২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সুনিধি ও হাবিবের সুরে উন্মাতাল শ্রোতা

সুনিধি ও হাবিবের সুরে উন্মাতাল শ্রোতা
  • সংস্কৃতি সংবাদ

মনোয়ার হোসেন ॥ আয়োজনটি ছিল গানের। তাই বয়ে গেল সুরের ঝরনাধারা। আর উন্মুক্ত আকাশ সংস্কৃতির কারণে এদেশের শ্রোতার কাছেও পরিচিত ও জনপ্রিয় শিল্পী সুনিধি চৌহান। বলিউডি ফিল্মের এই প্লে ব্যাক গায়িকার ‘মাই নেম ইজ শিলা, শিলা কি জাওয়ানি’ গানের সুরে অনেকেই হয়েছেন মাতোয়ারা। শুক্রবার হেমন্তের রাতে অনুষ্ঠিত সঙ্গীতাসরে গাইলেন ভারতের এই জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। হিন্দী ছবির গানের পাশাপাশি বাংলা গানের পরিবেশনাতেও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভাসালেন শ্রোতাকে। শিল্পীর কণ্ঠমাধুরীর উষ্ণতায় যেন জেগে উঠেছিল রাজধানী ঢাকার দর্শক-শ্রোতার হৃদয়। তার সঙ্গে সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আনন্দ যোগ করেন এদেশের সঙ্গীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ এবং ইন্ডিয়ান আইডল ফাইভের বিজয়ী রাকেশ মাইনি।

শীতের আগমনী বার্তা বরণের এ কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হয় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার নবরাত্রি হলে। ‘উইন্টার বাস্ট-২০১৫ ঢাকা’ শীর্ষক সঙ্গীতানুষ্ঠানটির আয়োজন করে ইনসেপশন মিডিয়া ও ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্ট ।

তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে ঢাকা মাতালেন সুনিধি চৌহান। সেই আনন্দের ফল্গুধারা দেখা গেল গতকাল। হেমন্তের সন্ধ্যায় গানে গানে কয়েক হাজার দর্শক-শ্রোতাকে উন্মাতাল করে রাখেন বলিউডি ছবির হালের তুমুল জনপ্রিয় শিল্পী সুকণ্ঠী সুনিধি চৌহান। একে একে জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে ছুটির রাতটা যেন নিজের করে নিলেন তিনি। তার সঙ্গে হাজার দর্শক-শ্রোতা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে নেচেগেয়ে উপভোগ করেন এ কনসার্ট।

শুরুতেই তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে মাতালেন শিল্পী হাবিব ওয়াহিদ। ঘড়ির কাঁটা তখন ৭টা ৪০ মিনিট। ভরাট কণ্ঠে ধরেন তার জনপ্রিয় গান ‘বলে তো দিয়েছি হৃদয়ের কথা’। গানের কথায়, সুরে ও গায়কীতে দর্শকশ্রোতার হৃদয়ও যেন নেচে ওঠে। এরপর শুধুই গানের মূর্ছনা। দ্বিতীয় গানটিও রোমান্টিক ধাঁচের। গাইলেন ‘আলতো ছোঁয়ায় চোখের চাওয়ায়’ গানটি। তৃতীয় গানটিও প্রেমরসে সিক্ত ‘রাত নিঝুম বসে আছো তুমি’। এরপর চতুর্থ গানটি তার অন্যতম সেরা জনপ্রিয় গান।‘ ভালো বাসবো বাসবো রে বন্ধু তোমায় যতনে’ গানের মাধুর্যে নেচে উন্মাতাল হয়ে ওঠে গোটা মিলনায়তনে। দশকশ্রোতাও তাতে কণ্ঠ মেলায়। এরপর আবারও জনপ্রিয় গান ‘আমি তোমার মনের ভেতর/একবার ঘুরে আসতে চাই’। এরপর গাইলেন ‘কৃষ্ণ আইলা রাধার কুঞ্জে ফুলে পাইলো ভোমরা’। এরপর গেয়ে শোনান বাংলার মরমী সাধক হাসন রাজার গান। ততক্ষণে জমে উঠেছে সঙ্গীতাসর, কানায় কানায় ভরে উঠেছে মিলনায়তন। শ্রোতার মাঝে ছড়িয়েছে উদ্দীপনা।

হাবিবের পরিবেশনা শেষে মঞ্চে আসেন রাকেশ মাইনি। সুরে সুরে শ্রোতাকে মাতিয়ে রাখেন এই তরুণ শিল্পী।

ছায়ানটে রজনীকান্ত সেনের জন্মবার্ষিকী উদ্্যাপন ॥ বাংলার বরেণ্য গীতিকবি রজনীকান্ত সেন। সঙ্গীতের সঙ্গেই বেঁধে নিয়েছিলেন জীবনটা। গীতিকার ও সুরকার হিসেবে বাংলার সঙ্গীত ভুবনে অবিস্মরণীয় হয়ে আছেন এই কবি। শুক্রবার হেমন্ত সন্ধ্যায় স্মরণ করা হলো এই সুরস্রষ্টাকে। উদ্্যাপিত হলো তার সার্ধশত জন্মবার্ষিকী। একক ও সম্মেলক গান, পাঠ, আবৃত্তি ও বক্তৃতায় সাজানো এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ছায়ানট। বৈচিত্র্যময় পরিবেশনায় ধানম-ির ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনের মিলনায়তনে সৃষ্টি হয় অনন্য এক পরিবেশ। মিলনায়তন ভর্তি শ্রোতা নির্মল আনন্দে উপভোগ করে অনুষ্ঠানটি।

জ্যাজ এ্যান্ড ব্লুজ ফেস্টিভ্যাল ॥ রাজধানীর বিজয় সরণির সামরিক জাদুঘর মাঠে শুরু হওয়া জ্যাজ এ্যান্ড ব্লুজ ফেস্টিভ্যালের দ্বিতীয় দিন ছিল শুক্রবার। হেমন্তের সন্ধ্যা থেকে মাঝরাত অবধি এখানে বয়ে গেল জ্যাজ ও ব্লুজ গানের সুরেলা শব্দধ্বনি। সুরের সেই অপার স্নিগ্ধতায় সিক্ত হলো ঢাকার সঙ্গীতানুরাগীরা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ শতকের দিকে জ্যাজ মিউজিকের উৎপত্তি। গত এক শ’ বছর ধরে জ্যাজ মিউজিক আফ্রিকান ও আমেরিকান সঙ্গীত ঐতিহ্যের ধারা বহন করে চলেছে। এখন আমেরিকায় সবচেয়ে জনপ্রিয় সুরধারা এই জ্যাজ মিউজিক। সেই জ্যাজ মিউজিক বিশে^র বিভিন্ন দেশের গ-ি ছাপিয়ে বাংলাদেশেও তার প্রভাব ছড়িয়েছে। মঞ্চে বাংলাদেশের শিল্পীদের পরিবেশনা তারই প্রমাণ দিল।

গ্রামীণফোনের পৃষ্ঠপোষকতায় এ আয়োজনের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হলো ‘জ্যাজ এ্যান্ড ব্লুজ ফেস্টিভ্যাল ঢাকা ২০১৫’। এর আয়োজক ব্লুজ কমিউনিকেশন্স লিমিটেড। দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের নিয়ে সাজিয়েছে তিন দিনের এ উৎসব। দর্শকশ্রোতার অধিকাংশই তরুণ-তরুণী। এসেছেন বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশীরাও। বিশাল স্টেজে আলোর ঝলকানিতে মোহনীয় পরিবেশে জ্যাজ মাস্টারের সুরের মূর্ছনায় ভেসে গেলেন সবাই। একে একে শিল্পীরা মঞ্চে উঠছেন, আর সুরের মূর্ছনায় অভীভূত করছেন দর্শকশ্রোতাকে।

গণ অর্থায়নে নির্মিতব্য ছবি সংযোগের সম্মিলনসভা ॥ গণ অর্থায়নে সংযোগ শিরোনামে চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন নির্মাতা আবু সাইয়ীদ। ১০ হাজারের অধিক ব্যক্তির সহযোগিতায় নির্মিত হবে ছবিটি। এ উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উন্মুক্ত মঞ্চে সংযোগ-এ সংযুক্তি শীর্ষক সম্মিলনসভার আয়োজন করা হয়। আজ শনিবারও বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই সম্মিলন অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ সঙ্গীত সপ্তাহ শুরু ॥ শুক্রবার থেকে শুরু হলো দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ সঙ্গীত সপ্তাহ। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে সকালে উৎসবের সূচনা। সঙ্গীত সম্মেলন ও কর্মশালা দিয়ে সাজানো হয়েছে আয়োজনটি। সকালের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেলে শুরু হয় সঙ্গীতানুষ্ঠান। এতে অংশ নেয় শিরোনামহীন, চিরকুট, লালন, মিনার, পাওয়ারসার্জ, দ্য ব্রাদারহুড প্রজেক্ট, আরশিনগর, ত্রিরতœ এবং শ্রীলঙ্কার শিল্পীদল শক্তি। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব থিয়েটার আর্টস (বিআইটিএ) অনুষ্ঠানে বিরল কিছু বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে সঙ্গীত পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত।