২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজধানীর ৩শ’ বস্তিতে ডিসেম্বরের মধ্যেই বৈধ পানি সংযোগ

  • সুবিধা পাবে ৬৩ হাজার ৬১৮ পরিবার

ফিরোজ মান্না ॥ রাজধানীর ৩শ’ বস্তিতে পানির বৈধ সংযোগ দেয়ার কাজ ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে। সম্প্রতি মহাখালী সাততলা বস্তিতে ৩০৪ পানির বৈধ সংযোগ দিয়েছে ঢাকা ওয়াসা। বছরের শুরুর দিকে কড়াইল বস্তিতে ৪৫৬ বৈধ পানি সংযোগের মাধ্যমে ১৫ হাজার ৬৪০ পরিবারকে সেবার আওতায় আনা হয়েছে। বস্তিবাসীদের পানির বৈধ সংযোগ ও স্যুয়ারেজ সেবার আওতায় আনতে ওয়াসার হাতে নেয়া প্রকল্পের মাধ্যমে ৩শ’ বস্তিতে ৯৭৭ সংযোগ দেয়া হবে। ইতোমধ্যে ৭৬০ বৈধ সংযোগ দেয়া হয়েছে। বাকি ২১৭ বৈধ সংযোগ দেয়ার কাজ শেষ হবে ডিসেম্বরেই। বৈধ সংযোগ পেলে সুবিধাভোগী হবে ৬৩ হাজার ৬১৮ পরিবার। পানি সংযোগের কাজ শেষ হওয়ার পরই স্যুয়ারেজ লাইন স্থাপনের কাজ শুরু করবে ওয়াসা।

সূত্র জানিয়েছে, ইউনিসেফের সহযোগিতায় ঢাকা ওয়াসা বস্তিতে পানির সংযোগ দেয়ার প্রকল্প হাতে নেয়। বাংলাদেশে ইউনিসেফের ওয়াটার, স্যানিটেশন ও হাইজিন বিভাগ বস্তিতে পানি সরবরাহের জন্য ওয়াসার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রাজধানীর সব বস্তি বৈধ পানি সেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে গৃহীত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মহাখালী সাততলা বস্তিতে পানির বৈধ সংযোগ দেয়া হয়েছে। এর আগে কড়াইল বস্তিতে বৈধ সংযোগ দেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের সঙ্গে কয়েকটি বেসরকারী সংস্থাও কাজ করছে। ঢাকা ওয়াসা গত বছর এনজিও ফোরাম, দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে), নগর সেবা, এনডিবাস এবং বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল এ্যাডভান্সমেন্ট (বিএএসএ)-এর সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। এই চুক্তির আওতায় ঢাকা ওয়াসা ইউনিসেফের আর্থিক সহযোগিতায় মহাখালীর সাততলা বস্তিতে প্রায় ৭ হাজার পরিবারকে পানির বৈধ সংযোগের আওতায় এনেছে। কড়াইল বস্তিতে ১৫ হাজারের বেশি পরিবার ওয়াসার সেবা পাচ্ছে। বর্তমানে প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেন, ঢাকা ওয়াসা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে রাজধানীর সব বস্তিতে পানির বৈধ সংযোগ দেয়ার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ। লক্ষ্যমাত্রাটি সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে। ঢাকা ওয়াসা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বর্তমানে চাহিদার চেয়েও উদ্বৃত্ত পানি উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। এটি হচ্ছে ঢাকা ওয়াসার ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এছাড়া ‘ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা’ কর্মসূচীর মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসা বর্তমানে একটি পরিবেশবান্ধব, টেকসই এবং গণমুখী পানি ব্যবস্থাপনার দিকে এগুচ্ছে।

ওয়াসা সূত্র জানিযেছে, রাজধানীর সব বস্তিতে পানির বৈধ সংযোগের মাধ্যমে সরকারের রাজস্বও বাড়বে। দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বস্তিবাসীর জন্য পানি ও স্যুয়ারেজ সেবা দেয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বস্তিতে পানির বৈধ সংযোগ ও স্যুয়ারেজ লাইন স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়েছে। কড়াইল বস্তিতে স্যুয়ারেজ লাইন স্থাপনের জন্য অল্পদিনের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে। সুয়্যারেজ লাইন স্থাপন হলে বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নত হবে। রোগ বালাইও কম হবে।

ঢাকা ওয়াসার এমডি বলেন, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে পানি সরবরাহ বৈধ সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য তিনি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহসহ স্থানীয় এনজিওকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। বস্তিবাসীদের জন্য ঢাকা ওয়াসা যে উপায়ে কাজ করে যাচ্ছে তা তৃতীয় বিশ্বের জন্য একটি ‘রোল মডেল’ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, ঢাকা শহরে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ‘ওয়াটার সাপ্লাই সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’র আওতায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার পানির লাইন স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থ সহযোগিতায় সাড়ে ১৪ শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে চার বছরের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। ৮১ ডিস্ট্রিক্ট এরিয়া মিটার (ডিএএম) এবং ১৪ ওভারহেড ট্যাঙ্ক নির্মাণ করা হবে। এতে পানির চাপ সব এলাকায় সমান থাকবে। নতুন পাইপ লাইনের আওতায় ওয়াসা চলে এলে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে। পানির সিস্টেম লস ও চুরি বন্ধ হবে।

ঢাকা শহরকে ১শ’ ভাগ স্যুয়ারেজ কাভারেজের আওতায় আনার জন্য ওয়াসা ঢাকা শহরের জন্য একটি স্যুয়ারেজ মাস্টার প্ল্যানও তৈরি করেছে। প্রস্তাবিত এই প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০৩৫ সাল। এই সময়ের মধ্যে মাস্টার প্ল্যানটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন হলে ঢাকা মহানগরী আধুনিক নগরীতে পরিণত হবে। বর্তমানে নগরীর মাত্র ৩০ ভাগ এলাকা স্যুয়ারেজ কাভারেজে রয়েছে। মাস্টার প্ল্যানের আওতায় ঢাকা ওয়াসা সার্ভিস এরিয়া প্রায় ৪শ’ বর্গ কিলোমিটারসহ রাজউকের ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানের (ডিএমডিপি) মোট এক হাজার ৪২৪ বর্গ কিমি এলাকাকে স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা শহরকে বিভিন্ন ক্যাচমেন্টে ভাগ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। মাস্টার প্ল্যানে প্রথম পর্যায়ে পাগলা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্টের আধুনিকায়ন করে এর শোধন ক্ষমতা ১ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ২ লাখ ঘনমিটারে উন্নীত করা হবে। ২য় পর্যায়ে ২০২৫ সালের মধ্যে দাশেরকান্দি, উত্তরা, মিরপুর, রায়েরবাজার এবং নারায়ণগঞ্জ পূর্ব ও নারায়ণগঞ্জ পশ্চিমে আলাদা আলাদা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট করা হবে। আর তৃতীয় পর্যায়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে সাভার, টঙ্গী, কেরানীগঞ্জ, পূর্বাচল ও গাজীপুরে আলাদা আলাদা স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হবে।