২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চীনে ‘নাপা ভ্যালি’ গড়ার উচ্চাভিলাষ

  • শিল্পোদ্যোক্তা এমা গাওয়ের স্বপ্ন

শরতের এক পড়ন্ত বিকেল। চীনের সিংহুয়া ইউনিভার্সিটির ফ্লোরেসেন্ট আলোকিত ক্লাসরুম। সমবেত ছাত্রছাত্রীরা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন তার বক্তৃতা। বক্তা হলেন এমা গাও। তার হাতে একটি গ্লাস। গ্লাসটি তিনি আলোর দিকে উঁচিয়ে ধরে প্রশ্ন রাখলেন এর মধ্যে কেউ ঘূর্ণায়মান তরল দেখতে পাচ্ছে কি না। সিংহুয়া চীনের এমআইটি হিসেবে পরিচিত। তবে এটি ফ্লুইড মেকানিক্সের ওপর কোন সেমিনার ছিল না। ছাত্রছাত্রীরা সবাই ছিল স্টুডেন্ট ওয়াইন ক্লাবের সদস্য। গাও একজন মদ উৎপাদনকারী। তাকে চীনের সেরা মদ প্রস্তুতকারক বিবেচনা করা হয়ে থাকে। মঙ্গোলিয়া সীমান্তের কাছে প্রত্যন্ত এলাকা নিংজিয়ায় পারিবারিক মদ তৈরির কারখানা রয়েছে। তিনি সিংহুয়া ইউনিভার্সিতে এসেছেন একজন অতিথি বক্তা হিসেবে। মদ তৈরির বিভিন্ন কলা কৌশল নিয়েই তিনি সেখানে আলোচনা করছিলেন। সঙ্গে এনেছিলেন কয়েক রকম মদ। ছাতছাত্রীরা এগুলোর গন্ধ শুঁকে চেখে দেখছিল।

আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়ার পর চীনের ব্যবসায়ী মহলে তারকাখ্যাতি অর্জন করেছেন গাও। পশ্চিমা মদ তৈরির কৌশল প্রচলনের ক্ষেত্রে গাওয়ের সিলভার হাইটস চীনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

পশ্চিমা ধাঁচের মদ তৈরি এবং একে জনপ্রিয় করে তুলতে তিনি এতটা সফলতা দেখিয়েছেন যে, এককালের কয়লা খনি এলাকা পরিচিত গোবি মরুভূমির নিকটবর্তী নিংজিয়াকে চীনের ‘নাপা ভ্যালি’ করার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত নাপা ভ্যালি মদ উৎপাদনের জন্য বিশ্বে প্রসিদ্ধ একটি শহর। সরকারী পর্যায়ে এখন নিংজিয়ায় আঙ্গুর খামার গড়ে তোলা এলাকাটিকে ওয়াইন টুরিজমের একটি কেন্দ্র হিসেবে তৈরি পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। নিংজিয়ার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব কর্মকর্তা হাওলিন হাই বলেন, ‘আমেরিকার নাপা ফ্রান্সের বোর্দে মদ তৈরির জন্য বিখ্যাত। এখন চীনের নিংজিয়ার কথাও যেন মানুষ বলে সেই উদ্যোগ আমরা নিয়েছি।’ নিংজিয়ার হেলান কিংজুর পারিবারিক আঙ্গুরের খামারে বসে গাও বলছিলেন, এই আঙ্গুর গাছগুলো তার বাবা ২০ বছর আগে লাগিয়েছিলেন। এই অঞ্চলে তিনিই (বাবা) প্রথম এ গাছগুলো লাগান। গাও ফ্রান্সের বোর্দেতে মদের ওপর চার বছর লেখাপড়া করে ১৯৯৯ সালে এখানে কারখানা চালু করেন। হেলান কিংজু ২০১১ সালে বিষয়ক আন্তর্জাতিক পুরস্কার ডেকান্টার পাওয়ার পরই এটি ব্যাপক পরিচিতি পায়। বর্তমানে এ কারখানায় চার ক্যাটাগরিতে বছরে ৬০ হাজার বোতল মদ উৎপাদিত। একটি বোতলের দাম ৭৫ ডলার। চীনা মদ বলতে এতকাল বাইজু নামে পরিচিত শস্য থেকে স্বচ্ছ এক ধরনের মদকেই বোঝাত। কিন্তু চীনের মধ্যবিত্ত সমাজে এখন পশ্চিমা ধাঁচের মদ জনপ্রিয় হচ্ছে। দেশটিতে মদ পানকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা আইএসডব্লিউআর জানিয়েছে, গত বছর (২০১৪ সালে) দেড়শ’ কোটি বোতল মদ বিক্রি হয়েছে। ২০০৮ সালের তুলনায় এই পরিমাণ দ্বিগুণ।

রেড ওয়াইন সেবনের দিক থেকে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির পরই এখন চীনের অবস্থান। খাওয়ার পাশাপাশি চীনে মদ উৎপাদনও বেড়ে চলেছে। চীন ভবিষ্যত উন্নত মানের মদ তৈরি করবে, দেশটিতে মদ উৎপাদনের ভবিষ্যত সম্ভাবনাময়, ব্রিটিশ মদ ব্যবসায়ী স্টেভেন স্পারিয়েরও তাই মনে করেন। তিনি বলছেন, চীনের অর্থ আছে, উচ্চাভিলাষও আছে। -ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস