২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ওরা কখনও বদলাবে না

  • ড. আবুল আজাদ

মনে হতে পারে এবং সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে আমাদের সরকার, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেÑজঙ্গীদের সমূলে উৎখাত। কিন্তু আমাদের রাজনীতির যে দুটি ধারা ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে তার একটি মুক্তিযুদ্ধ চেতনার শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ধারা, অপরটি গ্রেনেড-পেট্রোলবোমার সহিংস জঙ্গীবাদ। এই জঙ্গীবাদ দমনে সরকারের আন্তরিক চেষ্টা অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে দেশব্যাপী জঙ্গী তৎপরতা ও সন্ত্রাস অনেকাংশে কমে এলেও বাস্তব ঘটনা হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার কারণে সন্ত্রাসী-জঙ্গীরা আপাতত ঘাপটি মেরে বসে আছে এবং বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলাভাইয়ের উত্থান থেকে হোসেনী দালান পর্যন্ত ঘটনা পর্যবেক্ষণ করলে তাই মনে হয়।

একটা দেশে ৯২ দিনব্যাপী গ্রেনেড ও পেট্রোলবোমা মেরে নিরীহ মানুষ হত্যা, গাড়ি পোড়ানো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য খুন এবং হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংসের পরও ওই নৃশংস ঘটনার হুকুমের আসামিদের কিন্তু বিচার হয়নি। তাই গ্রেনেড-পেট্রোলবোমার আন্দোলনকারীরা ওই ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার তাগিদ বোধ করেনি। সর্বশেষ দুই বিদেশী নাগরিকসহ পুলিশ হত্যা এবং হোসেনী দালানে তাজিয়া মিছিল শুরুর পূর্বে গ্রেনেড হামলার ঘটনা তাই প্রমাণ করে।

দেড় হাজার নিরাপত্তা বাহিনী এবং বত্রিশটি সিসি ক্যামেরা সংবলিত নিরাপত্তার ঘেরাটোপে পাঁচটি গ্রেনেড নিক্ষিপ্ত হয় কেমন করে? নিশ্চয়ই নিরাপত্তায় ফাঁক ছিল অথবা সর্ষের মধ্যেই ভূত আছে। দেশে জঙ্গী আছে কি নেই এ বিষয়ে বিস্তর বিতর্ক চলছে। আইএসের অস্তিত্ব নিয়েও বিবৃতি-পাল্টা বিবৃতি চলছে। কিন্তু নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থেকেও জঙ্গীরা বার বার প্রমাণ করার চেষ্টা করছে ওরা আছে। আর পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে ইচ্ছুক রাজনৈতিক দলগুলো ওদের সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে আসছে। তাই এটা এখন আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ওরা কখনও বদলাবে। ওদের সমূলে নির্মূলই এখন একমাত্র উপায়।

বিষয়টা খুব সহজভাবে নেয়ার কোন উপায় নেই। কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী এই জঙ্গী-সন্ত্রাসীরা নানা দেশীয় ও বহির্শক্তি দ্বারা যেমন সমর্থিত তেমনি ইতোমধ্যে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ঘরানার সঙ্গে মিশে গিয়ে নিজেদের অবস্থান অনেকটাই সংহত করে নিয়েছে। এই তথ্যটা আমাদের জন্য খুবই উদ্বেগজনক যে, জঙ্গী-সন্ত্রাসী ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পনেরো হাজার জামায়াত-শিবির কর্মীর ৯০ শতাংশ ইতোমধ্যে জামিনে বেরিয়ে গেছে। আর তাদের সহযোগিতা করেছে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের একটি অংশ এবং পুলিশের দুর্বল তদন্ত প্রতিবেদন। এই চেষ্টা জঙ্গীরা অব্যাহত রাখবেই। তাই দেশব্যাপী সামগ্রিক শুদ্ধি অভিযান পরিচালনার এখন কোন বিকল্প নেই। আর এই অভিযানে সরকারের সঙ্গে জনগণ সম্পৃক্ত না হলে এই অভিযান সফল হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।

লেখক : চেয়ারম্যান, মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি

abulayad1961@gmail.com