১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অটোরিক্সা নয় অটো

গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনা যাচ্ছে না। সভা-সেমিনার, আলাপ-আলোচনাসহ কত কত সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বিশৃঙ্খলা আর পরিহার হয় না। এমনিতেই দেশের পরিবহন খাত দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মনীতির বাইরে অবস্থান করছে। তাদের কোন আইনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা শুরু হলেই জিম্মি করা হয় যাত্রীদের, আদায় করা হয় অসহনীয় ভাড়া। এটা সব ধরনের যানবাহনের ক্ষেত্রেই চলে আসছে। তাই দেখা যাচ্ছে, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা আগের মতোই স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন করে ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। কিন্তু এই ভাড়া মানছে না অনেক অটোরিক্সা চালক ও যাত্রীরা। অধিকাংশ যানই চলছে না মিটারে। আবার ক্ষেত্রবিশেষে কিছু কিছু অটোরিক্সা চালক মিটারে চললেও অতিরিক্ত ১০ থেকে ২০ টাকা দাবি করছে। সে কারণে মিটারে না চলে চুক্তিতে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। তবে ভাড়া ও ওয়েটিং চার্জ বাড়ানোর কারণে যাত্রীরাই মিটারে যেতে রাজি হয় না। যানজটে পড়লে তাই তারা নেমে পড়ছেন। তাই মিটারের চেয়ে চুক্তিতে যেতে পছন্দ যাত্রীদের। পাশাপাশি নতুন ভাড়ায় কম দূরত্বে মিটারে যেতে আগ্রহী নয় অটোরিক্সা চালকরা। তাই নতুন ভাড়া কার্যকর হলেও চালকরা ভাড়া নিয়ে আগের মতোই স্বেচ্ছাচারিতা করে বলে যাত্রীদের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এলাকা পছন্দ হলে তারা মিটারে যেতে রাজি হন। না হলে তারা মিটারে যেতে চায় না। আবার মিটারে যেতে বললে চালকরা রাজি হয় না যাত্রী বহনে। গত ১ সেপ্টেম্বর রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাসের (সিএনজি) প্রতি ঘনমিটারে দাম ৫ টাকা বাড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর সিএনজি চালিত যানবাহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

গত ১ নবেম্বর থেকে অটোরিক্সার বর্ধিত ভাড়া কার্যকর শুরু হয়। মন্ত্রণালয় নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত তথা মিটারে গেলেও বকশিশের নামে বাড়তি টাকা আদায় অথবা চুক্তিতে যাওয়া কিংবা যাত্রীর ইচ্ছানুযায়ী গন্তব্যে যেতে রাজি না হলে লাইসেন্স বাতিলসহ ওই চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার বিধান করা হয়েছে। কিন্তু তা কার্যকর করার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের যে নেই তা ক’দিন আগেও দেখা গেছে বাস মিনিবাসের ক্ষেত্রে। চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে শুরু হয় পরিবহন ধর্মঘট, সঙ্গে থাকে নৈরাজ্য। অটোচালকরা দায়ী করছে মালিকরা দৈনিক জমার হার দ্বিগুণ করেছে ক্ষেত্রবিশেষে। এই জমার টাকা ওঠানোর জন্যই মিটার ছাড়া চলা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মতো পরিস্থিতির দিকে চালকদের ঠেলে দিয়েছে।

মালিক-চালক-যাত্রীর মধ্যে যে ত্রিভুজ সংঘাত বিদ্যমান ভাড়ার ক্ষেত্রে তা নিরসনের দায়িত্বটা মন্ত্রণালয়ের হলেও তারা কোন কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারছে না। হয় মন্ত্রণালয় তাদের কাছে জিম্মি নতুবা তাদেরই স্বার্থের রক্ষককে পরিণত হয়েছে। এমনিতেই রাজধানীতে ট্যাক্সিক্যাব বলে কিছু নেই অথচ ট্যাক্সিক্যাব ছাড়া নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের দেশের রাজধানী শহর অচিন্তনীয় একুশ শতকে। মন্ত্রণালয় উড়াল পুল, মেট্রোরেল নামক বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প নিচ্ছে। কিন্তু রাজধানীবাসীর চলাচলের পরিবহন ব্যবস্থাকে গণমুখী করতে পারছে না। অসহনীয় যানজট আর মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের আধিক্য অসহনীয় করে তুলছে জনজীবন। পরিবহন ব্যবস্থাকে একটি কর্তৃপক্ষের আওতায় এনে নৈরাজ্য দূরীকরণসহ শৃঙ্খলার সঙ্গে গণপরিবহন পরিচালনার পদক্ষেপ নেয়া জরুরী।