২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

না বিপ্লব, না সংহতি; ৭ নবেম্বর হল ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’

না বিপ্লব, না সংহতি; ৭ নবেম্বর হল ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ না বিপ্লব, না সংহতি; প্রকৃতপক্ষে ৭ নবেম্বর হল মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ও ৩ নবেম্বরের পর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের আরেকটি কলঙ্কিত দিন। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার পর সামরিক বাহিনীর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সেনানায়কদের হত্যা করে ষড়যন্ত্রকারীরা এদিনই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পাকাপাকিভাবে অধিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকেই ইতিহাস বিকৃতির শুরু। অথচ জাতির পিতাকে হত্যা, জাতীয় চার নেতা আর মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকদের হত্যা একই সূত্রে গাঁথা। ইতিহাস বিকৃত করে দিনটিকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। কাজেই ৭ নবেম্বর হোক সত্য উদঘাটনের দিন।

দেশের ইতিহাসে ঘটনাবহুল ৭ নবেম্বর উপলক্ষে শনিবার এক স্মরণসভায় মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করে মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম স্মৃতি পরিষদ। তারা দিনটিকে ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মুক্তিযুদ্ধকালীন ২নং সেক্টরে তার কমান্ডার এবং পরবর্তীতে ‘কে ফোর্সের’ অধিনায়ক মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ বীর উত্তমের স্মৃতিচারণ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদ মোশাররফ ছিলেন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। বঙ্গবন্ধুকেই স্বাধীনতার ঘোষণাকারী মেনে তিনি যুদ্ধ করেছেন। তার নেতৃত্বেই সেনাবাহিনী ‘৭৫ এর ৩ নবেম্বর বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের প্রধান হোতা খন্দকার মোশতাক আহমদের অবৈধ শাসনের অবসান ঘটায়। সে সময় তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর অকূতোভয় একদল অফিসার ও জওয়ানকে পাশে পেয়েছিলেন। তিনি খুনী ফারুক-রশীদ-ডালিম চক্রকে বঙ্গবভনের দখল থেকে উচ্ছেদ করেন। তিনিই সেনাবাহিনীতে চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু তার ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সেনানিবাসে অরাজক অবস্থার সৃষ্টি করা হয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তথাকথিত সিপাহী জনতার বিপ্লবের নামে ৭ নবেম্বর খালেদ মোশাররফ ও অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা সৈনিককে ক্যান্টনমেন্টে হত্যা করা হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করে কীভাবে বিপ্লব হয়, সংহতি হয়? সাম্প্রতিক ব্লগার-প্রকাশক হত্যাকা- সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হত্যাকা- ঘটার আধঘণ্টার মধ্যেই জঙ্গি সংগঠন দায় স্বীকার করছে। কারা এরা? যারা একাত্তরের পরাজিত শক্তি তারাই আইএস, তারাই আনসারউল্লাহ বাংলাটিম, তারাই জঙ্গি, তারাই জামায়াত-শিবির। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য তারাই এসব হত্যাকা- চালাচ্ছে। এটি দেশি ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ। যুদ্ধাপরাধ বিচাকের বানচাল করতেই এসব হত্যাকা- ঘটানো হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, জাসদ রাজনীতিতে বিভেদ তৈরি না করলে জিয়াউর রহমান এতো সুবিধা নিতে পারতেন না। জিয়াউর রহমান ৭ নবেম্বরের চূড়ান্ত ফায়দা হাসিল করেছিলেন। তার সময়েও কমপক্ষে ২১ বার সেনাবিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছে। নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে এসব ঘটনায় তিনি সেনাবাহিনীর প্রায় দুই হাজার সদস্যকে বিনা বিচারে হত্যা করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, যে দিনটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়েছে বিএনটি সেই দিনটিকে বিপ্লব দিবস নাম দিয়ে পালন করে। এটা ইতিহাসের চরম বিকৃতি। ‘৭৫ এর পর থেকেই ষড়যন্ত্র করে ইতিহাসের বিকৃতি করা হয়েছে। তাই নতুন প্রজন্মকে ওই সময়ের প্রকৃত ঘটনা ও ইতিহাস জানাতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাকারীদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়েছে। কিছু মৌলবাদী ও জঙ্গি ছাড়া দেশের মানুষ সবাই গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পক্ষে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ জনগণকে নিয়েই করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে খালেদ মোশাররফের স্ত্রী সালমা খালেদ আক্ষেপ করে বলেন, খালেদ মোশারফের মারা যাওয়া প্রায় ৪০ বছর হতে যাচ্ছে। উনি কতো বড় মাপের একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। অথচ প্রায় বিস্মৃতির আড়ালে চলে যাচ্ছেন। নতুন প্রজন্ম মুক্তিযদ্ধে তার অবদান সম্পর্কে কিছুই জানে না। লিখিত বক্তব্যে খালেদ মোশাররফের মেয়ে ও জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সদস্য মাহজাবিন খালেদ তার বাবার জীবনের বীরত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এটা নিশ্চিত যে ৭ নবেম্বরের হত্যাকা-ের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। জাতীয় স্বার্থেই এই হত্যাকা-ের বিচার করতে হবে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে একাত্তর টিভির প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ-সম্পাদক রাশেক রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এআর/