টারকানেকশনের জন্য নিউইয়র্কে কাক্সিক্ষত স্পিডে ইন্টারনেট মিলছে না

ব্রান ফাং

নিউইয়র্কবাসীদের অভিযোগ তারা ভেরাইজন, টাইম ওয়ার্নার কেবল ও কেবলভিশনকে ইন্টারনেটের যে সার্ভিস চার্জ দিচ্ছে সে তুলনায় তাদের প্রতিশ্রুত ইন্টারনেট স্পিড পাচ্ছে না। নিউইয়র্ক এ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস এখন তাদের এ অভিযোগের তদন্ত করে দেখছে। স্মরণ করা যেতে পারে যে, আমেরিকায় সর্ববৃহৎ সেসব ইন্টারনেট প্রোভাইডার আছে এ তিনটি প্রতিষ্ঠান তার অন্যতম।

এ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে ভেরাইজন, টাইম ওয়ার্নার কেবল ৬ কেবলভিশনকে দেয়া চিঠিতে গ্রাহকদের এ অভিযোগ তুলে ধরা হয় এবং তাদের ব্রডব্যান্ড স্পিড বিজ্ঞাপনে যেমন বলা হয়েছে তেমনই দ্রুত এ বক্তব্যের সমর্থনে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র তাদের কাছে চাওয়া হয়।

এ্যাটর্নি জেনারেল এরিক শোনেইডম্যান বলেন, নিউইয়র্কবাসীর সেই ইন্টারনেট স্পিডে প্রাপ্য যার জন্য তারা চার্জ দিচ্ছে। অথচ দেখা যাচ্ছে অনেকেই হয়ত এ ধরনের স্পিডের জন্য চার্জ দিচ্ছে অথচ পাচ্ছে আরেক ধরনের স্পিড। নিউইয়র্কে ইন্টারনেট সুবিধার জন্য পরিবারগুলো ইতোমধ্যে বিপুল অংকের অর্থ ব্যয় করেছে। কাজেই অবস্থাটা যদি এমন হয় তারা কোম্পানির প্রতিশ্রুত স্পিডটা পাচ্ছে না তাহলে তা বরদাশত করা হবে না।

উল্লেখিত তিন কোম্পানি তদন্তে সহযোগিতা করার অঙ্গীকার করে বিবৃতি দিয়েছে যে, গ্রাহকপর্যায়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যে ইন্টারনেট স্পিড দেখার কথা সেটাই তারা দিচ্ছেÑ এই মর্মে তারা আস্থাবান। কিন্তু এ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের এক মুখপাত্র বলেন, তাদের হাতে তথ্য আছে সেখানে দেখা যায় গ্রাহকদের যা বলা হয়েছে সে তুলনায় ইন্টারনেট স্পিড বেশ কম। ওই অফিস থেকে দেয়া চিঠিতে বলা হয় যে, আন্তঃসংলাপ চুক্তির ব্যাপারে ব্যবসাগত বিরোধ ও কারিগরি সমস্যার কারণে গ্রাহকরা উচ্চতর গতির ইন্টারনেটের জন্য সার্ভিস চার্জ দিয়েও হয়ত কম স্পিড পাচ্ছেন।

ফেডারেল ট্রেড কমিশনের গ্রাহক স্বার্থরক্ষা ব্যুরোর প্রাক্তন ডিরেক্টর ডেভিড ভøাডেক বলেন, এ কারণেই আমরা এই শিল্পের উদ্দেশ্যে এক হুঁশিয়ারি বার্তা পাঠাচ্ছি যে, তোমরা প্রতিশ্রুত স্পিডেই ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছÑ এই দাবি করে থাকলে তার সমর্থনে তথ্য প্রমাণ হাজির কর।

ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনস মেজারিং ব্রডব্যান্ড আমেরিকার মতো কিছু কিছু স্পিড টেস্ট আছে সেখানে ইন্টারনেট প্রোভাইডাররা সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অতি সাম্প্রতিক রিপোর্টেও দেখা গেছে যে, তারা বিজ্ঞাপনে যে গতির কথা বলে থাকে সেটা বহুলাংশেই পূরণ করেছে।

কিন্তু এ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সিনিয়র আইনজীবী টিম উ বলেন, এফসিসির পরীক্ষায় গ্রাহক পর্যায়ে সত্যিই কতটা স্পিড পাওয়া যাচ্ছে তা নির্ণয়ে সবকিছুই যে যাচাই করে দেখা হয় তা নয়। ইন্টারনেট প্রোভাইডারের নিজস্ব নেটওয়ার্কের এক বিন্দু থেকে আরেক বিন্দু পর্যন্ত কোন গতিতে ড্যাটা প্রবাহিত হচ্ছে পরীক্ষায় সেটাই মূলত দেখা হয়। কিন্তু ইন্টারনেটের বাকি অংশ থেকে ড্যাটা কি গতিতে গ্রাহকের নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেছে অধিকাংশে ক্ষেত্রে তা উপেক্ষা করা হয়। ইন্টারকানেকশন পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত ইন্টারনেটের ওই অংশ বা স্থানের পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকলে গ্রাহকপর্যায়ে ইন্টারনেটের গতি দুর্বল হতে পারে। উ আরও বলেন, কোন কোম্পানি যেমন ধারণ টাইমওয়ার্নার কেবল যখন বিজ্ঞাপনে গতির কথা বলে প্রতি সেকেন্ডে ৩শ’ মেগাবাইট তখন তারা এ প্রতিশ্রুতি দেয় না যে, টাইম ওয়ার্নার কেবলে ঢোকার গতি হবে সেকেন্ডে ৩শ’ মেগাবাইট। তারা প্রতিশ্রুতি দেয় যে, ইন্টারনেটে যার গতি হবে সেকেন্ডে ৩শ’ মেগাবাইট। আর সেটা করতে গেলে ইন্টারকানেকশনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এটাই একটা সমস্যা, যার কারণে গ্রাহকপর্যায়ে ইন্টারনেটের গতি বেশ কমে যেতে পারে।